banglanewspaper

এম.পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ : দেশ স্বাধীনতার ৪৮ বছরে মহান বিজয়ের মাসে স্বামী হারা বেধনা বুকে নিয়ে আজও বেঁচে আছেন এক শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিন্দ্রনাথের স্ত্রী ননীবালা চক্রবর্ত্তী (৮০)।  বয়সের ভারে জীবনের শেষ বয়সে এসে একটু স্বীকৃতি চান। একজন শহীদ বীরের সহধর্মীনি হিসেবে শহীদ পরিবারের মর্যাদা।

১৯৭১ সাল মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে জীবন বাজি রেখে দেশ মাতৃকার টানে সেদিন যুদ্ধে যাপিয়ে পড়েছিলেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়নের বিষখালী গ্রামের মনিন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তী(৫০)। নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধার সৈনিক হিসেবে তৎকালিন উপজেলার তেলিগাতী হাই স্কুল মাঠে মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প মাঠে সলেমান খান খোকনের নেতৃর্ত্বে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে। ১৯৭১ সালে ১৫ই এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অস্ত্র চালানো প্রশিক্ষণ নেন মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে। পরবর্তীতে তিনি চলে যান ভারতের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে। সেখান থেকে ফিরে এসে দায়িত্ব পালন করেন মুক্তিযোদ্ধা একজন প্রসেসার হিসেবে। চিঠি আদান প্রদান ও তথ্য সরবরাহ করা। এভাবেই চলে তার যুদ্ধকালিন জীবন। ১৯৭১ সালে ২৬ শে জুন দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়ন পরিষদে তৎকালিন পাক হানাদারের ঘাটি রাজাকার বাহিনীর ক্যাম্পে সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে নিমর্মভাবে নিহত হন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তী। পরবর্তীতে তার লাশের খবর পেয়ে তার বড় ভাই সুরেন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তী ও তার ছেলে লক্ষীকান্ত চক্রবর্ত্তী কলায় ভেলায় করে ভাসিয়ে এনে বিষখালী নদীর কিনারায় কোনোমতে মাটিতে গর্তকরে গনকবর দেয়া হয়। নিজের স্বামীর চোহারাও শেষ দেখাও মেলেনী। সেদিনের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতিগুলো আজও কাঁদায়। বুকের পাজরে কষ্ট বেঁধে কোনো ভাবেই বেঁচে আছি। এ সব কথা গুলো বলতে বলতে দু’নয়নে অশ্রু স্বজন চোঁখে অজরে ঝরছে। এভাবেই সংবাদকর্মীদের পেয়ে তার মনের আকুতি ব্যক্ত করেন। একজন শহীদ বীরের সহধর্মীনি ননীবালা চক্রবর্ত্তী।

রোববার সরেজমিনে গিয়ে এ বিষয়ে কথাহয় শহীদ মনিন্দ্রনাথের ছেলে সাধন চক্রবর্ত্তী সাথে তিনি বলেন, তাদের পরিবারে ৪ ভাই ২ বোন বিদ্ধ মাতা ননীবালা চক্রবর্ত্তী(৮০) স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন শহীদ পরিবারের স্ত্রী হিসেবে আমরা মাকে মূল্যায়ন করেছিলেন। তার নিজ হাতে লেখা একটি চিঠি দিয়েছিলেন। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নং-প্রা ত্রা ক /৬-৪-৭২/শিডি/৪৫০ তাং-২৮-২-১৯৭২। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ২ হাজার টাকার চেক নং-শি; এ ০৩৭৩৩৪। প্রদান করেছিলেন। এমনকি ৩ মাস ধরে তার পরিবারের ভরন পোষনের জন্য খাবার সরকারিভাবে দিয়েছিলেন। বাবার মুখটির স্মৃতি তেমন মনে নেই আমি তখন ৩য় শ্রেনীর ছাত্র। বড় ভাই স্বপন চক্রবর্ত্তী ৫ম শ্রেনীর ছাত্র ছিলো সে মোটামুটি ভালই বুঝতো। ১৯৮১ সালে বড় ভাই স্বপন ও ছোট ভাই শিব প্রাসাধ ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কুজ বিহারে চলে যায়। সেখানেই তারা বসবাস ও ব্যবসা করছে। সে তার মাকে নিয়েই পৈতিক ভিটায় কোনভাবেই দিনাতিপাত করছে। পেশায় একজন মন্দিরের পুরহিত।

তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, স্বাধীনতার পরে জাতীর জনক শেখ মুজিবুর রহমান মূল্যায়ন করলেও একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার পিতার নামটি আজও পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নেই। ১৯৭৪ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল থেকে আমার মায়ের নামে একটি চিঠি আসে শহীদ মনিন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তীর মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করার। আমারা কাগজপত্র পাঠালেও তার কোন হদিজ মেলেনী। সর্বশেষ গত বছরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনের প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাচাই বোর্ডে কাগজপত্র নিয়ে হাজির হলেও সেটিও স্থাগিত রয়েছে। চাইনী সরকারিভাবে কোন অনুদান চাই শুধু শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি।  

এ বিষয়ে বনগ্রাম ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নিখিল রঞ্জন দে বলেন, শহীদ মনিন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তী আমার জানামতে একজন ভাইটিং মুক্তিযোদ্ধা ছিলো।  পাক সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন। পরবর্তীতে সে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তভূক্ত হতে পারেনী। শহীদ পরিবার হিসেবে ইউনিয়ন কমান্ডের পক্ষ থেকে প্রতয়ন দেওয়া হয়েছিলো। 

অত্র ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রিপন দাস বলেন, শহীদ মনিন্দ্রনাথের পরিবার যাতে করে শহীদ পরিবার মর্যাদা পায় সে বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে একটি প্রত্যায়ন পত্র দেওয়া হয়েছে ইতোপূর্বে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলে। সে একজন প্রকৃত মুক্তযোদ্ধা ছিলেন। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা দায়িত্বরত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. কামরুজ্জামান বলেন, গত বছরের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন কারি মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই সম্পন্ন হলেও পরবর্তীতে আইনী জটিলতার কারনে বিষয়টি স্থাগিত হয়ে যায়।

ট্যাগ: bdnewshour24 মোরেলগঞ্জ