banglanewspaper

সড়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ই-সোসাইটি। এখান থেকে চালক, পথচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সবাই শিক্ষা নিতে পারবে। পাশাপাশি কোম্পানিভিত্তিক বাস নামাতে পারলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। বিষয়টি সরকার প্রধানকেও একাধিকবার বলেছি।

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক বিষয়টি আমলে নিয়ে কাজও শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে কেন যে হচ্ছে না জানি না। তবে আজকের এই প্ল্যাটফর্ম সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সোমবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘ই-সোসাইটি শিখন কার্যক্রম ও নিরাপদ সড়ক সচেতনতা’ কোর্সের উদ্বোধন করে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী একথা বলেন।

তিনি বলেন, অনলাইনে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কোর্সের প্রশিক্ষণ দিতে চালু হয়েছে ই-সোসাইটি। এটি একটি সচেতনতা ও শিক্ষামূলক ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম যা ই-লার্নিং, ই-মেন্টরিং এবং ই-অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ইতিবাচক আচারণগত পরিবর্তন করবে।

জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, সড়কে এই দুর্ঘটনা কেন? আমাদের দেশে আইন আছে কিন্তু আইন মানার প্রবণতা নেই। এখানে যারা আইন প্রয়োগ করবেন তাদের ভেতরেও দেখা যায় আইন অমান্য করার প্রবণতা কাজ করে। তাছাড়া বড় বড় রাজনৈতিক নেতা-আমলারাও আইন মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। অনেক সময় দেখা যায় সঠিক লেনে গাড়ি না চালিয়ে উল্টো লেনে ভিআইপিরা চলছেন। এতে ট্রাফিক পুলিশেরও সায় রয়েছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর মধ্যে আইন অমান্যকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে, সেটা যে কোনো ক্ষেত্রেই হোক। অথচ আমাদের দেশের মানুষ যখন বিদেশে যাচ্ছেন তখন ঠিকই আইন মেনে চলছেন। এজন্য চাই সচেতনতা এবং আইন মানার প্রবণতা বাড়ানো। এগুলো করতে পারলে একসময় সড়কে দুর্ঘটনা কমে আসবে।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধিতে ই-সোসাইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই কোর্সের মাধ্যমে আমাদের সব বয়সী মানুষ সচেতন হয়ে উঠবে বলে আশা করি। এখান থেকে প্রতিটি মানুষ, বিশেষ করে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তা পারাপার সম্পর্কে আরো বেশি করে জানতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন  ডিনেট-এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন ড. অনন্য রায়হান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ই-লার্নিং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ই-সোসাইটিতে বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক ই-পাঠ্যক্রম পাওয়া যাবে। ই-পাঠ্যক্রমে অংশগ্রহণকারীগণ তাঁদের মতামত ও বিষয়বস্তুর বিশ্নেষণ করতে পারবে। এই মতামত কাঙ্খিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে যেমন ভূমিকা রাখবে তেমনি যু্ক্তিযুক্ত আলোচনা চিন্তাগত-ভ্রান্তি দূরীকরণে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন ই-সোসাইটি উদ্যোক্তা এটিএম কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ই-সোসাইটি মানুষের আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে। শিক্ষণীয় এই প্লাটফর্মে তাই শিক্ষা বিজ্ঞানকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সমাজের সর্বসাধারণের কাছে বোধগম্যতা এবং গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিতার্থে বয়স্ক শিখন ও শিশু শিখনের মিশেলে কোর্সগুলো তৈরি করা হয়েছে যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ আকর্ষণীয় ক্ষেত্রগুলো খুঁজে নিতে পারে।

আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারের অন্তত একজন সদস্য ই-সোসাইটির সচেতনতামূলক কোর্সে অংশগ্রহণ করবেন এবং পরিবারের সদস্যদের সচেতন করবেন।

বিভিন্ন ইস্যূভিত্তিক আলোচনা, তথ্য-উপাত্ত, সেবা প্রাপ্তি অথবা প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত ইত্যাদি বিষয়ে আইন প্রণেতা, নীতিমালা প্রণয়নকারী সর্বোপরি সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সাথে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংযোগস্থাপন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যাশিত ক্ষেত্রে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার জন্যই এডভোকেসির কাজ করবে ই-সোসাইটি।

ট্যাগ: bdnewshour24 সড়ক সচেতনতা