banglanewspaper

স্বরূপকাঠী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর-স্বরূপকাঠী)আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে জয়ী হলেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শ. ম. রেজাউল করিম। রবিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন তিনি।

এডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম টেলিভিশন টকশোতে পরিচিত মুখ। তার বাড়ী পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের তারাবুনিয়া গ্রামে। তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য এবং ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান। পেশাগত জীবনে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার আইনজীবী ছিলেন। ১/১১ এর সময়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী ছিলেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, শেখ সেলিমেরও আইনজীবী ছিলেন তিনি। বিগত ১/১১ এর সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কারাবন্দী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সর্ব প্রথম সাক্ষাৎ করে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনী লড়াই শুরু করেন শ. ম. রেজাউর করিম।

ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এডভোকেট শ ম রেজাউল করীম ১৯৮০ সালে খুলনা দৌলতপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন, ১৯৮১ সালে খুলনা কৃষি কলেজের জিএস ছিলেন। ১৯৮৯ সালে নাজিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সাল থেকেপিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য পদে রয়েছেন। চলতি বছর তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। পিরোজপুর-১ আসনে শ ম রেজাউল করিম দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় নির্বাচনী এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে দলীয় নেতাকর্মীরা।

সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহ আলমের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা সবাই মনোনয়ন পাওয়ার জন্য মাঠে ছিলাম। দলের প্রধান জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ভাল মনে করে যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। সকলেরই একটি অঙ্গীকার ছিল দলকে রাহুমুক্ত করা। সেখানে দুর্নীতি, দাম্ভিকতা, দুর্বৃত্তায়নমুক্ত যেই মনোনয়ন পান আমরা সকলেই এক হয়ে কাজ করব। এখন সকলে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হবে মূল লক্ষ্য।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অন্যতম পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র মো. হাবিবুর রহমান মালেক বলেন, সভানেত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমরা তাকে স্বাগত জানাই। নৌকা বিজয়ী করতে দলের সকল নেতাকর্মীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করব। জাতির জনকের স্বপ্ন পূরণে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী বানাবো।

মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না বলেন, আমরা মাঠে কাজ করেছি। মনোনয়ন চেয়েছি। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তাকে নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করে জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পূনরায় ক্ষমতায় বসাতে হবে।
পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল হাকিম হাওলাদার বলেন, পিরোজপুর-১ আসনকে রাহুমুক্ত করে শ.ম রেজাউল করিম মনোনয়ন পাওয়ায় পিরোজপুরের সর্বস্তরের মানুষ খুশি হয়েছে। জেলার আইনজীবীরা খুশি হয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। সব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এক হয়ে কাজ করে আমরা পিরোজপুর-১ আসন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

এদিকে, পিরোজপুরের ৩টি আসনের মধ্যে পিরোজপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বাকী দুটি আসন পিরোজপুর-২ (ইন্দুরকানী-ভান্ডারিয়া-কাউখালী) এবং পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া ও ভান্ডারিয়ার তেলিখালী ইউনিয়ন) আসনে আওয়ামী দলীয় কোন প্রার্থীতা ঘোষণা করা হয়নি। এ দুটি আসনে মহাজোটের শরিক দুটি দলের প্রার্থীতা দেয়া হবে বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে পিরোজপুর-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী জাতীয়পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং পিরোজপুর-৩ আসনে জাতীয়পার্টি (এরশাদ) এর প্রার্থী ডা. রুস্তম আলী ফরাজীকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে গুঞ্জণ শোনা যাচ্ছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 স্বরূপকাঠী পিরোজপুর