banglanewspaper

ফাহিম মোনায়েম, মিরেরসরাই (চট্টগ্রাম) থেকে ঘুরে এসে: ছোট্ট দেশ বাংলাদেশ। তবে এই ছোট্ট ভূখন্ডকে স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন আপন হাতে। এই ধরার মাঝে এমন সবুজ শ্যামল আর মায়াবী প্রকৃতি চোখ জুড়ায় সবার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদীঘি বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে মহামায়া ইকো পার্ক। এখানে রয়েছে একটি বিশাল লেক।মিরসরাইয়ের মহামায়া লেক যেন এক মায়াজাল, একবার যিনি আসবেন বারবার আসতে চাইবেন। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি পুরো এলাকাটি।

পাহাড়ের কোলঘেঁষে আঁকাবাঁকা লেকটি অপরূপ সুন্দর। ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত মহামায়া লেকের অন্যতম আকর্ষণ পাহাড়ি ঝরনা। স্বচ্ছ পানির জলাধারের চার পাশ সবুজ চাদরে মোড়া। মনে হয়, কোনো সুনিপুণ শিল্পীর কারুকাজ। নীলাভ জলরাশিতে ডিঙি নৌকা কিংবা ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে হারিয়ে যেতে পারেন অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে।এমন পরিবেশে আরো বেশি পর্যটক টানতে লেকটিতে নতুনভাবে যোগ হয়েছে কায়াকিং অ্যাডভেঞ্চার।

চারিদিকে সবুজের চাদরে মোড়ানো অথৈ জলে নিজেই চালাবেন নৌকা- এমন অ্যাডভেঞ্চার নিশ্চয়ই কেউ মিস করতে চাইবেন না। আর সে কারণেই মহামায়া কায়াকিং পয়েন্টে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়। প্রতিদিন কায়াকিং করছেন শতাধিক দর্শনার্থী।

মহামায়া কায়াকিং পয়েন্টের পরিচালক রোহানুল ইসলাম রানা জানান, মহামায়ার কায়াকিংগুলো উন্নত ও নিরাপদ। দর্শনার্থীরা নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারে সে জন্য বাধ্যতামুলক লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাথে যারা পরিবার পরিজন এবং বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে আসবে তারা তাবুতে থাকবে পারবে সাথে রাতের খাবার, বারবিকিউ, ক্যাম্প ফায়ারিং, সকালের নাস্তা। এসব প্রচেস্টা পর্যটকরা নির্ভিগ্নে ভ্রমণ করতে পারেন।

রোহানুল ইসলাম রানা বলেন, প্রতিটি কায়াকিং নৌকা প্রতি ঘণ্টায় ৩’শ টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড় দেওয়া হয় ১’শ টাকা। রয়েছে নির্ধারিত সীমানা রেখা। এর বাইরে গেলে পর্যটকদের গুনতে হয় ১ হাজার টাকা জরিমানা।

মহামায় লেকে কথা হয় দর্শনার্থী এনামুল, লালন, নাজমুল, রিসানের সঙ্গে। তারা জানান, নিজ হাতে নৌকা চালিয়ে পাহাড় আর সুবজের সাথে স্বচ্ছ জলের বুক চিরে ইচ্ছেমতো ঘুরতে দারুন লেগেছে।

এনামুল জানান, কায়াকিং পয়েন্টের লোকরাই শিখিয়ে দেয় কিভাবে কায়াকিং করতে হয়। যার কারণে চালাতে তেমন বেগ পেতে হয় না। বিষয়টাতে দারুন অ্যাডভেঞ্চার রয়েছে।

কায়াকিং পয়েন্টের পরিচালক রোহানুল ইসলাম রানা জানান, তিনিসহ সাইদুল ইসলাম, সাইফুদ্দিন শামীম ও স্নেহাশীষ জনি মিলে এ লেকে ১০ টি কায়েক নামিয়েছেন। ধীরে ধীরে দর্শনার্থীরা আগ্রহী হয়ে উঠছে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক লোক কায়াকিং করছে। এছাড়াও তাদের কায়িকিং রয়েছে সিলেটে রাতারগুলে এবং খাগড়াছড়ি মায়াবিনীতে। এগুলো আমদানি করা হয়েছে ব্রাজিল ও হল্যান্ড থেকে।

যাওয়ার পথ:
ঢাকা-চট্টগ্রামের যেকেনো বাসে করে সরাসরি নামতে হবে চট্টগ্রামের মিরসরাইতে। সেখান থেকে সিএনজি চালিতো অটো রিকশা কিংবা হিউম্যান হলারে করে আসতে পারবেন লেকে।

থাকা-খাওয়া :
লেকে ঘুরতে এসে দিন শেষে ফিরে গেলেই ভালো। কারণ মিরসরাইতে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। থাকতে হবে চট্টগ্রাম অথবা পাশের জেলা শহর ফেনীতে। এ দুই শহরেই রয়েছে থাকার মত ভালো হোটেল।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ মহামায়া লেক। ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ লেকটি চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে মিরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি বাজার থেকে দুই কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

লেখক:
ফাহিম মোনায়েম
স্টাফ রিপোর্টার,
বৈশাখী টিভি।

 

 

ট্যাগ: bdnewshour24 চট্টগ্রাম