banglanewspaper

স্থায়ীভাবে পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্র বন্ধের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে উত্তর কোরিয়া। এছাড়া কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই কোরিয়ার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর কোরীয় উপদ্বীপে ‘যুদ্ধ নয় শান্তির’ বার্তা দেয়া হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে দুই কোরীয় নেতা ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সিরিজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনদিনব্যাপী বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জা ইন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

বৈঠকের পর পিয়ংইয়ংয়ে সাংবাদিকদের মুন বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের লক্ষে সম্মত হয়েছে দুই কোরিয়া। কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সমস্ত হুমকির অপসারন করা হবে’। এসময় এটিকে দুই কোরিয়ার ‘নতুন ভবিষ্যত’ হিসেবে উল্লেখ করেন দু্ই কোরীয় নেতা।
তিন দিনের এই ধারাবাহিক বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সামরিক চুক্তি, দুই দেশের মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপন, পরিবারের পুনর্মিলন এবং স্বাস্থ্য খাতে দুই দেশের সহযোগীতার বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তি সইয়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে তংচ্যাং-রি মিসাইল ইঞ্জিন টেস্ট সাইট ও মিসাইল উৎক্ষেপণ স্থাপনা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে উত্তর কোরিয়া।

এসময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এইসব চুক্তিকে সামরিক শান্তি অর্জনের ক্ষেত্রে এটি ‘একধাপ অগ্রগতি’  উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি নিকট ভবিষ্যতে সিউল সফরে যাওয়ার ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি’।

এদিকে দুই কোরিয়া যৌথভাবে আগামী ২০৩২ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক আয়োজন ব্যাপারেও আলোচনা করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং উত্তর কোরিয়ার সেনাপ্রধানও চুক্তি সই করেছেন। চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নজিরবিহীন সিরিজ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারা।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অগ্রগতির অনেকটা নির্ভর করছে দুই কোরিয়ার এই বৈঠকে। কারণ এই বৈঠকের সার্থকতার পরই আবারো এক টেবিলে বসার সম্ভাবনা রয়েছে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

বহু প্রতিক্ষা এবং একে অপরের প্রতি হুমকি ধামকির পর গত জুন মাসে সিঙ্গাপুরে বৈঠকে বসেন মাকিন প্রেসিডেন্ট ও উত্তর কোরীয় নেতা। সেই বৈঠকে উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দেয়। এছাড়া কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয় উত্তর কোরিয়া।

বৈঠকের কিছুদিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ধ্বংস করে উত্তর কোরিয়া। তবে পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে উত্তর কোরিয়া কোনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ তোলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এরপর আবারো সম্পর্কে চিড় ধরে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার। একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলে। এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে আবারো সন্দেহ দেখা দেয়। 

এমন সময়ে দু্ই কোরিয়ার মধ্যে লিয়াজো দপ্তর খোলা হয়। সম্প্রতি দেশটির ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষীকিতে ক্ষেপনাস্ত্র প্রদর্শন ছাড়ায় সামরিক মহড়া শেষ করে উত্তর কোরিয়া। এ বিষয়গুলোর পর আবারো উত্তর কোরিয়ার প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এমন সময়ে তৃতীয়বারের মত বৈঠকে বসার জন্য পিয়ংইয়ং গেলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জা ইন। এই বৈঠক সফল হলে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 শান্তির ভবিষ্যত কোরিয়া