banglanewspaper

সম্প্রতি টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র প্রত্যাহারকে দায়ী করেছেন মাওলানা সাদের সমর্থকরা।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানান তাবলিগের মুরুব্বি মাওলানা আশরাফ আলী।

তিনি বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক তাবলীগের কার্যক্রম পরিচালনার পরিপত্র সময়োপযোগী ছিল। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর তা স্থগিত করা হয়৷ এর ফলে গত ২ বছরের চলমান সমস্যা মাথাচাড়া দেয়।

১ ডিসেম্বর টঙ্গী ময়দানে সংঘর্ষের বিষয়ে আশরাফ আলী জানান, সকাল থেকে তারা ৫ ঘণ্টা ধৈর্য নিয়ে মাঠে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করেন। তখন মাওলানা জুবায়েরের লোকরা পাথর ছোড়া শুরু করলে, মাঠের ১ নম্বর গেট ভেঙে প্রবেশ করতে বাধ্য হই আত্মরক্ষার্থে।

তিনি অভিযোগ করেন, বহুবার তাবলিগ জামাতের সমস্যা সমাধানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলা হয়, প্রশাসনে চিঠি পাঠানো হয় ১০০ বারের বেশি। কিন্তু কেউ আমলে নেয়নি। সরকারের কোনো এক পক্ষের অবহেলার কারণে টঙ্গীর সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

এই সংঘর্ষে তৃতীয় পক্ষের অবস্থান আছে বলে ধারণা করছেন মাওলানা সাদের সমর্থকরা।

এই তৃতীয় পক্ষ কারা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোনো সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি মাওলানা সাদের সমর্থকরা। পাশাপাশি ওই দিনের ঘটনায় কোনো মামলা হবে কি না তাও স্পষ্ট করেননি তারা।

টঙ্গীর হামলার ঘটনায় নিহত তাবলিগের সদস্য ঈসমাইল মন্ডলের ছেলে মো. জাহিদ হাসান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে জানান, তিনি হত্যা মামলা দায়ের করবেন।

এদিকে তাবলিগের অপর পক্ষ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি তাদের পক্ষের। এ দাবি সত্য নয় বলে জানান নিহতের সন্তান।

সংঘর্ষের ঘটনায় মাওলানা সাদের বিপক্ষ গ্রুপের ১১টি গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে স্পষ্ট করেছেন মাওলানা আশরাফ আলী৷ তিনি জানিয়েছেন, ওই দিন তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বাবু সালাম মাদ্রাসার ছাত্ররা এয়ারপোর্ট এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর করে৷

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনার পাশাপাশি তার সাক্ষাৎ চান মাওলানা সাদের সমর্থকরা। একই সঙ্গে সাতটি দাবি উপস্থাপন করেন তারা। দাবিগুলো হলো- তাবলিগের দুটি পক্ষ সারা দেশে তাদের কার্যক্রম ভিন্ন ভিন্ন দিনে পরিচালনা করবে। এক পক্ষ বিপরীত পক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত বা মৌখিক অপপ্রচার চালাতে পারবে না। দেশের সকল মসজিদে একই সময়ে দেশি-বিদেশি জামাত অবস্থান করবে না। যে পক্ষ আগে আসবে তারা অবস্থান করবে। বাকি পক্ষ সুবিধামতো অন্য মসজিদে যাবে। উভয় পক্ষ ইজতেমায় দেশী-বিদেশী মুরুব্বিদের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। কেউ বাধা দিতে পারবে না। তাবলিগের দুই পক্ষের বিরোধে মাদ্রাসা ছাত্রদের ব্যবহার করা যাবে না। দুই পক্ষের বিরোধে মাদ্রাসার শিক্ষক, আলেমরা জড়াতে পারবেন না। কোনো এলাকায় বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 তাবলিগ