banglanewspaper

মো. রবিউল ইসলাম, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যা করা হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার শেফালি আক্তারকে। এমন দাবি গৃহবধূর পরিবারের। পুলিশ নিহতের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদকে আটক করেছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

একমাত্র মেয়ে লাবণ্যর দিন কাটছে এখন শেফালির ননদ খাইরুনের কাছে। ফাঁকা বাড়ি, নেই কেউ।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানিউল ফেরদৌস দেখতে যান লাবণ্যকে; সাথে ছিলো উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া, তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাবণ্যকে খাবার ও পোশাক দেওয়া হয়। একই সাথে তার সকল ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের ব্রহ্মতল এলাকার সাইবুল ইসলামের মেয়ে শেফালি আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের দর্জিপাড়া গ্রামের খাদেমুল ইসলামের ছেলে লিটন ইসলামের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সামান্য বিষয় নিয়ে শেফালিকে মারধর করতেন লিটন। এ বিষয়ে একাধিকবার সালিসও হয়েছে। গত রবিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ১০ দিন বাবার বাড়ি থাকার পর সন্তান নিয়ে শেফালি স্বামীর বাড়ি ফিরলে পারিবারিক কলহের জেরে আবারো তাঁকে মারধর করেন লিটন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর মুখে কীটনাশক ঢেলে দেন স্বামী ও শাশুড়ি অভিযোগ পরিবারের।

পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, আমরা মেয়েটির জন্য যে কোনো সহায়তা করতে প্রস্তুত। কিন্তু মামলার বিষয় নিয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না, সেটা আদালতের বিষয়। শিশু মেয়েটির যে কোন সমস্যা তিনিই দেখবেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 লাবণ্যে