banglanewspaper

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার পরই আলোচনায় আসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ভাগ্নে এস এম শাহজাদা। এবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়লেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনে নৌকার এই মাঝি। 

তবে শাহজাদা জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগত কাজে তার মামার (সিইসি কে এম নূরুল হুদা) সঙ্গে দেখা করতে ইসিতে এসেছিলেন। 

সোমবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির দফতরে নূরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার আশা ব্যক্ত করেন। 

সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান- আপনি পটুয়াখালী থেকে নির্বাচন করছেন। তাহলে কী কারণে হঠাৎ ইসিতে এলেন? আপনি নিজেও জানেন, আপনার মামা নির্বাচন কমিশনের প্রধান।

উত্তরে সিইসির ভাগ্নে বলেন, ‘একেবারে ব্যাক্তিগত কাজে এসেছি। আমি নির্বাচন কমিশনার মহোদয়ের মা অর্থাৎ আমার নানি খুব অসুস্থ, তার ওষুধ কেনার জন্য প্রেসক্রিপশন নিয়ে এসেছি। কারণ স্থানীয় এলাকায় এই ওষুধ পাওয়া যায় না। প্রেসক্রিপশন দিয়েই চলে এসেছি। আর কোনও কাজ ছিল না।’ 

আপনি একজন বৈধ প্রার্থী তাহলে ইসিতে কেন আসলেন? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আজই ঢাকায় এসেছি। সেখান থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে এসেছি। সেটা কিভাবে দেবো এখানে না আসলে।’ 

আপনি এর আগেও এখানে এসেছিলেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সেটাতো অনেক আগে, সেটা তো এখন না; সেটা তফসিলের আগে।’

আপনি কি সিইসি মহোদয়ের কাছে কোনও বিশেষ সহোযোগিতা চেয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাদা বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। সবার জন্য যে নিয়ম আমার ক্ষেত্রেও সেই নিয়মেই চলবে। এতে আমার সহোযোগিতা চাওয়ার কিছু নেই। কোনও কারণ নেই।’

আপনি সিইসির ভাগ্নে এক্ষেত্রে তিনি কি আপনার ইসিতে আগমনে বিব্রত হয়েছেন, আপনার প্রার্থী হওয়ার ব্যপারে আপনার মামার কোনও সম্মতি ছিল কি না?

এস এম শাহজাদা বলেন, ‘না এ বিষয়ে তার সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। নির্বাচন আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। উনি কি করছেন আমি কোথায় কি করছি এটাতো খোঁজ রাখার ব্যাপার না। আমি তো তার পরিবারের অংশ না। আমি আত্মীয়, কিন্তু তার পরিবারের অংশ না।’

নির্বাচনে আসা নিয়ে সিইসির পক্ষ থেকে কোনও বাধা ছিল কি না কিংবা, তার সম্মতি ছিল কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, একজন নাগরিকের নির্বাচন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। আমি তাই করেছি। আমি নিজে স্বাবলম্বী। তাই যেভাবে চলার সেভাবে চলি।’ 

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যা আশা করেছিলাম তার থেকে অনেক সুন্দর। আমি শতভাগ আশবাদী জয়ের ব্যপারে। আমার এলাকায় যেতে যে পথটা ২০ মিনিট সময় লাগে সে পথটা যেতে সাড়ে তিন ঘণ্টা আমার লেগেছে। আমি পথটুকু হেঁটে গিয়েছি। মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। পরিবর্তন মানুষের মনের ভেতরে আছে। তারা পরিবর্তন চায়। সেটা আমি সিইসির ভাগ্নে বলে না। মানুষের চাওয়া ছিল। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয়। সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে দেশটা পরিচালিত হয়। আর আমার এলাকার মানুষ যেন ভাল থাকে সেজন্য আমি কাজ করবো।’

ট্যাগ: bdnewshour24 ইসি