banglanewspaper

মনির হোসেন জীবন, নিজস্ব প্রতিনিধি: ইট-কংক্রিটের এই শহরে কর্মযজ্ঞে আমরা প্রায় হাঁপিয়ে উঠি। কর্মক্লান্ত জীবনের মাঝে একটু আনন্দে কাটাতে সবারই মন চায়। কিন্তু পরিবার-পরিজন নিয়ে কোলাহল মুক্ত পরিবেশ খুবই সামান্য আমাদের এই শহরে।

তবে কর্মক্লান্ত জীবনে একটু শান্তি খুঁজতে, প্রিয়জনের সাথে আনন্দ উপভোগ করতে রাজধানীর সন্নিকটে সবুজের মায়ায় সব বয়সী মানুষের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠেছে 'নন্দন পার্ক'। এরই মধ্যে দেশের মধ্যে শীর্ষ বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে নিজেদের পরিচয় পাকাপোক্ত করেছে 'নন্দন পার্ক'।

তাইতো শহরের কোলাহল ছেড়ে সবুজের মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে মন খুলে আনন্দ উপভোগ করার সেরা জায়গা হিসেবে বিনোদনপ্রেমীদের কাছে পছন্দের শীর্ষে ' নন্দন পার্ক'।

ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সীমান্তবর্তী এলাকা নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে বাড়ইপাড়াতে অবস্থান সবুজের সমারোহে নান্দনিকতায় ভরপুর 'নন্দন পার্ক' এর । দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুব সহজেই সড়ক পথে আসা যায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এ পার্কে।

পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো দেশের এমন বিনোদন কেন্দ্রের অন্যতম জায়গা এখন রাজধানীর সন্নিকটে ঢাকা ও গাজীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা বাড়ইপাড়ার 'নন্দন পার্ক'। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন নানা বয়সী মানুসষের পদচারণায় মুখরিত থাকে নন্দন পার্ক। 

আসুন জেনে নেয়া যাক নান্দনিকতায় ভরপুর নন্দন পার্কের খুটিনাটি বিষয়গুলোঃ 

২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে ৩৩ একর জমির মধ্যে নন্দন থিম পার্ক যাত্রা শুরু করে। যাত্রা শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে নন্দন পার্ক। একপর্যায়ে নিজস্ব রাইডের জনপ্রিয়তা ও নান্দনিকতা আর সবুজের সমারোহে পার্কটিকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। বিনোদনপ্রেমীদের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছে নন্দন পার্ক।

নন্দন পার্কের বিশেষত্ব বলতে গেলে অনেক। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে যে বিষয়গুলো এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মনকে প্রশান্তি দেয় সেগুলো হলো- পার্কের সর্বত্র রয়েছে সবুজের সমারোহ। রয়েছে ভিনদশীসহ দেশীয় জাতের বিভিন্ন ধরণের গাছপালা। আর এসব সবুজ প্রকৃতির মাঝে শান্ত মনে হারয়িে যাওয়া যায়। সবুজ ছায়ায় নিজের মনকে শান্তিতে পুলকিত করা যায়। সকল কৃত্তিমত্তার মাঝেও সবুজের নান্দনিকতার পড়শে নন্দন পার্ক অনন্য।

নন্দন পার্কে রয়েছে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন বিভিন্ন রাইড ও ওয়াটার ওয়ার্ল্ড। বিনোদনকেন্দ্র নন্দন পার্কে যে সকল রাইড জনপ্রিয়তা পেয়েছে এগুলো হল- কেবল রেকার, ওয়াটার কোষ্টার, ক্যাটার পিলার, মুন রেকার, প্যাডেল বোট, আইসল্যান্ড, নেট ও বল, রক ক্লাম্বিং, জিপ স্লাইড ইত্যাদি।

ছোট্ট শিশুমনিদের জন্যও নন্দন পার্ক সেরা।বাচ্চাদের জন্য নন্দন পার্কে রয়েছে ফান গেইম, সফট বল ক্যানন, বাম্পার কার, ফাইভ ডি সিনেমা, সুইং চেয়ার, নন্দন প্লানটেনিয়াম, ড্রাই সুয়িং চেয়ার, ওয়াটার ওয়ার্ল্ডসহ নানা ধরণের রাইড।

এছাড়া ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে রয়েছে ৮টি রাইড। কিডস ও ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে রয়েছে ২০টিরও অধিক রাইড। সবগুলো রাইডে চড়ে শিশুরা দারুণ মজা পায়, আনন্দে কাটে শিশুদের সারাক্ষণ।

