banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিশির গ্রামের বাড়ি বরগুনা। চরম দারিদ্র্য, অভাব আর ক্ষুধা ওর পরিবারকে নিয়ে এসেছিল ঢাকা শহরে – একটু ভালভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়ে। এই শহরেরই কোন এক বস্তির স্বল্প আলোর এক ঘরে ওর জন্ম। ওর একটা ছোট ভাই আছে, দু’বছরের। বাবা ফেরীওয়ালা, ভাঙ্গারীর কাজ করে। মা ঘর-বাচ্চা-রান্না সামলায়।

যে ঘরটায় ওরা থাকে তা এই বস্তির ২৫টা ঘরের একটা, যা মাঝামাঝি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।এই ঘরে কোন জানালা নেই। দু-পাশে দুটা দরজা আছে, পিছনের দরজার ঠিক বাইরেই কমোন রান্নাঘর, যেখানে সারাদিনই দু’টা চুলার সিরিয়াল পাবার জন্য এই বস্তির মহিলাদের লাইন লেগেই থাকে, আর তার সাথে থাকে ননস্টপ ধোঁয়া।

সুর্য্যের আলো নিশি’দের ঘরে প্রবেশ করে না, সারাদিনই বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালাতে হয়। বাইরে রাস্তায় যখন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে, কিংবা একটা সুন্দর মিষ্টি বাতাস যখন খেলা করে, ওদের এই ঘরে তখন সেই বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ বা বাতাসের শীতল পরশ প্রবেশ করে না। এই ঘরের মাসিক ভাড়া ২,৮০০/=। চারজনের সংসারের সব নুন্যতম খরচ মিটিয়ে এ ভাড়ার টাকা যোগাড় করতেই ওর বাবা’কে প্রতিমাসে অনেক কষ্ট করতে হয়।

ওদের এই স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকারে ঢাকা বস্তিতে প্রায় ঘরেই, বিশেষ করে বাচ্চাগুলোর সর্দি, কাশি, জ্বর আর পেটের অসুখ লেগেই থাকে। এই সেদিনও ওর খেলার সাথী ওদের দু’ঘর পরের সালমা, হুট করে কি এক কঠিন অসুখে পড়লো। বস্তির পাশের বাজারে যে ডাক্তারের ওষুধের দোকান আছে, সেও কোন রোগ ধরতে পারলো না, তার আগেই সব শেষ..। আমাদের নিশি লুকিয়ে লুকিয়ে অনেক কেঁদেছিল এরপর অনেকদিন, ওর অনেক প্রিয় বন্ধু ছিল সালমা।

জাগো স্কুলের টীচার আপা যখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নানা বিষয়ে শেখান, ক্লাস থেকে শিখে, বাসায় এসে সে তার মা’কে আর ছোট ভাইকে সব মুখস্ত বলে। আর মনে মনে সে ভাবে, বড় হয়ে যেভাবেই হোক ওকে ডাক্তার হতে হবে। নাহলে, ওর ছোট ভাইটার যদি এরকম অসুখ করে কে বাঁচাবে ওকে!

নিশি’র স্বপ্ন সত্যি করতে কাজ করে যাচ্ছে জাগো ফাউন্ডেশন, গত ১১ বছর ধরে। সারা দেশজুড়ে জাগো’র ১২টি স্কুলের মাধ্যমে বর্তমানে সুবিধাবঞ্চিত সমাজের প্রায় ৩০০০শিশু লেখাপড়া শিখছে। আর জাগো স্কুলে নিশি’দের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে শুধুমাত্র আপনারই মত কিছু সহৃদয় মানুষের সুন্দর সিদ্ধান্তের ফলে।

আমাদের চাইল্ড-স্পন্সরশীপ প্রোগ্র্যামের মাধ্যমে, আপনি মাসিক মাত্র ২,০০০ টাকার বিনিময়ে নিশি’র মত অন্তত একজন জাগো শিশুর লেখাপড়ার খরচের দায়িত্ব নিতে পারেন!

এই টাকা একটি শিশুর মানসম্মত শিক্ষালাভের পাশাপাশি তার যাবতীয় বইখাতা, পেন্সিল-রাবার, স্কুল-ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ আর নিয়মিত পুষ্টিকর ফলমূল ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য, আর ব্রাশ, টুথপেস্ট, সাবান ইত্যাদি পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। সেই সাথে ওর চিকিৎসা-সুবিধাদি তো থাকছেই।

আমাদের চাইল্ড স্পন্সরশীপ প্রোগ্র্যামের বিস্তারিত জানতে ভিসিট করুনঃ http://jaago.com.bd/sponsor-a-child/; চাইলে এখনই কল করতে পারেন আমাদের হটলাইনেঃ Contact - +880 1766 666 662

ট্যাগ: bdnewshour24 নিশি জাগো ফাউন্ডেশ স্বপ্ন