banglanewspaper

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার: ফেসবুক! এক মহা আলোচিত ও সমালোচিত ধ্বনি। এর আলোচনা ও সমালোচনা ব্যবহার ও উপকারিতা ও অপকারিতা ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করার আর কোন অবকাশ নেই। ভারতীর উপমহাদেশের মতো অকর্ম স্থানে ফেসবুক আবিষ্কারের স্থান থেকেও বেশি গুঞ্জন, আলোচনা ও সমালোচনা হয়ে থাকে। কোথাও ফেসবুক নিয়ে আলোচনা হতে থাকলে মানুষ যথারীতি বিরক্ত হয়ে পড়ে।

কিন্তু তা সত্বেও আমরা কি ফেসবুক ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছি ? বরং এর ব্যবহারকারী প্রতি মূহুর্তে মহামারি আকারে ছড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতি মূহুর্তে এর উপকারীতা ও অপকারিতার প্রভাব পড়ছে শত সহস্র মানুষের উপর।

এর কারণে কেউ কেউ নিজের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিচ্ছেন। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে হারিয়ে যাচ্ছেন চিরতরে। আবার কেউ নিজের রক্তের বাধন ছিন্ন করে আপনজনের নতুনত্বের জন্য ছুটে চলছেন দেশ হতে দেশান্তরে। কেউ আবার এর ফাঁদে পড়ে জীবনের স্বপ্ন ও আশা গুলোকে গলাটিপে হত্যা করে বেঁছে থাকছেন নিষ্প্রাণ নিথর হৃদয় নিয়ে।

ফেসবুক কে পুঁজি করে অনেকেই তার হারানো স্বপ্ন ফিরে পেয়েছেন। অনেকেই তার স্বপ্নকে সফল ও সার্থক করেছেন । ফেসবুকই অনেকের জীবনের জরুরী মূহুর্তের কঠিন সমস্যার দুষ্প্রাপ্য সমাধান পেয়েছেন এমন ইতিহাসও আমাদের কম জানা নেই।

সুতারাং এটি শুধুমাত্র মাধ্যম। তার উপকারিতা, অপকারিতা, সমস্যা, সমাধান ও সম্ভাবনা সবকিছু আমাদের হাতে। আমরাই করতে পারি এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক ব্যবহার।

এটি যেমন কোন কোন পিতামাতার যন্ত্রনার কারণ হয়ে দাড়ায় তেমনই একজন কোন পিতামাতা অথবা অন্য যে কোন ব্যক্তির স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার হওয়ার সক্ষমতাও তাতে রয়েছে।

আমাদের সমাজ এখন অনেক ক্ষেত্রেই ফেসবুকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। প্রবাসী বন্ধু ও আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি কম খরচের মাধ্যম সমূহের মধ্যে এটি অন্যতম প্রধান। অতীতের হারানো কোন তথ্য ও হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে খুঁজে পেতেও ফেসবুকের জুড়ি কম নয়।

সুতারাং ফেসবুকের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করার সময়টি আমাদের নিকট খুবই অতীত। যারা এখন এ ফেসবুককে পুঁজি করে, বিভিন্ন ব্যক্তির প্রোফাইল হেক করে আত্মস্বার্থকে হাসিল করে নিচ্ছে তাদের হাতে বিভিন্ন সময়ে জিম্মি হয়ে পড়ছে বিভিন্ন ব্যক্তি। এতে তাদের চেয়ে আমাদের দায় খুব বেশি। সেটি আমাদের কারো খেয়াল নেই বললেই চলে।

কারণ যে কোন কিছু ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে তা সম্পর্কে প্রগাড় জ্ঞানের অধিকারী হওয়া অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু তাতে আমরা রীতিমতই অজ্ঞ। শুধুমাত্র ফেসবুক নয় । তথ্যপ্রযুক্তির সকল যোগাযোগ মাধ্যম সর্ম্পকে আমাদের জানার কোন বিকল্প নেই।

ফেসবুকের মত আবিষ্কার সমস্ত বিশ্বের মানবজাতির জন্য এক মহা আশির্বাদ। এটিই অনুধাবন ও যৌক্তিক শর্তে মেনে নেয়ই হল আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। কারণ একটি যন্ত্র দিয়ে যেমন কল্যাণময় কর্ম ও অকল্যাণ উভয় করা যায় । ফেসবুকের ব্যপারেও ঠিক সে কথাটিই প্রযোজ্য। ফেসবুক শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ বা বিনোদনের মাধ্যমই নয়। কোন রাষ্ট্র পরিচালনা অথবা বৈশ্বিক নেটওর্য়াকিং এর সক্ষমতাও এর রয়েছে।

সুতারাং এটি একটি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক সম্ভাবনাময় খাত। এর ইতিবাচক সেক্টরগুলোর সঠিক ব্যবহাবের মাধ্যমে এক উন্নত, প্রগতিশীল ও সভ্য মানবগোষ্ঠি তৈরি করা সম্ভব।

লেখক: শিশুসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও উপস্থাপক

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: bdnewshour24 ফেসবুক প্রজন্ম