banglanewspaper

দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে জাতীয় ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী’ দিবস উপলক্ষে রোববার দুদক আয়োজিত ‘সততা সংঘ’র সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দুর্নীতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করছে। সবাইকে একযোগে দুর্নীতিকে না বলতে হবে এবং বয়কট করতে হবে। দেশপ্রেমের মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে দুর্নীতি কমিয়ে আনা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা অনেক ত্যাগ ও কষ্টের বিনিময়ে আমাদেরকে এ স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। কিন্তু আজ এ দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও চেতনাকে অবমাননা করছে। সমাজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে আদর্শ ও নৈতিকতা।

এ অবস্থার পরিবর্তন করতে দেশের যুবসমাজ বড় শক্তি এবং অপার সম্ভাবনা উল্লেখ করে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘অদম্য আগ্রহ, সৃজনশীলতা এবং সুন্দর বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তাদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ আজ সময়ের দাবি।’

দুর্নীতিবাজদের সামাজিক বয়কটের আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সবাই দুর্নীতিকে না বলে এবং দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কটের মাধ্যমে এ দেশকে একদিন দুর্নীতিমুক্ত করবই- এটাই হোক আজকের সমাবেশে আমাদের অঙ্গীকার।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদের ছাত্রসমাজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আমাদের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করেছে। আত্মশক্তি বিকাশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থী সমাজ তথা তরুণ প্রজন্ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে দেশ দুর্নীতিমুক্ত হতে বাধ্য।’

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন প্রধান বিচারপতি। দুর্নীতি দমনের জন্য সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্য শেষের আগে হযরত আলী (র.) এর একটি উক্তি তুলে ধরেন। উক্তিটি হলো, ‘দেশের বিদ্বান ব্যক্তিগণ লোভী হলে, দেশের নেতৃবৃন্দ ঐশ্বর্যের পেছনে ছুটলে, দেশের ব্যবসায়ীগণ অসাধু হলে, দেশের প্রশাসন এবং ন্যায়দণ্ডধারী বিচারকগণ দায়িত্বহীন হলে- দেশ এবং দেশের নিপীড়িত জনগণকে কে রক্ষা করবে?’

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, সততা সংঘের সদস্যসহ প্রমুখ।

ট্যাগ: bdnewshour24 প্রধান বিচারপতি দুর্নীতি