banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: বর্ষার পর আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর শুভ্র– সফেদ কাশফুলের শাড়ি পড়ে হাজির হয় প্রকৃতি কন্যা শরৎ। ঢাকা শহরে আমরা যারা বাস করি তাদের মনে একটা আক্ষেপ বরাবরই উঁকি দেয় তা হলো, দম বন্ধ যান্ত্রিকতা, একটু আকাশ দেখার সুযোগ নেই, এই শরৎকালে শৈশবের স্মৃতি বিজরিত সাদা সাদা কাশবন, মেঘের ভেলা, সাদা কাশবনের উপর লাল সূর্য্য ডোবার মনোরম দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য অনেকের হয়ে ওঠে না।

কিন্তু একটুখানি খোঁজখবর রাখলে এই ইটকাঠের যান্ত্রিক শহরের ভেতরেই দেখা মিলবে অনেক নির্মল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। তেমনই এক প্রাকৃতিক
সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত সুবিশাল কাশবন।তুরাগ নদীর তীর ঘেঁষে দ্বিগন্ত জুড়ে শুধু সাদা আর সাদা কাশফুল।

যেদিকেই চোখ যায় সবদিকে প্রকৃতি যেন তার সব রঙ রুপ ঢেলে সাজিয়েছে।আর ভেতর দিয়ে অসংখ্য ছোট বড় পাঁকা রাস্তা থাকায় রাস্তার পাশ দিয়ে
হেটে হেটে কিংবা মোটরসাইকেল যোগে অথবা ব্যক্তিগত গাড়ী করে কাশবন ঘুরে দেখা যায়।

এখানে রয়েছে দু’টি নান্দ্যনিক ব্রিজ যেখান থেকে পুরো কাশবনের সৌন্দর্য্য অবলোকন করা যায়। তাই প্রতিদিন অনেক প্রকৃতিপ্রেমী পরিবার পরিজন, বন্ধু বান্ধব সহ ছুটে আসেন দিয়াবাড়িতে শরৎকালের স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে।

অনেকে ঘুরে বাড়ানোর পাশাপাশি ছবি তোলেন, নির্মল বায়ূতে প্রাণভরে শ্বাস নিয়ে সকল নাগরিক ক্লান্তি ঝেরে ফেলে আসেন দিয়াবাড়ির নৈস্বার্গিক আবহের মধ্যে। রয়েছে ক্ষেত থেকে সরাসরি তুলে আনা রাসায়নিক মুক্ত টাটকা সবজির

বাজারঃ

দিয়াবাড়ি ব্রিজের পাশে প্রতিদিন বসে সবজির বাজার। তুরাগ নদীর পলিতে কৃষকেরা লাউ,শিম, করলা,ঝিঁঙে সহ বিভিন্ন প্রকারের শাক-সবজি চাষ করেন। এবং বিকেলে দিয়াবাড়ি ব্রিজের পাশে তারা সেসব সবজি বিক্রি করেন।তাই এখানে গড়ে উঠেছে একটি ছোট সবজির হাট। এখান থেকে একেবারে টাটকা রাসায়নিক মুক্ত ফ্রেশ সবজি কিনে আনতে পারবেন।

নদী ও বিলের টাটকা মাছের বাজারঃ 

বেড়ীবাঁধ ধরে মিরপুর রোডে একটু সামনে গেলে তুরাগ নদী সংলগ্ন বেড়ীবাঁধের পাশে দেখতে পাবেন কই, মাগুর, শিং, বাইন, চিংড়ি, দেশী রুই, শৈল, বোয়াল, পাবদা সহ হরেক প্রজাতির বিল, ও নদীর দেশী মাছের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন জেলেরা । টাটকা  সব মাছ চাইলেই এখান থেকে কিনতে
পারেন। এখানে কেজি দরে মাছ বিক্রি হয়না, এক ভাগ মাছ পুরোটাই কিনতে হয়। তাতে ২-৫ কেজি মাছ একসাথে কিনতে হবে পরিমান ভেদে
৮০০-২০০০ টাকায়। তাই একা কিংবা দলবেঁধে গিয়ে ভাগ করে বিলের সৌখিন সব দেশী মাছ কিনে আনতে পারবেন।

যাতায়াত ব্যবস্থাঃ 

ঢাকার প্রাণকেন্ত্র মিরপুর-১ মাজার রোড থেকে বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন মিরপুর-আশুলিয়া রোড ধরে লেগুনা, বাস,ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা সিএনজি যোগে ৮/১০
কিঃ মিঃ পথ  গেলেই বিরুলিয়া ব্রিজ থেকে একটু উত্তরে রাস্তার পাশেই দিয়াবাড়ি ব্রিজ ও সুবিশাল কাঁশবন চোখে পড়বে।

এ ছাড়া উত্তরা হয়েও যেতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে হাউজ বিল্ডিং মোড় থেকে বাম পাশে্র রাস্তা ধরে লেগুনা, সিএনজি কিংবা রিক্সা যোগে যেতে পারেন দিয়াবাড়ি কাশবনের রাজ্যে।

খাওয়া দাওয়াঃ 

দিয়াবাড়িতে হালকা চা বিস্কুটের টং দোকান ছাড়া তেমন কোন বড় ধরনের হোটেল- রেস্টুরেন্ট নেই। কিন্তু যাত্রা পথে বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন বেড়ীবাঁধের পাশে রয়েছে বেশ ক’টি গ্রামীণ খাবারের রেস্টুরেন্ট। প্রাকৃতিক পরিবেশে বাঙালি ঐতিহ্যের গ্রামীণ খাবার, হরেক পদের ভর্তা ভাত, টাটকা মাছের ফ্রাই অতি সুলভ মূল্যে খেতে পারবেন। প্রতিদিন অনেক ভোজন রসিক এখানে শুধু বাঙালি খাবার খেতেই এসে থাকেন।

সতর্কতাঃ

যাদের এলার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে তারা মাস্ক সংগে রাখতে পারেন। কারণ বাতাসে কাশফুলের টুকরো টুকরো তুলো উড়ে আপনার নাক-মুখে ঢুকে গিয়ে এলার্জি বাড়িয়ে দিতে পারে।তাই মাস্ক সংগে রাখলে ভাল হুয়। তাই শরৎকাল চলে যাওয়ার আগেই ঘুরে আসতে পারেন উত্তরা দিয়াবাড়ীর কাশফুলের রাজ্য থেকে।

লেখাঃ সাজ্জাদ সাজু

(ছবিতে-সিন্ধু, রূপকথা, রাদিয়া বর্ণমালা, হ্যাপী শামিমা ও রফিক মাসুম)

ট্যাগ: Banglanewspaper ভ্রমন দিয়াবাড়ি কাঁশফুলের রাজ্য