banglanewspaper

আজব প্রজাতির কিছু পার্বত্য ছাগল আছে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ওয়াশিংটনের অলিম্পিক জাতীয় উদ্যানে। বিশেষ প্রজাতির ছাগলগুলো রীতিমতো অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে মানুষের ঘাম আর প্রস্রাব খেতে। শুধু তাই নয়, গত শতকের শুরুর দিকে ওই অঞ্চলের বাইরে থেকে নিয়ে যাওয়া ছাগলগুলো এর ভেতরে হুমকি হয়ে উঠেছে স্থানীয় গাছপালা ও প্রকৃতির জন্যও।

শেষমেশ কী আর করা! দলবেঁধে শত শত ছাগলকে নির্বাসিত করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সে নির্বাসন প্রক্রিয়া আবার আরেক কাঠি সরেস! প্রথমে ছাগলগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেওয়া হচ্ছে চেতনানাশক, যাতে নড়াচড়া করতে না পারে। এর পর বেঁধে ফেলা হচ্ছে চোখ, যাতে কিছুই দেখতে না পারে। আর তারপর হেলিকপ্টারে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দলে দলে উড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষের বসতি থেকে দূরের পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা আরেক উদ্যানে।

বিবিসিতে প্রকাশিত এক ভিডিও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওয়াশিংটনের ‘অলিম্পিক ন্যাশনাল পার্ক’ থেকে ছাগলগুলোকে স্থানান্তর করা হচ্ছে মানুষের বসতি থেকে ৭৫ মাইল দূরের নর্থ কাসকেড নামক পর্বত আর গভীর জঙ্গলে ছাওয়া উদ্যানে। অবশ্য পরেও যাতে নজরদারি করা যায়, সে উদ্দেশ্যে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার আগে প্রতিটি ছাগলের গলায় ‘ট্র্যাকিং ডিভাইস’ (শনাক্তকরণ যন্ত্র) বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত জীববিজ্ঞানী পেটি হেপ বলেন, ‘এই ছাগলগুলো মূলত এ অঞ্চলের নয়। আমাদের উদ্যানটি চালু করারও আগে গত শতকের বিশের দশকে এগুলোকে এখানে আনা হয়। এর মাঝেই ওরা শিখে গেছে যে মানুষকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মানুষের সঙ্গে সেই নৈকট্য ও ভয়হীনতা থেকেই একসময় এরা বুঝে যায় যে মানুষের আশপাশে থাকলে মানুষ তাদের লবণের চাহিদা পূরণ করতে পারে।’

ট্যাগ: bdnewshour24 হেলিকপ্টার