banglanewspaper

সিরিয়াল কিলাররা শুধু মানুষই খুন করেন না, তারা ধর্ষণ, শিশু উৎপীড়ন কিংবা নরমাংস ভক্ষণের মতো ভয়ঙ্করতম অপরাধগুলোর অনেকগুলোই করেন৷আসুন, জার্মানির কিছু ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলারের সঙ্গে পরিচিত হই৷

বার্লিনের কসাই

কার্ল গ্রসমানকে বলা হয় বার্লিনের কসাই৷ তিনি মানুষ মেরে তাদের মাংস বিক্রি করতেন কালোবাজারে৷ একবার চিৎকার শুনে পুলিশ তার বাড়িতে হানা দিয়ে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে৷ ঠিক কতজনকে গ্রসমান হত্যা করেছেন তার সঠিক হিসেব না থাকলেও অন্তত ২৩ জন নারী তার শিকার বলে ধারণা করা হয়৷ এছাড়া সে সময় আশেপাশে আরো ১০০ জনের নিখোঁজ সংবাদ পাওয়া যায়৷ মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আগেই ১৯২২ সালে তিনি আত্মহত্যা করেন৷

এস-বান খুনি

১৯৪০ থেকে ১৯৪১ সালের মধ্যে নাৎসি যুগের বার্লিনে ৩১টি ধর্ষণ, ৮ জন নারীকে হত্যা এবং আরো ৬ জনকে হত্যার চেষ্টা করেন পাওল অগরসো। জার্মানির যাত্রীবাহী রেলের কর্মচারী ছিলেন অগরসো। মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ার দু’দিনের মাথাতেই তার শিরশ্ছেদ করা হয়।

মৃত্যুর কারিগর

১৯৪৬ ও ১৯৪৭ সালে হার্ৎস মাউন্টেনে বর্ডার গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রুডলফ প্লাইল৷ তখন পূর্ব থেকে পশ্চিম জার্মানিতে অবৈধ নারী পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তার দুই সঙ্গী নারীদের ফাঁদে ফেলে নিয়ে আসতেন। তার বিরুদ্ধে আদালতে একজন দালাল ও নয় নারীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তবে তিনি ২৫ জনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলেও আট বছর পর আত্মহত্যা করেন।

ডুইসবুর্গের মানুষখেকো

ইওয়াকিম গেরো ক্রোল একজন সিরিয়াল কিলার, ধর্ষক, শিশু নিপীড়নকারী ও নরখাদক ছিলেন। ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি ১৪ জনকে হত্যা করেছেন। এদের প্রায় সবাই তরুণী। ১৯৭৬ সালে যখন তাকে গ্রেফতার করা হয়, তখন তার ফ্রিজে মানুষের অঙ্গ পাওয়া যায়। এক চার বছরের কন্যাশিশুর কাঁধ ও হাত রান্না করার জন্য তৈরি রেখেছিলেন তিনি। ১৯৮২ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। ১৯৯১ সালে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তিনি।

রাস্তার শিকারি

ফলকার একার্ট একজন ট্রাক চালক। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কমপক্ষে ৯ জন নারীকে হত্যা করেছেন। এর বাইরে আরো চারজনকে ফলকার হত্যা করেছেন বলে পুলিশের ধারণা। ইউরোপে ঘুরে ঘুরে যৌনকর্মীদের তুলে নিয়ে পরে তাদের হত্যা করতেন তিনি। ভুক্তভোগীর চুল বা অন্য কোনো চিহ্নও রেখে দিতেন। ২০০৭ সালে একার্ট আত্মহত্যা করেন।

ঠাণ্ডা মাথার খুনি

১৯৭০ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে অন্তত চার জন নারীকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে ফ্রিটৎস হোনকার বিরুদ্ধে। শ্বাসরোধ করে যৌনকর্মীদের মেরে ফেলতেন তিনি। এরপর শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে ফেলতেন। একবার ঘরে আগুন লেগে যাবার পর দমকলকর্মীরা তার বাড়িতে ভিক্টিমদের শরীরের বিভিন্ন অংশ লুকানো অবস্থাতে পান।

বিষাক্ত নার্স

কোলন শহরের এই নার্সের নাম মারিয়ানে ন্যোলে। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বিষ দিয়ে ১৭ জন রোগীকে হত্যা করেন। আরো ১৮ জনকে হত্যার চেষ্টা করেন। তবে তার বিরুদ্ধে মাত্র ৭ জনের হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এই নারী কখনোই তার অপরাধ স্বীকার করেননি। এখনো তিনি যাবজ্জীবন জেল খাটছেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 জার্মানি ভয়ঙ্কর কিলার