banglanewspaper

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরায় দক্ষিনাঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী পান্নার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় এক মুক্তিযোদ্ধার ছেলে ও পুত্রবধুকে কুপিয়ে যখম করেছে সন্ত্রাসীরা।

এ সময় তারা বেশ কয়েকটি বাড়িও ভাংচুর করে। গুরুতর গুরুত্বর আহত অবস্থায় দুজন কে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাগুরা সংকোচ খালী গ্রামে গত সোমবার আধিপত্য বিস্তারে শীর্ষ সন্ত্রাসী পান্নার নেতৃত্বে হামলার ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িসহ অন্তত ২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, এ সময় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলেসহ দুজন কে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

হামলায় তার হাতের অঙ্গুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সে মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল কোর্টে মামলা দায়ের করাই ক্ষিপ্ত হয়ে পান্নার লোকেরা পুনরায় এ হামলার ঘটনা ঘটায় বলে জানান ভুক্তভুগি পরিবার।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ১১ সেপ্টেমবর পান্নার হামলায় বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাটসহ কুপিয়ে ছোট ছেলে বাচ্চুর হাতের আঙ্গুল কেটে বিছিন্ন করার ঘটনায় হত্যা, অপহরন ,ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১০টি মামলার আসামী শীর্ষ সন্ত্রাসী পান্নার বিরুদ্ধে গতকাল মাগুরা জজ কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার বিকেলে পান্নার সঙ্গীরা আবারও তার বাড়িতে এসে বড় ছেলে ফারুক হোসেনের উপর হামলা চালায়, এ সময় তার পুত্রবধু পারভীন বেগম তাকে ঠেকাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তারা। ঘটনার সময় ঘরে লুকিয়ে থেকে কোনমতে রক্ষা পান তিনি। পরে প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় তাদের দুজন কে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাদের দুজনেরই মাথায় কোপের গুরুতর আঘাত রয়েছে। এ অবস্থায় চরম নিরাপত্তা হিনতার মাঝে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন ৭১ সালে যে রাজাকাররা তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল, সেই তাদের উত্তরসূরি আফসার, পান্না মোল্লারা আজ স্বাধীনতার পরে আবার আমার উপর সেই জুলুম নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে, স্বাধীন বাংলাদেশে বাস করেও আজ বিচার পাচ্ছি না বলে কান্নায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।

ঘটনার শিকার ফারুক হোসেন জানান, সেদিনের ঘটনায় ছোট ছেলের হাত পঙ্গু করে বাড়িঘর ভেঙ্গে দেয়ার মামলা দায়ের করার কারনে কয়দিন বাদে আজ বাড়ি ফিরতেই  আমিসহ আমার স্ত্রী আবারও পান্নাদের হামলার শিকার হলাম।

তিনি আরও বলেন পান্না মোল্লা রাজাকারের বংশধর জামাত শিবিরের সরাসরি নাসকতা মামলার আসামি আপসার, কাউসারদের নিয়ে বিশাল বাহিনি গড়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, আমরা আজ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও এদের জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো আবারও হামলার শিকার হচ্ছি।

এ  বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটির উপর আবারও হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আগের দিনের ঘটনায় আর কোন অপ্রতিকর সহিংসতার ঘটনা যাতে না ঘটে সে লক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিপক্ষ পান্না, লিয়াকত, কাসেম, মিলন, রাজিব চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় প্রায় ২ হাজার গ্রাম বাসিদের নিয়ে শান্তি সভার মধ্যমে আর কোন  বিরধে না জড়ানোর অঙ্গিকার করে শপথ করানো হয়।

এর মাত্র কদিন পর তা উপেক্ষা করে এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন অইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানালেন তিনি। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগ: Banglanewspaper সন্ত্রাসী মাগুরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার