banglanewspaper

বাগেরহাট প্রতিনিধি: সংসারের দারিদ্রতা ঘোঁচাতে স্বামী কবির হাওলাদারকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিল চট্টগ্রামে শোকানুর। সেখানে গার্মেন্টেসে কাজ নিয়েছিলো। সজিব (৭) এবং সবুজ (৩) নামের ছেলে দু'টিকে রেখে গিয়েছিলো নানী রোকেয়া বেগমের কাছে।

এভাবে চলছিল সময় । লোকমুখে একদিন শোকানুর হঠাৎ জানতে পেল সুন্দরবন ও শরনখোলার উপর দিয়া সিডর নামের মহা ঘূর্নীঝর বয়ে যাবে। শোকানুর খুবই বিচলিত হয়ে পড়ে বৃদ্ধ মাতা আর সন্তান দুটির কথা মনে করে। সাবধানে থাকার কথা বলতে বাড়িতে যোগা-যোগ করারও কোন সুযোগ পেলনা শোকানুর।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর হলো ভয়ন্কর সিডর।মোবাইল নেটওয়ার্রক গেল বন্ধ হয়ে। সিডরের দু'দিন পর শোকানুর ও তার স্বামী কবির হোসেন খবর পায় সিডরে বলেশ্বর তীরবর্তি সাউথখালী লন্ড- ভন্ড হয়ে গেছে। মানুষ মরেছে পশু পাখির মতো। ঘর- বাড়ি গেছে নিশ্চিন্হ হয়ে। দুই ছেলের কথা মনে করে অস্থির শোকানুর স্বামীকে নিয়ে বাড়ি পথে রওয়ানা দেয়।

বাড়ি এসে আর বাড়ি খুজে পায়না তারা। ঘর- বাড়ির কোন চিন্হ নেই। চির চেনা গ্রামখানি চেনাই যাচ্ছেনা। সজিব আর সবুজ দু' ছেলের নাম ধরে ডাকতে থাকে আর তাদের খুজতে থাকে। কখনো নদীর চরে কখনো দুমড়ে- মুচড়ে যাওয়া গাছ পালার স্তুপের মধ্যে খুজতে থাকে মা' আর তার মানিকদের লাশ। পাগলিনীর বেশে শুধু ছুটতে থাকে শোকানুর। যাকে সামনে পায় তার কাছে জানতে চায়.. আমার সজীব কোথায় ? আমার সবুজকে দেখছো তোমরা?

আমার মা? কেউ বলতে পারেনা সিডর রাতে কে কোথায় হাড়িয়ে গেছে। অথবা বেওয়ারিশ লাশ কে কোথায় দাফন করেছে কে জানে। এক সময় যেন কে একজন শোকানুরকে ডেকে বলে এই কবর দুটো তোমার ছেলেদের। পাগলীনি শোকানুর চিৎকার করে আছরে পড়ে কবরের গায়ে (উপড়)।

ছেলেদের নাম ধরে ডাকতে থাকে, সজিব সবুজ তোরা উঠে আয় আমি তোদের মা" তোরা আমার বুকে উঠে আয়! শোকানুর ছেলেদের দেখার জন্য কবর ছালাতে থাকে। স্বামী কবির ও প্রতিবেশীরা তাকে কবরের পাশ থেকে সড়িয়ে নিয়ে যায়।

কিছুক্ষন পরে আবার কবরের পাশে এসে শোকানুর নিজের গালে নিজে চপরাতে থাকে আর প্রলাপ বকে... শোকানুর তুই একটা শয়তান! তুই একটা পাজি! তুই সজিব- সবুজকে ফালাইয়া কেমনে টাকা কামাইতে গেলি? তুই এত নিষ্ঠুর! কি করে তুই পারলি এই শিশুদের বলেশ্বর নদীর তীরে ভাঙ্গা ঘরে ফেলে রেখে যেতে।

ট্যাগ: bdnewshour24 শোকানুর শোকগাঁথা