banglanewspaper

জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে বিএনপি মহাসচিবের যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি ভুয়া, মির্জা ফখরুলও ভুয়া’।

রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ক্রসিং এলাকায় এক পথসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একথা বলেন। নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে বিভিন্ন পথসভায় যোগ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতিসংঘের মহাসচিবের নামে নাকি একটি চিঠি এসেছে, উনাদের নাকি দাওয়াত দিয়েছে। ফখরুল সাহেব (বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) পত্রপত্রিকা-মিডিয়ায় প্রচার করেছেন যে জাতিসংঘের মহাসচিব তাকে দাওয়াত করেছেন। তিনি জাতিসংঘে গেলেন। মহাসচিব তখন ঘানায়। মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্রে নেই। তৃতীয় শ্রেণির একজন কর্মকর্তার সঙ্গে অনেক অনুনয়-বিনয় করে কিছুক্ষণ কথা বলেছেন। নালিশ করে দেশে ফিরে এসেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন- জাতিসংঘের মহাসচিব দাওয়াত করেছে বলে কেন বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হল? আমার প্রশ্ন- কেন মিথ্যাচার করা হল?’

‘এর মধ্য দিয়ে কি প্রমাণ হয়?’ কাদের নিজেই বলেন, ‘ভুয়া ভুয়া ভুয়া।’

এসময় তিনি নেতাকর্মীদের প্রশ্ন রাখেন, ‘কে ভুয়া?’ জবাব আসে- বিএনপি। তখন ওবায়দুল কাদেরও বলেন, ‘বিএনপি ভুয়া।’

তিনি আবার প্রশ্ন করেন- ‘ফখরুল কি ?’ জবাব আসে- ভুয়া।  কাদের বলেন, ‘ফখরুলও ভুয়া।’

‘এরকম প্রতারক দল ক্ষমতায় আসলে দেশে গণতন্ত্র থাকবে না, দেশের নিরাপত্তা থাকবে না। দেশের উন্নয়ন হবে না।– যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপির আন্দোলন নিয়েও হাসিঠাট্টা করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘রোজার ঈদ, কোরবানির ঈদ তারপর আবার রোজার ঈদ- ১০ বছরে ২০ টা ঈদ চলে গেছে। দেখতে দেখতে ১০ বছর, মানুষ বাঁচে কয় বছর? দেখতে দেখতে ১০ বছর- আন্দোলন হবে কোন বছর? নির্বাচনের বাকি তিন মাস। এখন কি আর আন্দোলন হবে? মানুষ এখন নির্বাচনমুখী।’

কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে কাদের বলেন, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি কোটার ওপর ভর করেছিল। ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে ভর করেছিল। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা হয়েছিল। অথচ এক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বলছে, আওয়ামী লীগ অফিসে নাকি চারজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। একজনকে রেইপ করা হয়েছে।’

‘চোখ চলে গেছে আওয়ামী লীগের কর্মীর। কোন কোন মিডিয়া প্রচার করল যে, ‘আন্দোলনরত এক ছাত্রের চোখ চলে গেছে। এটা কি ? গুজব সন্ত্রাস। এটা এখনও আছে। এই গুজব সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে হবে। আন্দোলনের নামে গুজব সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে হবে’, যোগ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে কাদের বলেন, ‘নেতায়-নেতায় ঐক্য, এটা জাতীয়তাবাদী ঐক্য। শেখ হাসিনা, আইআরআই জরিপে এসেছে ৬৬ শতাংশ জনপ্রিয়। ৬৬ শতাংশ জনপ্রিয়তাকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় না। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোন জাতীয় ঐক্য হবে না। হবে জাতীয়তাবাদী-সাম্প্রদায়িক ঐক্য। বাংলাদেশের জনগণের কাছে এই ঐক্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।’

গণমাধ্যমের সমালোচনা

দেশের গণমাধ্যম আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তার বিষয়টি প্রচার না করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ এনেছেন ওবায়দুল কাদের।

উত্তরবঙ্গে ট্রেনসফর এবং কক্সবাজার অভিমুখে সড়ক সফরে বিপুল জনসমাগমের তথ্য দিয়ে কাদের বলেন, ‘এত এত লোক হচ্ছে, কিন্তু পত্রিকায় দেখবেন সিঙ্গেল একটা ছবি। মিডিয়ার পছন্দ হয় না। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন। যারে দেখতে না-রি, তার চলন বাঁকা।’

সড়কপথে ওবায়দুল কাদেরের সফরের সংবাদ সংগ্রহে ঢাকা থেকে আসা সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে যারা এসেছেন, তারা মিডিয়ার এই কাভারেজটা অন্তত দেবেন। বিএনপি ৫০০ জনের মিটিং করে, সেটা বিরাট করে পত্রিকায় ছাপান। আর আমরা মিটিং করলে, কোনোমতে শেখ হাসিনার সিঙ্গেল ছবি আসে।’

‘আমাদের জনপ্রিয়তা মিডিয়ায় ছবি না দিয়ে ঢাকা যাবে না। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ঢাকা যাবে না। আমাদের জনপ্রিয়তা বাংলার ঘরে ঘরে। সত্যকে অস্বীকার করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা হয় না। সত্যকে চাপা দিয়ে লাভ নেই।’

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ। বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।

মঞ্চে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড.হাছান মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

ট্যাগ: bdnewshour24 ওবায়দুল কাদের