banglanewspaper

তুহিন জোয়ারদার, শৈলকুপা: অসুস্থ মেয়ের কিডনির অপারেশনের জন্য অসহায় বৃদ্ধ পিতাকে শৈলকুপার ইউএনও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করলেন।

শৈলকুপার চর বাখরবা গ্রামের নবম শ্রেনীর ছাত্রী লাইলী খাতুন। দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনিতে পাথর নিয়ে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন। অভাবের সংসারে তার পিতা সোহরাব কারিগর অর্থাভাবে মেয়ের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না। বড় মেয়ের বিয়ে দিতেই সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন। তার উপর মেঝো মেয়ে গুরুত্বর রোগাক্রান্ত। আবার ছোট আরেকটি মেয়ে ও ছেলের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হয়। সব মিলিয়ে তিনি বড়ই অসহায়ত্বের মধ্যে দিনযাপন করেন। পরের ক্ষেতে কাজ করে ও নদী থেকে মাছ ধরে কোন রকমে সংসারের হাল ধরে রেখেছেন। উপায়ন্ত না পেয়ে তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মেয়ের চিকিৎসা খরচের আর্থিক সহযোগিতার দাবী নিয়ে।

মঙ্গলবার সকালে তিনি শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ উসমান গনির অফিস কক্ষে এসে আর্থিক সহযোগিতার অনুরোধ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসুস্থ্য লাইলীর ডাক্তারী পরিক্ষার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়ায় মেয়ের অপারেশনের জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। পাশাপাশি শৈলকুপা ফিজিওথেরাপী সেন্টারের পক্ষ থেকে অসহায় ব্যক্তিদের সহযোগিতার জন্য দেওয়া মাসিক অর্থের একমাসের অর্থ অসহায় বৃদ্ধ পিতার হাতে তুলে দেন। 

সেই সাথে অসহায় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তবে সোহরাব কারিগরের কোন ব্যাংক একাউন্ট বা বিকাশ নাম্বার নেই বলে তিনি জানান।

এর কিছুক্ষণ পরে আরেকজন ব্যক্তি তার এস,এস,সি পরীক্ষার্থী ছেলেকে নিয়ে আসেন ফরমপূরণের জন্য আর্থিক সহযোগিতার দাবী নিয়ে। পরে তাকেও ফরম পূরণের নগদ অর্থ প্রদান করেন এই ইউএনও। 

মুহুর্তেই আরেক এতিমখানা ও মাদ্রাসার দুই অন্ধ ব্যক্তি আসেন আর্থিক সহযোগিতা নিতে। কিন্তু পকেটে আর টাকা না থাকায় পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজের মাসিক বেতন উত্তোলন করে তাদেরকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। মাত্র আধাঘন্টা শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষে বসে যা দেখলাম, বাকী দিনতো পড়েই আছে।

জয় হোক এই মহানুভব কর্মকর্তার, তার মত কর্মকর্তাকে পেয়ে আমরা গর্বিত। 
কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দিতে পারবেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 শৈলকুপা