banglanewspaper

জামালপুরের ইসলামপুরের উলিয়ায় বন্যার পানির প্রবল তোড়ে যমুনার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বন্যা নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী বাঁধের প্রায় ১০ মিটার ধসে গেছে।রবিবার সকাল থেকে বাঁধের সিসি ব্লক ধসে পড়তে শুরু করে। এর ফলে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা বাঁধের ধসে যাওয়া অংশে বালির বস্তা ডাম্পিং শুরু করেছেন। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন জামালপুর পানি উন্নয়নের বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী।  

জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড যমুনার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ৪৫৫ কোটি টাকার ব্যয়ে জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ফুটানি বাজার থেকে ইসলামপুর উপজেলা হয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়ন পর্যন্ত স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে। সিসি ব্লকের এই বাঁধের নির্মাণ কাজ গত বছর শেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই বাঁধের ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়াঘাট এলাকায় রবিবার ভোর থেকে সিসি ব্লকে ধস নামে। যমুনা নদীর পানির প্রবল স্রোতে বাঁধের প্রায় ১০ মিটার স্থান জুড়ে সিসি ব্লক নদীগর্ভে দেবে যায়।

উলিয়া পাইলিং ঘাট ও বাজার এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বাঁধের কাজ নিন্মমানের হওয়ায় এবং শুষ্ক মৌসুমে বাঁধের কাছে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিনের পর দিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে।

তারা আরো জানান, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধ না করা হলে স্থানীয় উলিয়া বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার জনবসতি যমুনার ভাঙ্গনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রায় দেড় মাস আগে একই বাঁধের পাথর্শী ইউনিয়নের মরাডুবি ঘাট এলাকার ৩টি স্থানে কমপক্ষে ২৫ মিটার বাঁধের সিসি ব্লক যমুনা নদীতে ধসে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধের ওই অংশে জিও ব্যাগ ড্রাম্পিং করে সাময়িক ভাবে বাঁধের ধ্বস রোধ করে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধে ধসের খবর পেয়ে ইসলামপুর উপজেলা প্রশাসন ও জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পদির্শন করেছেন। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি টিম রোববার সন্ধ্যা থেকে বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধে বালিভর্তি জিওব্যাগ ফেলতে শুরু করেছে।

এ প্রসঙ্গে জামালপুর পানি উন্নয়নের বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী বলেন, ‘উলিয়া বাজারের পেছনে বাঁধ রক্ষায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। আশা করা যায় ভাঙন রোধ হবে। এ নিয়ে স্থানীয়দের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

ট্যাগ: Banglanewspaper জামালপুর