banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: ‘পাঞ্জাবীরা বাপেরে গুলি কইরা মারছে, ঘরে আগুন দিছে, আমরা কাইন্দা কাইন্দা সারা জীবন মাইনসের বাড়ী বাড়ী ঘুইরা কোনো মতে চলছি। শেখ মুজিব আছিন সময় আংগরে ২০০০ ট্যাহা ও ১২টা টিন দিছিল, এর পরে আংগরে আর কেউ দেহে না’- কাঁদতে কাঁদতে এভাবে বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামার এলাকার শহীদ আতর আলীর কন্যা ৬০ বছর বয়সী রহিমা বিবি।

বাবা দেশের জন্য জীবন দিলেও এখনো মিলেনি সেই স্বীকৃতি। বিভিন্ন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাত্তা পাচ্ছেননা তাদের দাবি পারিবারের। এদিকে রহিমার স্বামী মারা গেছে ১৯ বছর আগে। তিনটি শিশু সন্তান  নিয়ে মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে কাজ করে জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

স্থানীয় মেম্বারের কাছে বার বার ঘুরেও একটি ভাতার কার্ড পাচ্ছেননা বলে রহিমার অভিযোগ। 

জানা যায়, রহিমা বিবির বাবা আতর আলীসহ আরো যারা শহীদ হয়েছিল তারা হলেন, আতর আলী আকন্দ, সাতু মিয়া, আঃ লতিফ (লতি), ইউসুফ আলী, ইসমাঈল হোসেন, মো. মানিক মিয়া, মোছা. ছালেমা খাতুন (ছালে), মোছা. শিরিন, চান্দু মুন্সী (মাওলানা), ছনা মিয়া, অজ্ঞাত (নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি)।

এদেরকে এখানে সারিবদ্ধ করে পাক হানাদার বাহিনী একসাথে গুলি করে হত্যা করেছিল। দেশের জন্য জীবন দেয়া ওই ১১ জনের পরিবার স্বাধীনতার  ৪৮ বছরেও পায়নি কোন স্বীকৃতি বা আর্থিক সহযোগিতা।

সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা রহিম উদ্দিন আকন্দ জানান, দেশটা স্বাধীন করেছিলাম কষ্ট করে। কিন্তু রাজাকারের গাড়ীতে পতাকা থাকলেও শহীদ দের স্বীকৃতি থাকে না তা মানতে পারছি না। ১১ জনের ওই পরিবারের সদস্যগুলো বছরের পর বছর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দফতরে ঘুরেও শহীদ বাবার স্বীকৃতি আনতে পারেনি। এছাড়াও তারা কোন সরকারি ভাতাও পাচ্ছেনা বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বরমী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য হারুন উর রশিদ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।

বরমী ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আফরোজা লিলি জানান, বয়স্ক ও বিধবাদের ভাতার জন্য আমাদের কাছে যে কার্ড আসে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তাই এতদিন ওই পরিবারের কেউ পায় নি। রহিমার কাগজ গত বছর আমাকে দিয়েছিল। সামনে আসলে দিবো।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম জানান, আমি ইউনিয়ন সমাজকর্মীর মাধ্যমে জানতে পারি যে, ওই পরিবারে কয়েকজন বিধবা মহিলা ও প্রতিবন্ধি রয়েছে। তাদের তালিকা করা হয়েছে। আগামী বিধবা ভাতার জন্য তাদেরকে মনোনীত করা হবে। এছাড়াও তাদেরকে অন্যান্য সরকারি  সুযোগ-সুবিধা দেয়া যায় কিনা তা বিবেচনা করা হবে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মাদ হুমায়ুন কবীর জানান, ওই শহীদ পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর বধ্যভূমি