banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: ঝালে ঝালে লাল, চলবে কত কাল-জীবনের ত্রিশ বছর কেটে গেল ঝালমুড়ি বিক্রি করে লাল মিয়ার। অন্যদের বানানো ঝালমুড়ির চেয়ে লালের মুড়ির সুগন্ধ ও সুস্বাদু যেন ভিন্নতা বয়ে আনে। তাঁর বানানো মুড়ির রং হালকা  লাল হওয়ার কারণেই তার নাম হয়ে গেল লালের মুড়ি।

নাম তার ফুরকান মিয়া। পিতা মৃত মহর আলী। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় টকবগে যুবক ছিলো।  প্রকৃত বয়স ৭০ হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুলে একষট্রিই রয়ে গেছে। তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়েই চলছে তার অভাবের সংসার। অভাবের তারণায় ছেলে-মেয়েদেরকে বেশিদূর পড়ালেখা করাতে পারেননি।

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের পটকা গ্রামে গভীর বনের ভেতর মাষ্টার ভিটার পাশে লাল ভিটা নামক বনের জায়গায় জীর্ণ কুটিরে লাল মিয়ার বসবাস। নিজের গাছের মঁরিচ, ধনে পাতা, শসা ও হাতে ভাজা মুড়ি এবং নিজের চুলায় সিদ্ধ করা ছুলা  দিয়ে তৈরি করেন ঝাল মুড়ি।

কখনো বাড়ির আঙ্গিনায় আবার কখনো রাস্তার ধারে। বিদ্যালয়ের পাশে আবার কখনো বাজারে বাজারে গরম ঝালের মুড়ি বিক্রি করে চলে তার জীবন সংসার।সারাদিন মুড়ি বিক্রি করে যে দু-আরাই'শ টাকা হয় তা দিয়েই টেনেটুনে কোনও মতে জীবন যুদ্ধে টিকে আছে লাল মিয়া। 

তবুও যেন হার মানতে রাজী নয় লাল। এ উপজেলায় লালের মুড়ি খেয়ে মজা পান অনেক স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়ে এমনকি বৃদ্ধরা। তার বাড়ীতেও গিয়ে ভিড় দেখা যায়।

নিয়মিত লালের ঝালমুড়ির ভক্ত মুকুল মুরাদ জানান, একদিন লালের মুড়ি না খেলে, কি যেন খাওয়া হয়নি বলে মনে হয়। প্রতিদিন বিকালে লালের মুড়ির স্বাদ নিতে ছুটে আসি তার কাছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে ঝাল মুড়ি তৈরি করে বলে লাল সবার কাছে প্রিয়। 

অনেক বয়স হওয়ার পরেও বয়স্ক ভাতার কার্ড পায়নি জানিয়ে ফুরকান ওরফে লাল মিয়া বলেন, আমার লোক না থাকায় আমি কোন সরকারী সহায়তা পাইনা। আমার চলতে অনেক কষ্ট হয়। সরকারের কাছে আমার জন্য একটা ব্যবস্থা আশা করছি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুনজুরুল ইসলাম জানান, বয়স বিবেচনায় তার জন্য কোন সরকারী সুবিধা দেয়া যায় কিনা তা যাচাই করে দেখা হবে।

এ ব্যাপারে গোসিংগা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহজাহান সরকার জানান, লাল মিয়া এ বয়সেও অন্যের কাছে হাত না পেতে নিজে উপার্জন করে জীবন চালায়। যা প্রশংসার দাবি রাখে। যদিও আইডি কার্ডে তার বয়স কম থাকায় আমরা তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিতে পারিনি। আগামীতে তাকে সরকারী সহায়তার আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর গাজীপুর