banglanewspaper

বিশ্বনাথ রায় (ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল  গ্রাম বাংলায় কিছুদিন আগেও প্রচুর পরিমান  বিভিন্ন রঙ্গের শাপলা দেখা যেত। কিন্তু এখন আর আগের মত শাপলা ফুল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্রাম গঞ্জে কালের পরিবর্তনের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশরে জাতীয় ফুল শাপলা। আর অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে এই নয়নাভিরাম ঝিলি ভাসা ফুল শাপলা যার বাংলা নাম হচ্ছে শাপলা। ইংরেজী নাম হচ্ছে ওয়াটার লিলি, মনিপুরী ভাষায় খরো আগৌবা, তামিল ভাষায় ভেলাম্বাল সংস্কৃত ভাষায় কুমড়া আসাম ভাষায় এই ফুলকে লাল ফুলবলা হয়।

শুধুমাত্র বাংলাদেশেরই জাতীয় ফুল শাপলা নয় শ্রীলংকারও জাতীয় ফুল শাপলা শ্রীলংকায় জাতীয় ফুলকে বলা হয় নিল মাহানেল। থাইল্যান্ড ও মায়ানমারের ও এই ফুল পুকুর ও বাগান সাজাতে খুবেই জনপ্রিয়।

ইয়েমেন, তাইওয়ান ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের পুকুর ও হ্রদে দেখা যায়। গ্রীক দার্শনিক প্লোটো ও এরিস্টটল এর শিষ্য থিওউফ্রস্টাস বলেছেন- এটা একটি জলজ উদ্ভিদ যা প্রায় ৩০০ খ্রিঃ পূর্বের পুরোনা।

শাপলার বৈজ্ঞানিক নামঃ Nymphea Nauchally বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সাধারণরত ৫ প্রকার শাপলা দেখা যায়। শাপলা গুলো হচ্ছে সাদা, লাল, বেগুনী, হলুদ ও নীল রঙের।

এদের মধ্যে সাদা শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ কারণে নদী-নালা, খাল-বিলে বিমেষ করে স্রোতবিহীন জলাসয়ে শাপলা ফুল-ফুলে ছেয়ে থাকে। যেখানে সেখানে পাওয়া যায় এজন্য অনেকেই শাপলা ফুলের কদর দিতে জানে না। জলে ফুটে থাকে কিন্তু এর আত্মীয়তা মাটির সাথে শোকজ আটকে থাকে। ফলের মত এতাও কাব্রোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান রয়েছে।

দরিদ্র মানুষ বিলের পানিতে অযত্নে লালিত এই খাদ্য সংগ্রহ করে পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে খেত সেময় শাপলা ফুলকে নিয়ে ধাধা বলতো হরির উপরে হরি বসে চায়, হরিকে দেখিয়া হরি হরিতে লুকায়। গ্রাম বাংলার লানাচে কানাচে ডোবায় ও খাল-বিলে সচাচর দেখা যেত ঐ জলে ভাষা ফুল শাপলা। তবে ।বহেলা ও অযন্তে আর কৃষি জমিতে অতিরিক্ত পরিমাণে কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহারের তকারণে বাংলাদেশর শাপলা হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম প্রায়।

কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ী উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন আর সাদা, লাল, ধরণের শাপলা দেখা যায় না। কিন্তু কিছুটা লাল ও সাদা শাপলা দেখা যায়। বেগুনি ও নীল শাপলা প্রায় হারিয়েয যেতে বসেছে দিনদিন। যেখানে পানি জমে থাকে সেখানেই প্রাকৃতিকভাবে  শাপলা ফুল ছোদের খুব প্রিয়। ছোটরা শাপলা ফুল তুলে শাপলা ফুলের মালা তৈরী গলায় পড়তো আবার মাপলার ড্যাগ শিশুদের প্রিয় খাবার এবং গ্রামগঞ্জের লোকেরা ড্যাপ দিয়ে খই ভেজে মোয়াসহ বিভিন্ন প্রকার সুস্বাদু খাবার তৈরী করতো।

গ্রামবাংলার মানুষের কাছে সবজি হিসেবেও খুবই জনপ্রিয় শাপলা। অনেকে আবার শাপলা তুলে বাজারে বিক্রিয় করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকতো। এছাড়াও শাপলার অনেক ঔষধিগুণ রয়েছে। শাপলা দিনের বেলা ফুটে থাকে এবং সরাসরি কান্ড ও মুলের সাথে যুক্ত থাকে। পাতার সাইজ ২০-২৩ সে.মি. এবং এদের ব্যাপ্তি ০.৯-১.৮ মি. এই ফুলে ৪ থেকে ৫টি বৃতি থাকে ও ১৩ থেকে ১৫টি পাপড়ি থাকে। ফুলগুলো দেখতে তারার মতো মনে হয় অনেকটা। কাপের সমান বৃতিগুলো ১১-১৪ সে.মি. হয়ে থাকে। বছরের সবসময় শাপলা ফুল ফুটতে দেখা যায়।

তবে বর্ষাকালে ও শরৎ মৌসুমে এই উদ্ভিদ জন্মের শেষ সময়। এক দর্শক আগেও ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রচুর পরিমাণে শাপলা ফুল দেখা যেত। তখন পুকুর খাল-বিল ও জলাশয়গুলো লাল, সাদা, গোলাপী, বেগুনী, নীল ও বিরল প্রজাতির হলুদ শাপলা ফোটার কারণে চারিদিকে নয়লাভ রাম প্রকৃতির দৃশ্যে পরিনত হতো কিন্তু বর্তমানে সাদা প্রজাতির শাপলাফুল গুলো বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেলেও দেখা যাচ্ছে না নাল, নীল বেগুনী ও গোলাপী শাপলা। এসব শাপলা ফুল হারিয়ে যাওয়া পিছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে বলে নানানজনের নানান মত বা অভিযোগ রয়েছে।

নদ-নদীর নাব্যতা ক্রাস। খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট করে কৃষি জমি থৈরী ও ঘর বাড়ী তৈরী। আবার ফসলী জমিতে সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার এবং জলবায়ুর  পরিবর্তনে কারণে আমাদের দেশের জাতীয় ফুল শাপলা হারিয়ে বসেছে।

এক সময় বিলে-ঝিলে পুকুরে বর্ষা মৌসুমে নানা রঙের শাপলা ফুলের বাহারী রূপে মানুষের নয়ন জুড়িয়ে যেত। এখন আর বাহারী রূপ গ্রাম বাংলায় আর দেখা যাচ্ছে না। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা।

ট্যাগ: Banglanewspaper কালের আবর্তন জাতীয় ফুল শাপলা