banglanewspaper

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দুজন মুসলিম নারী প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করলো ভোটাররা। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে নবনির্বাচিত নারীদ্বয় হলেন ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিমবিদ্বেষী নীতির মধ্যেও এই দুই নারীর বিজয়কে ইতিহাস রচনার শামিল বলে মনে করছেন দেশটির জনগণ।

গতকাল মঙ্গলবার দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর ফলাফলে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাবের মধ্যেও মিনেসোটা ও মিশিগানের ভোটাররা এই দুই মুসলিম নারী প্রতিনিধিকে ভোট দেন। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গৃহযুদ্ধের কারণে সোমালিয়া থেকে পালিয়ে আসা ৩৬ বছর বয়সী ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাবেক শরণার্থী। এর পর তিনি ‍যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নাগরিকত্ব পান। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওমর যখন শিশু ছিলেন তখনই তিনি প্রায় ৪ বছর কেনিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে ছিলেন। এবার প্রথমবারের মতো কোনও হিজাব পরা মুসলিম নারী যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেন। 

ইলহান মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত হলেও মিশিগানে জয়ী ৪২ বছর বয়সী রাশিদা তালিবও রেকর্ড জয় পেয়েছেন। 

ডেমোক্রেট প্রার্থী রাশিদা মূলত ডেট্রয়িটে জন্মগ্রহণকারী ফিলিস্তিন-আমেরিকান দম্পতির সন্তান। তারা ১৪ জন ভাইবোন। যার মধ্যে রাশিদাই সবার বড়। ডেট্রয়িটে তার বাবা ফোর্ড মোটর কোম্পানির একটি প্রকল্পে কাজ করতেন। 

এর আগে ২০০৮ সালে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে মিশিগান আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সমাজকর্মী রাশিদা তালিব।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার গঠনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে এক ধরনের মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব গড়ে ওঠতে শুরু করে। সেই প্রতিকূলতায় থেকেও ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিবের জয় ইতিহাস গড়েছে বলেও মনে করছেন দেশটির সাধারণ জনগণ। 

ট্যাগ: bdnewshour24 মার্কিন