banglanewspaper

মাননীয় উপাচার্য মহোদয়,

অাসসালামু অালাইকুম। ২০১৫ সালের শেষ দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। নতুন অভিভাবকের অপেক্ষায় থাকা ছাত্র-ছাত্রীরা পেয়েছিল অাশার বাণী। এ বছরে অাপনার হাজারো সফলতা রয়েছে, যেমন স্মার্ট অাইডি কার্ড, নতুন নতুন ডিপার্টমেন্ট, শিক্ষক সংকট দূরীকরনের চেষ্টা, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন, অাবাসন সংকট দূরীকরন ইত্যাদি। যা প্রতিটি শিক্ষার্থীদের হৃদয় কেড়েছে বলেই অামাদের বিশ্বাস।  এত ভাল উদ্যোগের মাঝেও সকল ছাত্র ছাত্রীর প্রানের দাবী সেশন জট কমানোর কোন প্রক্রিয়া অামরা দেখতে পাই না।

প্রিয় অভিভাবক,

২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ সেশনের সেশন জট না থাকলেও,  অন্য ব্যাচগুলোর সেশন জট মহামারী অাকার ধারন করেছে।বিগত দশ বছরের সরকারে ভাল উদ্যোগ গুলোর মধ্যে সেশন জট দূরীকরন অন্যতম। ঢাবি, জবি, জাবি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও একদিনের সেশন জটও নেই।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন খরগোশের মত একাডেমিক কার্যক্রম চলছে, সেখানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কচ্ছপ গতিতেও এগুচ্ছে না। অামি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বর্তমান অবস্থার সার সংক্ষেপ তুলে ধরছিঃ

১. ২০১২-১৩ সেশনের এখনো মাস্টার্স সম্পন্ন হয় নি  

২. ২০১৩-১৪ সেশনের স্নাতক সম্পন্ন হওয়ার কথা ২০১৭ সালে। দূর্ভাগ্যবশত এখন অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষার তারিখ নির্ধারন হয় নি।

৩. ২০১৪-১৫ সেশনের এ বছর (২০১৮) স্নাতক শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তাদের এখনো ৭ম সেমিস্টার পরীক্ষাও হয়নি।

৪. ২০১৫-১৬ সেশনের ৬ষ্ঠ সেমিস্টার শেষ হওয়ার কথা ২০১৮ সালে। কিন্তু এখনও ৫ম সেমিস্টার পরীক্ষার তারিখ নির্ধারন হয় নি। একই সেশনের মার্কেটিং সহ অনেকগুলো ডিপ্টে ৬ষ্ঠ সেমিস্টার পরীক্ষা চলমান।  কিছু কিছু ডিপার্টমেন্টের ৫ম সেমিস্টার শেষে ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ক্লাস চলছে।

অাপনি হয়ত জেনে থাকবেন যে,  চেয়ারম্যান স্যার সহ অন্য স্যাররা সেশনজটের ব্যাপারে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করে।

অামাদের প্রশ্ন হলো- সেশনজট বিহীন ডিপার্টমেন্টগুলো  এর ব্যাপারে কি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অালাদা নিয়ম চালু করেছে! নাকি অামরা ষড়যন্ত্রের শিকার!

স্যার,

বাবা মা অাত্মীয় স্বজন সবাই তাকিয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলে মেয়ের দিকে।এই বেকারত্বের যুগে হতাশা যখন নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার, তখন সেশন জট এক বিভীষিকার নাম। শিক্ষা  যদি হয় অালো তবে সেশন জট অমাবস্যার কালো রাত। বিশ্ববিদ্যালয় যদি হয় জ্ঞানের ভান্ডার,  সেশন জট তাহলে মুর্খ হওয়ার উদ্দীপক। হাজারো বাবা মা যখন ছেলে মেয়েকে পরিপূর্ণ দেখতে চায়, সেশন জট তখন তাকে ‘হ্দরোগে’ অাক্রান্ত করে।

প্রিয় অভিভাবক,

অামরা বাঁচতে চাই। অন্যকে বাচাঁতে চাই, বাবা মায়ের অাশা পূরন করতে চাই। ভালবাসার মানুষটিকে কাছে পেতে চাই। অামাদের মুক্তি দিন। অাপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকব।

ইতিঃ

অাপনার সন্তানতুল্য ছাত্র

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)।

ট্যাগ: bdnewshour24 সেশনজট নিরসনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়