banglanewspaper

মাহমুদুর রহমান: 'জীবে প্রেম করে যে জন সেজন সেবিছে ঈশ্বর-' স্বামী বিবেকানন্দের এই মহান বাণী ধারণ করার যোগ্যতা কী সকলের হয়? যদি হতো তবে সকলেই দেবত্বর অধিকারী হয়ে পৃথিবী থেকে অনাচার অত্যাচার বিতাড়ন করতো।

মানুষকে সেবা করাই যে ঈশ্বরের সেবা কিংবা সৃষ্টিকর্তার সেবা। যিনি এই সেবায় মনোযোগী হন তিনি দেবত্বের অধিকারী। তার ভেতরের প্রকৃত রূপটি দেবত্ব স্বরূপ। বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে আমার এই মতামত।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন মুক্ত হয়ে ভারত বর্ষ স্বাধীন হয় সাম্প্রদায়িক বিভাজন চেতনার আলোকে। পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর বাঙালীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং সাম্প্রদায়িক নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব-পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ নামক দেশটির অভ্যুদয় ঘটে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। অসাম্প্রদায়িক; ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার আলোকেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।

১৯৭৫ সাসালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। স্বাধীন জাতির স্বাধীনতা ছিল না। জাতির জনকের দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন বিদেশে অবস্থান করছিলেন এবং স্বপ্নের বাস্তবায়নের পথ সৃষ্টির জন্য দুই কন্যাকে সৃষ্টিকর্তা বাঁচিয়ে রেখেছেন। ১৯৮১ সালে ১৭ মে রাজনৈতিক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসেন। জাতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয় বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। শেখ হাসিনার মহত্ত্ব এখানেই, এই বাংলার অবিসংবাদিত নেতা তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যাকারীদের প্রতি ক্ষোভ ও ঘৃণা জানিয়ে বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করেননি।

দীর্ঘ ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যেদিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন সেদিন মনে হয়েছিল দেশ নতুন করে আবার স্বাধীন হলো। বিশেষ করে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় ’৭১-এর মতো মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বহু সংখ্যালঘু দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।

২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে প্রথমে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আবার আঘাত আসে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন করা হয়। বাড়ি-ঘর, সহায়-সম্পদ ধ্বংস করা হয়। কী অপরাধ ছিল তাদের? অপরাধ তাদের একটাই তারা নৌকায় ভোট দিয়েছে। 

শেখ হাসিনা সকল সম্প্রদায়ের মনের কথা বোঝেন। তিনি উপলব্ধি করেন-'সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।' তিনি এই তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলেই মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বুকে টেনে নিয়েছেন। ক’জন নেতার পক্ষে তা সম্ভব? তিনি মানব ধর্মের বিকাশে উচ্চতর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন কেননা মনুষ্যত্বেই মানব ধর্মের বিকাশ ঘটে, অন্যভাবে বলতে গেলে মনুষ্যত্বই দেবত্ব। হিংসা-দ্বেষ মোহ-মুক্তির উর্ধে ওঠার মধ্য দিয়ে বাঙালী জাতিকে নতুন পথ দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা। 

২০০১ সালের ভয়াবহতা সামনে আসে। যা ভাবলে আতঙ্কিত করে তোলে। মনে অজানা ভয় কাজ করে। এখানে আমার মতো সকলের ভরসার স্থল শেখ হাসিনা। আজ একথা বলতে দ্বিধা নেই, শেখ হাসিনাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একমাত্র ঠিকানা। কারণ, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে বিপ্লব শুরু হয়েছে তা শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বের গুণেই। নানা রকম বৈরী পরিবেশেও তিনি নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এক কথায় শেখ হাসিনা ছাড়া গত্যন্তর নেই।

পরিশেষে বলতে চাই, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভরসা রাখুন নৌকায়, ভরসা রাখুন শেখ হাসিনায়। নৌকা এ দেশের উন্নয়নের প্রতীক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিন।

লেখক

মাহমুদুর রহমান

সাধারণ-সম্পাদক (নিউইয়র্ক মহানগর যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র শাখা।)

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: bdnewshour24 ভরসা রাখুন শেখ হাসিনা