banglanewspaper

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ও আড়াই বছরের শিশুসন্তানকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহৃতার মেয়ের কাছে ফোন দিয়ে দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। মুক্তিপেণের টাকা হাতে পেলেই ছেড়ে দেয়া হবে তাদের। অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দিয়েছে অপহরণকারীরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে গফরগাঁও পৌর এলাকার মার্কেট থেকে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারা অপহৃত হন। ঘটনাটি ঘটেছে পৌর এলাকার রোস্তম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই অপহৃতার মেয়ে ঝুমা আক্তার বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মুক্তিপণের দশ লাখ টাকা দিতে রাজি হলেই লেনদেনের জায়গা নির্ধারিত হবে বলে অপহরণকারীরা জানায়।

পুলিশ ও পরিবারের লোকজন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে গফরগাঁও মধ্যবাজারে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক থেকে টাকা তুলেন গফরগাঁওয়ের দৌলতপুর গ্রামের প্রবাসী বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা খাতুন (৪০)। পরে আড়াই বছরের শিশু ছেলে মোহাম্মদ আলীকে সাথে করে পৌর এলাকার মার্কেটে বিকাল পর্যন্ত কেনা-কাটা করেন। কেনাকাটা শেষে সন্ধ্যার আগে পৌর এলাকার গো-হাটা ইজিবাইক স্ট্যান্ডে যাওয়ার পথে রোস্তম আলী গোলন্দাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে একটি মাইক্রোবাস তাদের পথ আগলে দাঁড়ায়।

পরে মাইক্রোবাস থেকে অজ্ঞাত নারী-পুরুষ দ্রুত নেমে তাসলিমা ও তার শিশুসন্তানের নাকে রুমাল চেপে অজ্ঞান করে তুলে নিয়ে যায়। পরে অজ্ঞাত স্থান থেকে সন্ধ্যায় তাসলিমার মুঠোফোন থেকে তার মেয়ে ঝুমা আক্তারকে ফোন করে অপহরণকারীরা। এ সময় অপহরণকারীরা জানায়, তার ছোট ভাই ও মাকে ফেরত পেতে হলে মুক্তিপণ হিসেবে দিতে হবে দশ লাখ টাকা। মুক্তিপণের টাকা হাতে পেলেই ছেড়ে দেয়া হবে তাদের।

ঝুমা আক্তার বলেন, অপহরণকারীরা মা ও ভাইকে ছেড়ে দিতে মুক্তিপণ বাবদ দশ লাখ টাকা চাইছে। কিন্তু টাকাগুলো কীভাবে নেবে বা কোথায় পৌঁছাতে হবে সে বিষয়ে এখনো কিছু বলছে না।

গফরগাঁও থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। যে মুঠোফোন নাম্বার থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে সেই নাম্বারটি ট্যাগ করে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছি। অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া মাত্রই অভিযান চালানো হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 প্রবাসীর স্ত্রী