banglanewspaper

মো: আবু সাঈদ, পত্মীতলা (নওগাঁ): নওগাঁর পত্মীতলায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে উপকারভোগীর তালিকা প্রণনয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

নীতিমালা উপেক্ষা করে চাকুরীজীবি, রাজনৈতিক নেতা, সম্পদশালী ব্যক্তি ও কোটিপতিদের অর্থের বিনিময়ে উপকারভোগীদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে ভূয়া নামে ও একাধিক ব্যক্তির নাম দিয়ে চাল উত্তোলন করার অভিযোগ রয়েছে।

এতে করে প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবার ১০ টাকা কেজি দরে চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ২০১৬সাল হতে সারাদেশের ন্যায় প্রতি বৎসর মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই ৫ মাসে প্রকৃত হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল বিতরণ শুরু হয়। তার ধারাবাহিকতায় পত্মীতলা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে উপকারভোগীর নামের তালিকা তৈরী করা হয় এবং একই বছর মার্চ মাসে ১০ হাজার ৫২৩ জন হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল প্রদান করা হয়। চলতি মাসের শুরুতেই আবার এ চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত হতদরিদ্র ব্যক্তির নাম তালিকায় লিপিবদ্ধ করার কথা থাকলেও হয়েছে উল্টো। শনিবার উপজেলার আমাইড়, ঘোষনগর, পত্মীতলায়, মাটিন্দর, শিহাড়া ও দিবর ইউনিয়নের তালিকা যাছাই করে দেখা যায়, নিয়ম বহির্ভূতভাবে তালিকায় সরকারী চাকুরীজীবি, জনপ্রতিনিধি, সম্পদশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, কোটিপতি ও একই ব্যক্তি একাধিক নাম ও ভূয়া নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার আমাইড় ইউনিয়নের ১ হাজার ৩০ জন হতদরিদ্রদের তালিকার নাম ধরে ধরে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা যায়, উপজেলার আমাইড় ইউনিয়নের চক আমাইড় গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আরিফ হোসেন ১৫ বিঘা জমির মালিক তিনি আমাইড় ইউপি যুবলীগের আহ্বায়ক (তালিকা নং-১৯), নোদবাটী গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে ও আমাইড় ইউপি চেয়ারম্যানের জামাই আজাদুল হক (তালিকা নং-৪১৪) তার চাষাবাদের নিজস্ব জমি রয়েছে ২৫ বিঘার বেশী এবং আমাইড় ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই ইছার উদ্দীন (তালিকা নং-৮৯৯) তার জমির পরিমাণ ১৫ বিঘা প্রায়।

কুন্দন গ্রামের মৃত নছির উদ্দীনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (তালিকা নং- ৭৬৯) তার জমির পরিমাণ ৩০ বিঘার অধিক। সিধাতৈল গ্রামের রবিন্দ্রনাথ ছেলে রিটন কুমার (তালিকা নং- ৮৮২), তার জমির পরিমাণ ২৫ বিঘা প্রায়। আমাইড় দিঘীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রমজান আলী (তালিকা নং-৮৮) তিনিও তালিকায় আছেন। আমাইড় গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (তালিকা নং-৯৮৬) পেশায় সরকারী চাকুরীজীবি।

চকভবানী গ্রামের শহিদুল ইসলামে স্ত্রী মরিয়ম বানু (তালিকা নং-৭৩৪) তিনি নোদবাটী মাদ্রাসায় চাকুরী করেন, একই ব্যক্তি (তালিকা নং-৭৩৫)। আবার স্বামী-স্ত্রী দুজনেই পায় মোয়াল্লিম পাড়ার অছির উদ্দীনের ছেলে, মোরশেদুল ইসলাম এর (তালিকা নং-১৫২) ও তার স্ত্রী জোৎসা বানু (তালিকা নং-১৫৫) নাম তালিকায় রয়েছে।

নান্দাশ গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে জাকির হোসেন (তালিকা নং-২৬৬) এবং তিনিই জহুরুল ইসলাম নাম ধারণ করে (তালিকা নং- ২৬৯) দুই নামে চাল উত্তোলন করেন। এছাড়া তালিকায় রয়েছে একাধিক ভূয়া ব্যক্তির নাম। হরিপুর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে ফরিদুল (তালিকা নং-২০৯), একই গ্রামের আজিজ উদ্দীন ছেলে উজ্জল (তালিকা নং-২২৬), আব্দুল গফুরের ছেলে হামিদুর (তালিকা নং-২৩৭) ছবের আলীর ছেলে আদির উদ্দীন (তালিকা নং-২৩৮), চকভবানী গ্রামের কমর উদ্দীনের ছেলে মকবুল হোসেন (তালিকা নং-২২৮)।

এছাড়া ছমির উদ্দীনের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (তালিকা নং- ৩৩১), নোদবাটি গ্রামের মতিয়ারের ছেলে আতোয়ার (তালিকা নং-৩২১), আজাদুলের স্ত্রী ফরিদা (তালিকা নং-৩৯৭), বসকৈল গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে হামিদুল ইসলাম (তালিকা নং-৫১৭), চক আমাইড় গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে সোহেল রানা (তালিকা নং-৫), একই গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দীনের ছেলে আজিজার রহমান (তালিকা নং-২০১) সহ ৩ শতাধিক ভূয়া ব্যক্তির নাম তালিকায় রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নামে বেনামে ব্যক্তির চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

আমাইড় ইউনিয়নের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, ‘ইউপি চেয়ারম্যান টাকার বিনিময়ে সম্পদশালী ব্যক্তি ও কোটিপতির নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন। তাদের দাবী তালিকায় প্রায় ৪শ ব্যক্তির ভূয়া নাম রয়েছে এবং উক্ত তালিকায় যাদের নাম রয়েছে বেশীর ভাগ মানুষই স্বাবলম্বী।’

আমাইড় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, ‘রাজনীতি করতে গেলে কিছু দিতে হবে। তারা আমার ভোট করেছে তাই দিয়েছি।’

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরমান আলী বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ট্যাগ: Banglanewspaper পত্মীতলা কোটিপতিরা