banglanewspaper

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন এদেশের মানুষের জন্য একটি স্বাধীন ভূ-খণ্ডের স্বপ্ন দেখেছিলেন। এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করে গিয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই এদেশের মানুষ স্বাধীনতা লাভ করেছে। মাটি ও মানুষকে নিয়েই জাতির পিতা আজীবন কাজ করে গিয়েছেন। তাঁর আমলে প্রণীত আমাদের সংবিধানে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন, সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে বৈষম্যহীন একটি সমাজ ব্যবস্থা, যেখানে জাত-পাত -এর কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। দেশের উত্তর-দক্ষিণ বা পূর্ব-পশ্চিমে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। গ্রাম আর শহরের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকবে না। ‘কাউকে পিছনে ফেলে, কাউকে অর্থনীতির মূল স্রোতধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়’। এই নীতিতেই প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি তিনি সাজিয়েছিলেন এদেশের মানুষকে বৈষম্যের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে। তিনি তাঁর কাজটি শেষ করে যেতে পারেননি। ঘাতকদের নির্মম বুলেট তাঁকে থামিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তাঁর আদর্শ বিলীন হয়নি। তাঁর আদর্শ সকল সময়েই আমাদের সকল ভালো কাজে অনুপ্রেরণার উত্স, আমাদের চির অনুসরণীয়। তাঁর আদর্শ এদেশের মানুষের জন্য অম্লান হয়ে থাকবে অনন্তকাল পর্যন্ত, থাকবে সূর্যের মতো দেদীপ্যমান।

বঙ্গবন্ধু সবসময় পরিকল্পিত উন্নয়নের চেষ্টা করে গিয়েছেন। বাংলার মানুষের জন্য তাঁর দর্শন তিনি ১৯৭৩ সালে তাঁর প্রণীত প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তুলে ধরেছিলেন। তিনি জাতির উন্নয়নে দেশের গণমানুষের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে তাঁর প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মুখবন্ধে বলেন, ‘দেশের জনগণের পক্ষ থেকে কঠোর পরিশ্রম ও প্রয়োজনে যে কোনও ত্যাগের জন্য সর্বাত্মক অঙ্গীকার ছাড়া কোনও পরিকল্পনা, তা যত সুলিখিতই হোক না কেন, সঠিক বাস্তবায়ন হতে পারে না’। তিনি মানুষের মুক্তির সেই দর্শনের কথা ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পুনরাবৃত্তি করেন। জাতিসংঘে প্রথমবার বাংলায় ভাষণ দেওয়ার সময় বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা সকলে মিলে এমন একটি পৃথিবী গড়ে তুলি, যেখানে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, যুদ্ধ ও মানুষের সকল কষ্ট দূরীভূত হবে, বৈশ্বিক শান্তি অর্জিত হবে এবং মানবজাতির কল্যাণ রক্ষিত হবে।’ বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে যে পথ দেখিয়েছিলেন, যে দর্শন উপহার দিয়েছিলেন, সেটাই আজকে আমরা প্রতিধ্বনিত হতে শুনি জাতিসংঘে সর্বসম্মতিতে গৃহীত ২০৩০ সালের বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)-তে, যার মূল বক্তব্যই হলো ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়, কাউকে পেছনে ফেলে নয়’। আমরা অনুপ্রাণিত হই, গর্বিত হই যখন দেখি, বঙ্গবন্ধুর স্বাপ্নিক আদর্শ বিশ্ব দরবারে আজ সমাদৃত। আজ তাঁর দেখানো পথেই হাঁটছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে হেঁটে আজ আমরা বাংলাদেশের সত্যিকারের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়তে দৃঢ় প্রত্যয়ী।

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি’র কথা বলতে গেলে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) প্রাসঙ্গিক ভাবেই এসে যায়। বর্তমান এসডিজি’র পূর্বে প্রথমবারের মতো ২০০০ সালে সারা বিশ্বের জন্য জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা এমডিজি সর্ব-সম্মতভাবে গ্রহণ করেছিল। এর আগে কখনও এতো বড় পরিসরে সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে সারা বিশ্বের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক একক উন্নয়ন এজেন্ডা নেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তত্কালীন বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে বাংলাদেশকে এই বৈশ্বিক এজেন্ডায় সম্পৃক্ত করেন। কিন্তু ২০০২ থেকে ২০০৬ মেয়াদে দেশের পরিচালনা উন্নয়নমুখী ছিল না, তাই এমডিজি নিয়েও দেশে বিশেষ কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর তিনি এমডিজি’র আলোকে লক্ষ্যভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেন। এমডিজি অর্জনের লক্ষ্যে ‘রূপকল্প : ২০২১’ ও ‘ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’র মাধ্যমে দেশকে প্রস্তুত করেন। তাঁর প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে এমডিজি’র ৮টি অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনেই বাংলাদেশ সফলতা দেখায়।

ট্যাগ: bdnewshour24 শেখ মুজিবুর রহমান