banglanewspaper

এএইচ জুয়েল, তালা (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার তালায় হস্তশিল্প পুথির শো-পিচ, টেইলারিং ও নকশিকাথার কাজ করে আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন উপজেলার পাটকেলঘাটার মিসেস ফরিদা পারভীন।

১৯৯০ সালে ৮ম শ্রেণীতে পড়া কালিন সময় পাটকেলঘাটার মৃত আরশাদ আলী হাওলাদারের পুত্র মনিরুল ইসলামের সাথে বিবাহিত জীবনে পা রাখেন তিনি। শুরু হয় স্বামী সংসার জীবন। স্বামীর স্বল্প আয়ের উপর ভর দিয়ে কোন প্রকার কষ্টে দিন কাটাতে হতো তাকে।

আস্তে আস্তে ৩ সন্তানের জননী হন তিনি। পরে কষ্টের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, স্বামী সংসার সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন ফরিদা পারভীন।

দিশেহারার এক পর্যায়ে মনে আত্মবিশ্বাস আর সাহস নিয়ে ২০০৯ সালে সিদ্ধান্ত নিয়ে নারী উন্নয়ন সংস্থার সদস্য হন তিনি। ২০১২ সালে সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে ৩ মাসের প্রশিক্ষন নিয়ে টেইলারিং এর কাজ শুরু করেন। স্বল্প পুজি থাকার কারনে তালা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহন করেন ফরিদা পারভীন।

এই ঋণ গ্রহনের পর থেকে শুরু হয় তার জীবন সংগ্রামের লড়াই। বাজার থেকে ছিট কাপড় কিনে বিভিন্ন প্রকার পোশাক তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতে লাগলেন তিনি। এতে আয় বেড়ে যায় এবং পাশাপাশি পণ্যের চাহিদাও বেড়ে গেলে শুরু হয় অর্থ সংকট। ২০১৩ এবং ১৪ সালে একই সংস্থা থেকে আবারও ঋণ গ্রহন করেন ফরিদা পারভীন। টেইলারিং এর পশাপাশি শুরু করে হস্তশিল্প পুথির শো-পিচ তৈরির কাজ।

আস্তে আস্তে পুজি ও চাহিদা বাড়তে থাকে। পোশাকের পাশাপাশি পুথির শো-পিচ তৈরি করে বাজারে বিক্রয় শুরু করেন তিনি। পুথির শো-পিচের মধ্যে আপেল, লেবু, কলা, পেয়ারা, টিসুবক্স, ফুলদানি, কলমদানি, চুলের টাকা, শাড়ির ব্রুজ, চাবিরিং সহ বিভিন্ন প্রকার পণ্য ও নকশিকাথা তৈরিতে পারদর্শী তিনি। বর্তমানে তাকে আগের মত আর অর্থ কষ্ট পেতে হয় না।

তার এই অক্লান্ত পরিশ্রম এনে দিয়েছে জীবনের এক সাফল্য। এই সফলতায় ২০১৫ সালে বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে নারী বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে জয়িতা সম্মানরা স্মারক পান ফরিদা পারভীন। একই ভাবে ২০১৭ সালেও তিনি জয়িতা সম্মাননা স্মারক পান। ২০১৮ সালে সরকারে উন্নয়ন মেলায় ষ্টল দিয়ে পুরুস্কার পান ফরিদা পারভীন।

বর্তমানে ৩ সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে ফরিদ হাসান জুয়েল এবারের ডিগ্রী পরীক্ষার্থী, দ্বিতীয় ছেলে ফয়সাল হাসান ২০১৯ সালে এইচ এস সি পরীক্ষার্থী এবং একমাত্র কন্যা মরিয়াম আক্তার জুই ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী। টেইলারিং ও হস্তশিল্প পুথির শো-পিচ তৈরি করে তিন সন্তানের লেখা-পড়া এবং সংসার পরিচালনায় এক সময়ের হিমশিম খাওয়া ফরিদা পারভীন এখন স্বালম্বী।

সংসার জীবন সংগ্রামের পাশাপাশি শিক্ষিত সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ২০১০ সালে উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাশ করেন তিনি। বর্তমানে ফরিদা পারভীন উন্নক্ত বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে এইস এস সি পরীক্ষার্থী। একদিকে লেখা-পড়া, স্বামী সংসার আবার অন্যদিকে নিজের ব্যবসা সহ সব কিছু দক্ষতার সহিত সামলিয়ে নিয়েছেন বুদ্ধিমতি ফরিদা পারভীন।

বর্তমানে ফরিদা পারভীন হস্তশিল্পের কাজ শেখাতে এলাকার ১৪/১৫ জন গরীব অসহায় নারীদের একত্রিত করে স্বালম্বী করার লক্ষে বিনা পয়সার প্রশিক্ষন দিচ্ছেন। তার মধ্যে শাহানাজ পারভীন, সাবিনা, রাজিয়া সুলতানা, পুতুল, হিরা প্রশিক্ষণ শেষ হস্তশিল্পের কাজের মাধ্যমে আস্তে আস্তে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।

ফরিদা পারভীন সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে রেজিঃ নিয়ে পাটকেলঘাটায় একটি সংস্থা করে বর্তমানে তার সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। সাহসী মনোবল আর চেষ্টা করলে নারীরাও পারে। মনোযোগী ও সাহস নিয়ে কাজ করে তারমত স্বাবলম্বী হতে সমাজে অসহায় নারীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ফরিদা পারভীন।

ট্যাগ: bdnewshour24 হস্তশিল্প স্বাবলম্বী