সমুদ্রের আছড়ে পড়া ঢেউরের স্বাদ পেতে কে না ভালবাসে। নন্দনে রয়েছে ওয়েভ পুল। সমুদ্রের ঢেউয়ের মত এখানেও রয়েছে হালকা ঢেউ, উত্তাল ঢেউ এবং মাঝারি ঢেউ।

স্যুট ও ফ্যামিলি কার্ভ টিউব স্লাইডও মজাদার রাইড। প্রায় তিনতলা উঁচু এই প্যাঁচানো আকৃতির টিউবের মধ্য থেকে সোজা পানিতে পড়া যায়। ওয়াটার ফল এন্ড মস্টিতেও দারুণ উপভোগ করা যায়। এখানে কুয়াশা, জলপ্রপাত, ইলেশ গুড়ি বৃষ্টি উপভোগ করা যায়।

সসম্পূর্ণ নিরাপত্তার চাদরে ঢাঁকা নন্দন পার্ক হকারমুক্ত, ভিক্ষুকমুক্ত। নন্দন পার্কের বিস্তৃত জায়গা জুড়ে বিভিন্ন দিবস উদযাপন করা যায়। নন্দন পার্ক পিকনিকের জন্য দারুন জায়গা। যেকোন সভা, সেমিনার ও অনুষ্ঠান করার জন্য উপযোগী স্থান নন্দন পার্ক।

এছাড়া প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে নন্দন পার্ক নিজস্ব উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পূজা, ঈদ ইত্যাদি উদযাপন করে আসছ।

নন্দন পার্কে আগত দর্শনার্থীদের জন্য নন্দন পার্কের সামনে গাড়ি রাখার জন্য রয়েছে সু-ব্যবস্থা। এখানে ১,৫০০ গাড়ি রাখা যায় যে কোন ধরণের ঝামেলা ছাড়াই।

সবুজের সমারোহ, প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যে ভরপুর নন্দন পার্কে রাত কাটানোর সুব্যবস্থা রয়ছে। স্বল্প খরচে রাত্রি যাপনের জন্য এখানে রয়েছে 'নন্দন ভিলেজ' নামের সুন্দর সুবিশাল কটেজ।

নন্দন পার্কে প্রবেশ করতে ৯০ টাকা মূল্যের টিকিট কাটতে হয়। ওয়াটার ওয়ার্ল্ডের অন্যান্য রাইড সহ প্রবেশমূল্য ২৯৫ টাকা। ওয়াটার ওয়ার্ল্ড ছাড়া পার্কে প্রবেশ ও অন্যান্য রাইডে চড়লে ১২০ সে.মি এর বেশি উচ্চতা সম্পন্নদের খরচ হবে ১০৫ টাকা এবং ১৫০ সে.মি এর কম উচ্চতা সম্পন্নদের জন্য পার্কে প্রবেশ ও সব রাইড মিলিয়ে খরচ হবে ২০০ টাকা। ৮০ সে.মি এর নিচে যারা তাদের খরচ লাগবে না। এছাড়া কেউ চাইলে শুধু প্রবেশমূল্য দিয়ে প্রবেশ করে নিজের ইচ্ছেমত বিভিন্ন রাইডে চড়তে পারবে। প্রতিটি রাইড ফি ২০-৩০ টাকা।

শনিবার থেকে বৃহস্পতবিার সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আর শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে নন্দন পার্ক।

নন্দন পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (এডমিন, ইভেন্ট এন্ড মার্কেটিং) মাসুদ রানা জানান, নন্দন পার্কে দর্শনার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। শিশুদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় রাইডের ব্যবস্থা। এছাড়া বিভিন্ন ইভেন্ট করার মত রয়েছে বিস্তৃত জায়গা। নন্দন পার্কের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য রয়েছে নিজস্ব সিকিউরিটি ব্যবস্থা। পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্যে আনন্দ উপভোগ করা যায় নন্দন পার্কে। তাই সময় পেলে নন্দন পার্কে ঘুরে আসার আহবান জানান এই কর্মকর্তা।

নন্দন পার্ক'র চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) অব:প্রাপ্ত লে: কর্নেল তুষার বিন ইউনুস বলেন- দর্শকদের জন্য আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ত আছেই তাছাড়া থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ আমাদের দারুন ভাবে সহযোগিতা করছে। সব কিছু মিলে আমরা নন্দন পার্কের ভবিষ্যৎ ভাল দেখতে পাচ্ছি। 

আমরা টিমওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। সবার সহযোগিতা পেলে নন্দন পার্ক এগিয়ে যাবে অনেক দুর বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে নন্দন পার্ক