banglanewspaper

জাপানের ‘গিফু’ অঞ্চলে এখনো ১৩০০ বছর আগের মতো পাখি দিয়ে মাছ ধরা হয়৷ ‘উকাই’ নামের এই বিশেষ মাছ ধরার রীতিতে জাপানের গিফু অঞ্চলের নাগারা নদীতে নামানো হয় পানকৌড়িদের৷ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে, মশাল জ্বেলে জেলে বা ‘উশো’রা মাছ ধরতে নামেন৷

উশোদের ধৈর্য ছাড়া এই ‘উকাই’ সম্পন্ন করা অসম্ভব৷ সূর্য ডোবার পর বিশাল আকারের মশাল জ্বেলে ছোট ছোট ট্রাউট মাছ ধরার এই রীতি অতীতে ইউরোপে প্রচলিত থাকলেও বর্তমানে তা কেবল চীন বা জাপানেই দেখা যায়৷  ‘উকাই’ এর জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ প্রজাতির পানকৌড়ি, যাদের জাপানের ইবারাকি প্রান্ত থেকে এই অঞ্চলে আসার পর ধরে ফেলেন উশোরা৷ এরপর তিন বছর ধরে চলে তাদের প্রশিক্ষন দেওয়ার পালা৷ প্রশিক্ষণ শেষে প্রতি বছরের মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চলে এই মাছ ধরা৷

দড়ি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয় একসাথে বেশ কয়েকটি পানকৌড়িকে৷ উশোর হাতে ধরা দড়ির অন্য অংশ আলগা করে বাঁধা থাকে পানকৌড়ির গলায়৷ লম্বা সময় ধরে প্রশিক্ষণের ফলে পাখিরা মাছ খায় না৷ বরং মাছগুলি ধরে উশোর কাছে এনে দিয়েই আবার লেগে পড়ে মাছ ধরায়৷

৪৬ বছরের শুজি সুগিয়ামা তার বাবার কাছ থেকেই উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন উশো হবার প্রশিক্ষণ৷ পাঁচ প্রজন্ম ধরে তার পরিবার এই অভিনব ধারায় জীবিকা অর্জন করে চলেছে৷

মাছ ধরার এই রীতি কয়েকশ’ বছর পুরোনো হলেও ১৮৯০ সালে রাজপরিবারের পক্ষে বিশেষ লাইসেন্স দেওয়া শুরু হয়৷ হারিয়ে যেতে বসা এই শিল্পের জন্য রাজকীয় লাইসেন্স পেয়েছেন এমন মাত্র নয়জন উশো বর্তমানে এই কাজের সাথে যুক্ত৷ বছরে আটবার তারা রাজপরিবারের হয়ে মাছ ধরতে নামেন৷ এই কাজের জন্য তাদের ৮,০০০ ইয়েন অর্থাৎ ৭১ মার্কিন ডলার বেতন দেওয়া হয়।

ট্যাগ: bdnewshour24 পাখি