banglanewspaper

সাজ্জাদ সাজু: ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে ১০ অক্টোবর “বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০১৮” পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি এবং ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর যৌথ উদ্যোগে তিন দিন ব্যাপি বিশেষ কর্মসূচীর গ্রহণ করা করে। এ বছরের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য “পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য”-কে ধারণ করে আজ ১০ অক্টোবর ২০১৮, আজ বুধবার সকাল ১০:০০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-এর মিলনায়তনে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, । এ সময় তিনি উনুষ্ঠান উপলক্ষে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং মানসিক সমস্যা সমাধানে গৃহিত পদক্ষেপ সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন।

তাঁর উপস্থিতিতে দিনের প্রথম সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শারীরিক সুস্থতার জন্য মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা জরুরী এবং সেই লক্ষ্যে প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট নিয়োগ করা এখন সময়ের দাবী”। এসময় তিনি এ ধরণের একটি সফল ও সুন্দর আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব নাছিমা বেগম, এনডিসি। তিনি তাঁর বক্তব্যে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি এ্যাক্ট দ্রুত পাশ করার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় অধীনে পরিচালিত নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টি সেক্টরাল প্রোগ্রাম-এর প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন। তিনি চাহিদার তুলনায় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের অপ্রতুলতার কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারী জনাব মোঃ জহির উদ্দিন। সেমিনারে আরো মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ মাহমুদুর রহমান। 

“সংকটাপন্ন রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই মনোসামাজিক সেবা”-শীর্ষক ২য় সেনিমারটি অনুষ্ঠিত হয় দুপুর ১২.০০টায়। এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্বব্দ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ। তিনি বলেন দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টগণ রোহিঙ্গাদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নাসিরুল্লাহ সাইকোথেরাপি ইউনিট-এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জনাব কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় অধীনে পরিচালিত নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টি সেক্টরাল প্রোগ্রাম-এর প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্যা চিল্ড্রেন-এর হিউম্যান এডভোকেসি ম্যানেজর Beatriz Ochoa,ইউ.এন.এইচ.সি.আর বাংলাদেশ-এর এম.এইচ.পি.এস.এস অফিসার Mohamed Elshazly। তাঁরা মিয়ানমার  থেকে বিতারিত রোহিঙ্গাদের মানসিক বিভিন্ন সমস্যা ও এর থেকে পরিত্রাণের বিষয়ে আলোচন করেন। আই.ও.এম-এর এম.এইচ.পি.এস.এস প্রজেক্ট অফিসার Olga Rebolledo তাঁর বর্তমানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ মাহমুদুর রহমান। “বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন”-বিষয়ক বিশেষ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয় বিকেল ৩.০০ টায়। যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মনোবিজ্ঞানীরা বক্তব্য প্রদান করেন এবং সূচনা বক্তব্যে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মোঃ শাহানূর হোসেন উল্লেখ করেন যে-এই মূহুর্তে দেশের ৬ কোটির বেশী মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রয়োজন। সেজন্য প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানীর দরকার, যা আগামী ২০ বছরেও পূরণ করা দুরূহ ব্যাপার। অতএব দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত মনোবিজ্ঞানী তৈরী করার জন্য এখনই ভূমিকা নিতে হবে। তবেই দেশের মানসিক স্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।

সারাদিন বিভিন্ন শ্রেণি -পেশার মানুষ সেমিনার ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক আয়োজনে অংশ নেন। তারা স্টল ঘুরে ঘুরে মানসিক সমস্যার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকেই এমন সচেতনতামূলক আয়োজন আরো বেশি বেশি হওয়া দরকার বলে অভিমত জানান। 

অনুষ্ঠানটি সফল করতে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিন রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বলে জানান অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা শারমিন আরা। অনুষ্ঠানে আশানুরূপ সাড়া পাওয়াতে তারা খুশি। জনগণকে মানসিক সেবা দেওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্য সচেতন করাই তাদের আয়োজনের মুখ্য উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি। মানুষ তাদের আয়োজনে যেভাবে সাড়া দিয়েছেন তাতে করে বুঝা যায় সাধারণ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়ে  উঠছেন। এটিকে তিনি ইতিবাচক বলে মনে করেন।

আগামী ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠানের শেষদিন ৫ টি বিশেষ  কর্মশালা সেগুলো হলো- মাইন্ডফুলনেস; অটিজম; ফ্যামিলি থেরাপি; নিউরোসাইকোলজি; স্ব-প্রণোদিত আসক্তি নিয়ন্ত্রণ।

ট্যাগ: bdnewshour24 বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য