banglanewspaper

ঘুর্ণিঝড় তিতলির আঘাতের ১৯টি জেলা আক্রান্তের আশঙ্কা রয়েছে। সেসব জায়গায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে আবহাওয়ার তথ্য জেনে ঘর থেকে বের হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ঘুর্ণিঝড় ‘তিতলি’ মোকাবিলায় প্রত্যেক জেলা উপজেলার প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সব জেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব কর্মকর্তার সাপ্তাহিত ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিচেনায় স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৫৬ হাজার ভলান্টিয়ার প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আবহাওয়া অধিদফরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, তিতলি অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ১৪ কিলোমিটার বেগে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারতের দক্ষিণ ওডিশা, অন্ধ্র প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ—এই চারটি অঞ্চলজুড়ে ঘূর্ণিঝড়টি বিস্তৃত। প্রথমে ওডিশায় আঘাত হানতে পারে। এরপর বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে আসতে আসতে যদি দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে ভালো। কিন্তু আরও শক্তি সঞ্চয় করলে বিপদ।

যেভাবই আসুক না কেন, তিতলির প্রভাবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলসহ বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি হবে।

এদিকে ‘তিতলি’র প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এ সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা নদী বন্দর থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোনো রুটে লঞ্চ চলাচল করছে না। পরবর্তী নির্দেশ না আশা পর্যন্ত নৌযান চলাচলের সিদ্ধান্তটি বহাল থাকবে।

এছাড়া চট্টগ্রামে পাহাড়ে ধসের শঙ্কায় ৬শ’ পরিবার সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সুন্দরবন থেকে পর্যটকদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। উপকূলীয় জেলাগুলোতে কন্ট্রোল রুম খোলাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মাছ ধরা ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 তিতলি ত্রাণমন্ত্রী