banglanewspaper

পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের(বিএনএফ) আহবায়ক ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

আজ সোমবার বিকালে নাজমুল হুদা নিজে থানায় গিয়ে মামলাটি করেন।

শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত ও আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়ায় মামলাটি দুদকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ছোট ভাই অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ সম্পদের মাধ্যমে বাড়ি কেনা ও অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আজ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য। তবে, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি দুদক।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ
করা হয়েছে, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ২০০৮ সালের ১৮ জুন দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মামলাটি বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে দুদক পৃথক দুটি লিভ টু আপিল করে। এ লিভ টু আপিল দুটির শুনানি করে ২০১৭ সালের ৭ জুন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দুদকের লিভ টু আপিল দুটি খারিজ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে নাজমুল হুদা নিশ্চিত হন যে, তিনি ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা মামলাটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। ফৌজদারি মামলা থেকে রেহাই পাওয়ায় রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে নাজমুল হুদা তার চারবারের বিজয়ী অঞ্চল ঢাকা-১ সংসদীয় আসন হতে নির্বাচন না করে ওই আসনে তার চাচাকে নির্বাচন করার আহ্বান জানান। নাজমুল হুদা এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তিনি নিজে যেহেতু সারা বাংলাদেশের যে কোনো অঞ্চলে সমান জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সেহেতু তিনি সুবিধাজনক কোনো আসনে নির্বাচন করার জন্য সক্রিয়ভাবে চিন্তাভাবনা করতে থাকেন। এমনই পরিস্থিতিতে একটি পত্রিকায় ‘জামিন ছাড়াই বছর পার নাজমুল হুদা ও স্ত্রী’র শিরোনামে বিগত ৩০ মার্চ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুদকের দায়েরকৃত লিভ টু আপিল দুটি আপিল বিভাগ মঞ্জুর করে হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছে। এতে করে ২০০৮ সালের ১৮ জুন মতিঝিল থানায় দায়ের হওয়া ১০১ নং মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। পরে আপিল বিভাগে খোঁজ নিয়ে নাজমুল হুদাও জানতে পারেন, দুদকের লিভ টু আপিল দুটি মঞ্জুর হয়েছে। এ সংবাদে ব্যারিস্টার হুদা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। মামলার আসামি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার দেওয়া একটি অবৈধ লেনদেনের প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় এরূপ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন ব্যারিস্টার হুদা।

এমন বিষয় তুলে ধরে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এসকে সিনহার জমাদার ২০১৭ সালের ২০ জুলাই দুপুরে ব্যারিস্টার হুদার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০৩ নম্বর কিউবিকেলস-এ গিয়ে অনুরোধ করেন, তিনি যেন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন। ওই দিনই বেলা অনুমান আড়াইটায় উপস্থিত হলে নাজমুল হুদাকে এসকে সিনহা জানান, একজন সংসদ সদস্য তাকে নগদ দুই কোটি টাকা প্রদানের প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, এসকে সিনহা যে কোনো একটি মামলায় যেন নাজমুল হুদার সাজা নিশ্চিত করেন, যাতে করে হুদাকে নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা যায়। যে দৈনিকে নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছিল, সেটির মালিক সেই সংসদ সদস্য বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এজাহারে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ব্যারিস্টার হুদা ও তার স্ত্রীর মামলাগুলোয় মুক্তির যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন, তবে এর জন্য তাকে উপরোক্ত দুই কোটি টাকা ছাড়াও আপীল বিভাগে ব্যারিস্টার হুদারই প্রদত্ত আড়াই কোটি টাকার একটি ব্যাংক গ্যারান্টির রিলিজ আবেদনের বিপরীতে ব্যাংক গ্যারান্টির ১ কোটি ২৫ লাখ টাকাও প্রদান করতে হবে। যদি এ পরিমাণ টাকা না দেন, তা হলে ব্যাংক গ্যারান্টিতে উল্লিখিত ফৌজদারি আপিল নং ৪৮১৩/২০০৭, যেটায় ব্যারিস্টার হুদা ইতোমধ্যেই হাইকোর্ট থেকে খালাসপ্রাপ্ত হয়ে ব্যাংক গ্যারান্টি রিলিজ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন, সেটির তিনি পুনঃশুনানি করবেন এবং ব্যাংক গ্যারান্টি রিলিজের পথ বন্ধ করে দেবেন।

এজাহারে ব্যারিস্টার হুদা আরও বলেন, ওই সংসদ সদস্য যেহেতু তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, সেহেতু তাকে সরিয়ে নিজের রাস্তা নিষ্কণ্টক করতে ওই এমপি এসকে সিনহা বরাবর উপরোল্লিখিত টাকা উৎকোচ আকারে প্রদানের প্রস্তাবনা করেছিলেন। এসকে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকায় নাজমুল হুদা সে সময় এ ব্যাপারে নিশ্চুপ ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 এসকে সিনহা নাজমুল হুদা