banglanewspaper

ইবি প্রতিনিধি: প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতির মধ্য দিয়ে গত ৪ ও ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অনার্স (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা।

শুধু প্রশ্নপত্রে নয় ফলাফলেও অসঙ্গতির হিড়িক পড়েছে । ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। দূর্ভোগে ভর্তিচ্ছু সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দোষ মুক্ত থাকার জন্য গঠন করা হচ্ছে কথিত তদন্ত কমিটি।

জানা যায়, এবারের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১০৩৫ টি আসনের বিপরীতে ১৮ হাজার ৮১১ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) উক্ত ইউনিটের ফল প্রকাশিত হয়। ফলাফলে ব্যাপক অসঙ্গতি মিলে।  এতে দেখা যায়  ইংরেজিতে ২৫ নম্বরের মধ্যে ০.২৫, ১.০০, ১.৫, এবং ৩ পেয়েও মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে অনেক শিক্ষার্থী।

দ্বিতীয় শিফটে ০৯২৭০ রোলের শিক্ষার্থী ইংরেজি ১ পেয়ে মেধা তালিকায় ২৫৮তম, প্রথম শিফটে ০২৬১৯ রোল নম্বরধারী শিক্ষার্থী ১.৫ পেয়ে মেধা তালিকায় ২৬৭ তম এবং একই শিফটের ২০৬২৩ রোল নম্বরধারী অপর এক শিক্ষাথী ৩ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় তম ২৮১ হয়েছে। এছাড়া একই ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটের ১৩৪০৪ রোল নম্বরধারী এক শিক্ষার্থী -১.২৫ পেয়ে প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকায় ৪৬৪ তম হয়েছে।

লিখিত পরীক্ষায় শর্ত দেয়া হলেও এমসিকিউতে বাংলা, ইংরেজি এবং সাধারণ জ্ঞানে  কোনো ধরণের শর্ত না দেওয়ায় ফেল করেও মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। এর আগে ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা দিলেও পরীক্ষা বাতিল না করে তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে ‘সি’ ইউনিটের ফলাফল নিয়েও শঙ্কায় আছেন  অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা প্রথম বারের মত ৬০ নম্বরের এমসিকিউ’র পাশাপাশি ২০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শর্ত দেওয়া হয় কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চাইলে তাকে ৬০ নম্বর এমসিকিউ’তে ৩৩ নম্বর এবং লিখিত ২০ নম্বরের মধ্যে ৭ নম্বর পেতে হবে।

তবে কোটায় লিখিত অংশে ঠিক রেখে এমসিকিউতে ২৪.৪০ শর্ত দেয়া হয়েছিল।  কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় পাশের সংখ্যা কম নগণ্য। ফলে আসন শূণ্য থেকে যাওয়ার আশঙ্কায় শর্ত শিথিল করা হয়। এমসিকিউতে ৩৩ এর পরিবর্তে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ১৮ নম্বর আর কোটায় ১৪.৬২ নম্বরের শর্ত দেয়া হয়েছে। বুধবার কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

লিখিত পরীক্ষায় পাশের শর্ত শিথিল করে ৭ এর পরিবর্তে ৩ করা হয়েছে। এতে কোনো শিক্ষার্থী এমসিকিউতে ১৮ এবং লিখিত পরীক্ষায় ৩ পেলে ভর্তি হতে পারবে। শর্ত শিথিল করেও পাশের হার দাড়ায় শতকরা ২০.২৬ শতাংশ। 

এদিকে প্রশ্নপত্র এবং ফলাফলে অসঙ্গতি হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী আওন নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে,  লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন খুবই কঠিন হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের আয়ত্ত্বের বাইরে ছিল। লিখিত পরীক্ষার উপর নির্ভর করে যদি ফলাফল দেওয়া হয় তাহলে এমসিকিউ’র কোনো যৌক্তিকতা খোঁজে পাইনা। তাছাড়া নির্দেশনাবলীর কোথাও লিখিত পরীক্ষা উপর নির্ভর করে ফলাফল দিকে এটা লেখা ছিল না।’

এ নিয়ে শিক্ষক মহলের মধ্যেও চলছে গুঞ্জন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র প্রফেসর বলেন, ‘ প্রতিবার ভর্তি পরীক্ষার অসঙ্গতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা  বিমুখী হয়ে যাবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, ‘বি’ ইউনিটের সমন্ময়কারী প্রফেসর ড. মুহা: সাইদুর রহমান বলেন, ‘কোচিং এবং গাইড নির্ভরতা কমাতে আমরা এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়েছি। মূলতা শিক্ষার্থীদের মুখস্থ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আসার জন্য এবারের প্রশ্নপত্র মডারেট করা হয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 ইবির ভর্তি পরীক্ষা