banglanewspaper

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে কিংবা কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির মান-অভিমান ভাঙানোর কোনও উদ্যোগ নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্যক্তি কিংবা দলের মান ভাঙানোর বিষয়টিকে নীতি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আইনের প্রশ্ন উল্লেখ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে কে মান-অভিমান করল, আর কার মান ভাঙাতে যাব, সেটা জানি না। সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে যদি অপমানিত হয়ে ফিরে আসতে হয়, সেখানে আর যাবার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষকে গ্রামপর্যায় পর্যন্ত উন্নয়নের ছোঁয়া দিতে পেরেছি। সেটাই সরকারের সবচেয়ে বড় পাওয়া।’

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। 

জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর কিংবা উস্কানিমূলক পোস্ট ও ভিডিও প্রচারকারীকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল গঠনসহ প্রয়োজনী কার্যক্রম নেয়া হচ্ছে।’ 

কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দল যাতে গুজব বা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে না পারে- সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন সামনে রেখে কারও মান ভাঙানোর বিষয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে মান-অভিমানের বিষয়টি কোথা থেকে এলো জানি না। কেউ যদি দুর্নীতি করে, এতিমের টাকা চুরি করে, মানুষ খুন করে, খুন করার চেষ্টা চালায়, গ্রেনেড মারে, বোমা মারে তার বিচার হবে- এটাই তো স্বাভাবিক। এখানে কে মান-অভিমান করলো, কার মান ভাঙাতে যাব- সেটা আমি জানি না।’

আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নতি হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশটা কারও একার নয়, আমাদের সকলের। আমরা রাজনীতি করি নিজেদের স্বার্থে নয়, নিজেদের লাভ-লোকসানের জন্য নয়। আমরা দেখি জনগণের কল্যাণ ও স্বার্থে।’ 

তিনি বলেন, ‘অতীতে অনেক সরকারই ক্ষমতা থাকলেও এত অল্প সময়ে দেশের এত উন্নয়ন কে করতে পেরেছে? কেউ পারেনি। কারণ তারা জনগণের স্বার্থের বদলে নিজেদের গোষ্ঠীস্বার্থ দেখেছে। তাদের কাছে ব্যক্তিস্বার্থ দেশের জনগেণের স্বার্থের চেয়ে বড় ছিল বলেই পারেনি।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারি দলের অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিন দফা চুক্তি এবং আশ্বাস দিলেও মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে তেমন উদ্যোগী হচ্ছে না। কিন্তু বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক প্রধান সাফল্যই হচ্ছে আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বজনমত সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছি। সারা বিশ্বের নেতারাই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে একমত।’

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে চীন, রাশিয়া ও ভারতের ইতিবাচক ভূমিকার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘চীন, রাশিয়া ও ভারত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বলেছে মিয়ানমারের উচিত রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া। চীন ও ভারত রোহিঙ্গাদের জন্য ঘর-বাড়ি নির্মাণেও সাহায্য দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আদালতও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই মিয়ানমার তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হবে।’

ট্যাগ: bdnewshour24 প্রধানমন্ত্রী বিএনপি