banglanewspaper

ফরহাদ খান, নড়াইল: বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা (৭৯) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বুধবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি ডায়াবেটিকসহ বার্ধক্যজনিত কারণে গত ২৭ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি হন।

ফজিলাতুন্নেসার নিকটাত্মীয় আসাদ রহমান জানান, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নড়াইলের ধুড়িয়া গ্রামে ফজিলাতুন্নেসাকে দাফন করা হবে। এর আগে আসর নামাজ বাদ শহরের কুড়িডোব মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। অসুস্থ হওয়ার আগে ফজিলাতুন্নেসা নড়াইল শহরের বাড়িতেই বসবাস করতেন।

তিন মেয়ে ও এক ছেলেসহ আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন তিনি। ১৯৫৭ সালের দিকে নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামের মোহাম্মদ আমানত শেখের ছেলে নূর মোহাম্মদের সাথে পাশের ধুড়িয়া গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে ফজিলাতুন্নেসার বিয়ে হয়।

মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নূর মোহাম্মদের জন্মস্থান মহিষখোলার নাম পরিবর্তন করে ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ ‘নূর মোহাম্মদনগর’ করা হয়। 

নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন। বর্তমানে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি) নামে প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন। পরে ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান নূর মোহাম্মদ। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। এ সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্ণেল (অব:) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর এসএ মঞ্জুর।

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে মৃতুবরণ করেন নূর মোহাম্মদ। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন। 

ট্যাগ: bdnewshour24 বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