banglanewspaper

শরীফ আনোয়ারুল হাসান রবীন: হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে মাগুরার কিংবদন্তী হযরত গরীর শাহ দেওয়ানের ওরশ অনুষ্টিত। সোমবার রাতে মাগুরার  শ্রীপুর উপজেলার নহাটা গ্রামে অনুষ্টিত হয়ে গেল আধ্যাতিক সাধক হযরত গরীব শাহ দেওয়ানের বাৎসরিক ওরশ মাহফিল। দীর্ঘ প্রায় পাঁচশ বছর ধরে এ ওরশ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

সারাদেশের বিভিন্ন ধর্মের হাজার-হাজার ভক্ত এই ওরশে উপস্থিত হন। অনেকেই দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি ও নানা মনোবাসনা পুরনের জন্য মাজারে দোয়া ও মানত করেন এবং জিকিরে অংশ নেন। গরীর শাহ দেওয়ানকে বলা হয় মাগুরার  কিংবদন্তী ।

মাগুরার মানুষের কাছে তার অনেক অলৌকিক ক্ষমতার কথা প্রচলিত আছে। কথিত আছে, একবার বৃটিশ সরকারের নীল কুঠি ইনচার্জ টমাস টুইডি  মাগুরার হাজরাপুর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় হানু নদীর তীরে গরীব শাহর দেখা পেয়ে ছিলেন। এ সময় তিনি তাকে ভিক্ষুক ভেবে একটি মুদ্রা দেন। গরীব শাহ মুদ্রাটি হাতে নিয়ে হানু নদীতে ফেলে দেন। এতে রাগান্বিত হয়ে টমাস টুইডি গরীব শাহের কাছে মুদ্রাটি ফেরত চান। তখন গরীব শাহ দেওয়ান ওই কর্মকর্তাকে হাত পাততে বলেন। কিছু সময় পর অসংখ্য মুদ্রায় তার হাত ভরে যেতে দেখা যায়। টমাস টুইডি তখন তার নিজের ভুল বুঝতে পেরে তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান এবং তার শিষ্যত্ব গ্রহন করেন।

ইতিহাস খ্যাত এ সাধকের বাড়ি মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার নহাটা গ্রামে। এই গ্রামেরই সাধক শাহ গরীব শাহ দেওয়ান ছিলেন হযরত খানজাহান আলীর শিষ্য। সেই সূত্রে ধারনা করা হয়, পঞ্চদশ শতাদ্বীর প্রথম ভাগেই তার জন্ম। কথিত রয়েছে তিনি একই দিনে একই সময় সাত জায়গায় মৃত্যুবরন করেন, বাংলাদেশের মাগুরা, যশোর, রাজবাড়ি, চিটাগাং এর হালিশহর, ঢাকার গুলিস্থানসহ ভারতের দিল্লি ও কোতকাতায় তার সাতটি মাজার রয়েছে।

তার মহাপ্রয়াণ দিবসে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভক্তরা মিলিতে হয়েছিলেন বাৎসরিক ওরশে তার মাজারে। অনেকেই নানা মনোবাসনা পূরণ ও বিপদ আপদ রোগ থেকে মুক্তির জন্য তার মাজারে দোয়া ও মানত করতে আসেন।

শ্রীপুর থেকে আসা নারী সালমা জানান,  ৪ বছর ধরে এ মাজারে আসছেন মানত করে। অনেক বিপদ আপদ থেকে মুক্তি পেয়েছেন, বিশ্বাস আর ভক্তি আছে বলেই এখানে আসেন বলে জানালেন তিনি।

স্থানীয়রা  জানান, এ এলাকায়  হযরত গরীব শাহ দেওয়ান ছিলেন মানুষের প্রাণ। তিনি নানা গুনে গুনান্বিত ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তার প্রতি মানুষের প্রবল ভালোবাসা থাকার কারণেই প্রতি বছর এখানে অসংখ্য ভক্তের সমাগম ঘটে।

বর্তমান খাদেম মো: আতিয়ার রহমান জানান, প্রতি বাংলা মাসের ৩০ আশ্বিন এখানে ওরশ মহফিল হয়। যেখানে প্রায় ৩০-৪০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে থাকে। মাজারের পবিত্রতা রক্ষার জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবছর ওরশে লোক সমাগম বাড়ছে, আগামীতে আরো বাড়বে।

ট্যাগ: bdnewshour24 মাগুরা