banglanewspaper

পলাশ ১০ বছর ধরে মিষ্টির দোকানটিতে কাজ করতেন। স্থানীয় কলেজছাত্র বিশ্বজিৎ পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে খণ্ডকালীন সময়ে কাজ করতেন ওই দোকানে। দরিদ্র ছেলেটি সময়ে সময়ে কাজ করে টাকা জমিয়ে কলেজের খরচ চালাতেন।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতের এক আগুনে ভস্ম এ দুজনের স্বপ্ন। ওই দোকানে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে মারা যান তাঁরা। ওই দোকান থেকে তাঁদের পুড়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুর জেলা শহরের পালং বাজারে। বাজারের ১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রশাসন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, শহরের সবচেয়ে বড় বাজার পালং বাজারে গতকাল দিবাগত রাত তিনটার দিকে আগুন লাগার এই ঘটনা ঘটে। প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। নিহত দুজন ওই বাজারের নারায়ণ ঘোষের মিষ্টির দোকান গোপাল সুইটসের কর্মচারী ছিলেন। রাতে তাঁরা দোকানেই ঘুমাতেন।

পলাশ বাড়ৈ (২৫) মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের রূপচাঁদ বাড়ৈর ছেলে। আর বিশ্বজিৎ সরকার (২০) একই গ্রামের রবীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে। তাঁদের মরদেহ শরীয়তপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের তথ্যমতে, দরিদ্র পরিবারের ছেলে বিশ্বজিৎ স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্র ছিলেন। কলেজ ছুটি বা পড়াশোনার চাপ কম থাকলে তিনি সময়ে সময়ে এসে দোকানটিতে কাজ করতেন। কিছুদিন কাজ করার পর যা টাকা পেতেন, তা নিয়ে বাড়ি চলে যেতেন। সেই টাকায় পড়াশোনার খরচ চালাতেন। সবশেষ তিনি এবার মাত্র ১৫ দিন আগে দোকানটিতে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। 

পালং বাজারে আগুন লাগা ও দুজনের মৃত্যুর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহাবুর রহমান শেখ। তিনি বলেন, ১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে। মৃত দুজনের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

আগুন লাগার পর আজ শুক্রবার ভোররাত পৌনে চারটার দিকে শরীয়তপুর জেলা শহর, মাদারীপুর, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সোয়া তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাতটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার কারণ এখনো বলতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। বাজারের ব্যবসায়ীদের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। এতে ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাইরে বাজার লাগোয়া তিনজনের বসত বাড়ি পুড়ে গেছে।

পালং বাজারের কাঁসা পিতলের ব্যবসায়ী রণজিৎ কংশ বণিক বলেন, তাঁর কারখানা, দোকান ও দোকানের পাশে বাড়ি পুড়ে গেছে। রাত সাড়ে তিনটার দিকে হইচই শুনে তিনি ঘুম ভেঙে দেখতে পান, চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা। তিনি পরিবার নিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পারলেও তাঁর বাড়ি, দোকান ও কারখানা পুড়ে গেছে। তাঁর প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24 ঘুমন্ত আগুন