banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: একই শ্রেণিতে অধ্যয়নরত দুজনের মধ্যে প্রণয়, অতঃপর গোপনে বিয়ে। পরে অভিভাবকদের হস্তক্ষেপে দুজনকেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের।

ঘটনার দশ মাস পর তারা আবার পালাতে চাইলে গভীর রাতে আটক হয় মেয়ের পরিবারের লোকজনের কাছে। এরপর থেকেই ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ছেলের বাবা। এ যেন বাংলা ছবির গল্প। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি ঘটে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর গ্রামে।

মায়ের দেয়া বক্তব্য ও থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গাজীপুর গ্রামের কাউসার সরকার লিটনের ছেলে নাদিম হোসেন সরকার রাজু(১৮) গাজীপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তো। একই স্কুলের এক ছাত্রীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে গত বছর ২৭ নভেম্বর তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। বিষয়টি দুই পরিবারের লোকজন জেনে গেলে তাদেরকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়।

এরপর থেকে তার দুজন আলাদা থাকছেন। কিন্তু গত ১৫ সেপ্টেম্বর তাদের মধ্যে আবারও যোগাযোগ হয় ও ওই রাতেই তারা আবার পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। তবে সে রাতে তারা মেয়ের পরিবারের কাছে ধরা পড়ে যায়। এ সময় মেয়েকে তারা বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ছেলেকে বেদম প্রহার করে।

মারধরের বিষয়টি রাজুর বন্ধু তানভীর ও হৃদয়ের কাছ থেকে ছেলের পরিবার জানতে পারে। এর পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে তারা খোঁজে পাননি বলে জানায়। মেয়ের পরিবারের কাছে ছেলের খোঁজ চাইলে তারাও ছেলের বিষেয় কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত দুলাল মিয়া বলেন, লোকজনের কাছে খবর পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে আমি ঘটনাস্থলে হাজির হই। আমাকে দেখে রাজু দৌড়ে পালিয়ে যায়। তখন আমি আমার মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসি। এখন রাজুকে তারা লুকিয়ে রেখে আমাকে দোষারূপ করতে চাইছে। এর আগে একবার রাজ আমার মেয়েকে স্কুল থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। সে বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে উত্তক্ত করতো। এ বিষয়ে থাকায় অভিযোগও দেওয়া আছে।

গাজীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, পালিয়ে বিয়ে করা নিয়ে ছেলে ও মেয়ের বাবাদের মধ্যে পূর্বে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেড়ে কিছু ঘটেছে কি না তাও আমরা তদন্ত করছি। দুই পরিবারে সাথেই আমরা এ বিষয়ে কথা বলছি; তদন্ত চলছে।

ট্যাগ: Banglanewspaper শ্রীপুর