banglanewspaper

মো. মোজাম্মেল ভূঁইয়া, আখাউড়া: নবীনগর মেঘনা নদীতে আখাউড়া চিরসবুজ সংঘের আনন্দ ভ্রমন ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবারের নদী ভ্রমন আনন্দটা একটু ভিন্ন রকম ছিল।

সবাই মিলে গল্পগুজোব, একে অপরের ছবি তোলা, মেঘনায় সাতার কাটা, সাথে গান বাজনায় আনন্দে মেতে উঠে মানুষ। পরে আনন্দ ভ্রমনের প্রধান আকর্ষণ র‌্যাফেল ড্র হয়। শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে সববয়সী লোকের আগমনে একসময় পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়। আখাউড়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিক সমাজসহ প্রায় ২০০ মানুষ এই আনন্দ ভ্রমনে অংশগ্রহন করেছে।

সকালে আখাউড়া তিতাসনদীর বনগজ এলাকা থেকে লঞ্চে করে নদী পথে নবীনগর উপজেলা ও মেঘনা নদীর আব্দুল্লার চর ভ্রমণ করা হয়।

এই আনন্দ ভ্রমনের শুরুতে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলার জনপ্রিয় চিরসবুজ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে শবনম মোস্তারী মৌসুমী, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম ভুইয়া, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মমিন বাবুল, আখাউড়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক নুরুন্নবী ভুইয়া, চিরসবুজ সংঘের আহবায়ক ও সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল বাবু, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম, জালাল হোসেন মামুন, সমীর চক্রবর্তী, মোঃ মোজাম্মেল ভূইয়াসহ আখাউড়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ও চিরসবুজ সংঘের সদস্যরা।

লঞ্চ নবীনগর ঘাটে পৌছলে এই আনন্দ ভ্রমনে যোগদান করেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম, সহকারী কমিশনার ভূমি জেপি দেওয়াসহ কয়েকজন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

পরে মেঘনার তীরে আব্দুল্লাহপুর নির্জন চরে দেশীয় ভোজের আয়োজন করা হয়। ভ্রমন আনন্দের লঞ্চ আব্দুল্লাহপুর পৌছার পর নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ নবীনগরের লোকজন ফুল দিয়ে সকলকে বরণ করে নেন।

এদিকে আনন্দ ভ্রমনের শুরুতেই চিরসবুজের সংঘের নিজস্ব প্রাচীন পানীয় এক গ্লাস মাঠা পরিবেশন করা হয়। পরে চিরা মাঠা কলার মিশ্রনে সকালের নাস্তা দেয়া হয়। রঙ চা আর ফলের সালাদ ছিল সার্বক্ষনিক। শুধু তাই নয় এই আনন্দ ভ্রমনে ছিল উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষকদের মন মাতানো গানের আয়োজন।

আইনজীবী উম্মে শবনম মোস্তারী মৌসুমী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুজ্জামানসহ চিরসবুজের সদস্যরা দেশীয় ভাষা প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করে, কৌতুকে অংশগ্রহন করে। এ ছাড়াও আনন্দ ভ্রমনে চিরসবুজের সদস্যদের নাচ, কৌতুক, অভিনয়সহ বিভিন্ন আনন্দ দায়ক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুপুর পর্যন্ত মেঘনা বক্ষে চলে ব্যাপক আনন্দ আড্ডা। পরে দুপুরে আব্দুল্লাপুর চরে লঞ্চ নোঙর করার পর চলে সাতার প্রতিযোগীতা।

এখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী মৌসুমীসহ চিরসবুজ সংঘের সদস্যরা সাতার, ফুটবল খেলায় মেতে উঠে। সীমাহীন আনন্দের মধ্যে প্রীতিভোজ হয়।

এই ভ্রমন আনন্দের প্রধান আকর্ষণ ছিল র‌্যাফেল ড্র। যার মধ্যে শান্তনা পুরস্কার, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় পুরস্কারসহ মোট ১৩টি পুরস্কার ছিল। আব্দুল্লাহপুর চরে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানেও কম আনন্দ হয়নি। সিনিয়র সাংবাদিক দুলাল ঘোষের পরিচালনায় আখাউড়া ও নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ চিরসবুজ সংঘের আহবায়ক বিশ্বজিৎ পাল বাবু, চিরসবুজ সংঘের পরিচালক রাজু আনন্দ ভ্রমন নিজেদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।

পরে সবচেয়ে ওজনদার ব্যক্তি আবুল কাশেম সরকার ও স্বন্দীপ ঘোষ চিরসবুজের বেয়াম পরিবেশন করে। পরে সন্ধ্যা ৬টায় আখাউড়া উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় আনন্দ ভ্রমনের লঞ্চ। সব মিলিয়ে একটি সফল আনন্দ ভ্রমনের জন্য অনেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানান।

ট্যাগ: Banglanewspaper আখাউড়া