banglanewspaper

পাবনার চরকোমরপুরে দেখা দিয়েছে কুমির আতঙ্ক। বর্ষার জলে ভেসে আসা একটি কুমির আটকা পড়েছে শুকিয়ে যাওয়া পদ্মা নদীতে। খাদ্য সংকটে কুমিরটি হিংস্র হয়ে ওঠায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎসচাষীরা। বনবিভাগের মাধ্যমে কুমির উদ্ধারে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

পাবনা সদর উপজেলা শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরের গ্রাম চর কোমরপুর। পাশেই পদ্মা নদী। বর্ষার থৈ থৈ জল শুকিয়ে এখন পায়ে হাটা পথ। ধু ধু চরের মাঝে ছোট খালে পরিণত হওয়া নদীতেই গত দশ পনেরদিন ধরে ভেসে বেড়াচ্ছে একটি কুমির। সম্প্রতি, নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে কয়েকজন জেলে প্রথম দেখতে পান কুমিরটিকে। গত এক সপ্তাহে বেশ কটি মাঝ ধরা নৌকায় কুমিরটি হামলা করলে আতংক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসীর মধ্যে।

চরকোমর গ্রামের বাসিন্দা মো. জামাল হোসেন জানান, কয়েকদিন আগে পদ্মা নদীর চরে বরশি নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ কুমিরটিকে মাথা তুলতে দেখি। ভয়ে আঁতকে উঠে আমি বরশি ফেলে দৌঁড়ে এসে সবাইকে খবর দেই। এরপর অনেকেই কুমিরটিকে দেখেছে। ভয়ে চরে কেউ গরু ছাগল চরাতে পারছে না, আবাদ করাও বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) সরেজমিনে চরকোমর গ্রামে পদ্মা নদীতে কুমিরের সন্ধানে গিয়ে জামাল হোসেনের বক্তব্যের সত্যতা মেলে। প্রায় এক ঘণ্টা নৌকায় পদ্মা নদীতে ঘুরে দেখা পাওয়া যায় কুমিরের। প্রায় ছয় ফুট লম্বা কুমিরটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় শুকিয়ে খালে পরিণত হওয়া পদ্মার জলে।

কুমিরের ভয়ে নদীতীরে কৃষিকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন গ্রামবাসী। গবাদি পশু ও শিশুদের নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। একাধিকবার অতি উৎসাহীরা নিয়েছেন কুমিরটিকে হত্যার উদ্যোগ।

স্থানীয় জেলেরা জানান, কখনো নদী পাড়ে চরে বিশ্রামও নিতে ওঠে কুমিরটি। এ কারণে চরের জমিতে আবাদে ভয় পাচ্ছেন কৃষকেরা। গরু বাছুরও নিয়ে আসছেন না কেউ। কুমির আতঙ্কে স্থানীয় মৎসজীবীদের জীবিকা বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

গত সপ্তাহে নৌকা নিয়ে আবু তালেব নামের একজন জেলে মাছ ধরতে গেলে কুমিরের হামলার শিকার হন। হাতের বৈঠা দিয়ে কুমিরটিকে সরিয়ে কোনমতে প্রাণ নিয়ে ফেরেন তিনি।

স্থানীয়দের সহায়তায় আবু তালেবের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। আবু তালেব জানান, বেশ কয়েকদিন অসুস্থ থাকার পর এখন কিছুটা সুস্থ তিনি। ভয়ঙ্কর সে অভিজ্ঞতার কথা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। কুমিরটি খুবই ক্ষুধার্ত, তাই প্রচণ্ড হিংস্র হয়ে আছে। দ্রুত তাকে না সরালে, যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে কুমিরটিকে হত্যাও করতে পারে।

গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে এ খবর জেনে কুমির উদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, কুমির উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দফতরে খবর দেয়া হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে অনুরোধ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ে কুমিরটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। সে পর্যন্ত স্থানীয়দের ধৈর্য্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

পাবনার বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের আহবায়ক এহসান বিশ্বাস লিঠু বলেন, বন্যার স্রােতে পথভুলে দলছুট হয়ে অনেক সময় কুমির লোকালয়ে চলে আসে। এ সময় তাকে উত্যক্ত না করে নিজের মতো থাকতে দিতে হবে। দ্রুততম সময়ে কুমিরটি উদ্ধার করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংরক্ষণের দাবিও জানান তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24 শুকিয়ে যাওয়া পদ্মা কুমির