banglanewspaper

যুগ পরম্পরায় ন্যায় ও সত্যের জন্যে সংগ্রাম করে যে জীবন উৎসর্গ করে, নব জীবনের সংগীত রচনার ভার যাদের উপর নির্ভর করে তারা আমাদের গর্বের যুব সমাজ। যারা অসাধারণ সুন্দরের পূজারী, অসাধ্য সাধনের কারিগর তারা আমাদের তরুণ প্রজন্ম। যেখানে প্রতিকারহীন মানবতা বার বার অশ্রু ঝরিয়ে বোবা কান্নায় মুষড়ে পড়ে, সেখানে মন যাদের বিশ্বাসে ভরপুর, যাদের কাঁধে ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন, যারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না, পুরাতনকে ভেঙে চুরে নতুন কিছু করতে চায় সেই তরুণরা জীর্ণ জাতির বুকে আশার আলো জাগায়। পুরাতনকে পেছনে ফেলে তারা মেতে উঠে সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। রাত কিংবা দিন, মরু বা সাগর কোনো কিছুই যাদের কাছে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠে না, ভরা যৌবন তাদেরকে নিয়ে যায় সমস্ত ভয়ঙ্করকে অতিক্রম করে এক সুন্দরের কাছে। দেশ কালকে তারা তুচ্ছ করে শুধু সৃষ্টির জয়গান গেয়ে যায়। এরাই দেশের প্রাণ। এ যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে একটি দেশের চেহারা তারা রাতারাতি পাল্টে দিতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো এ যুব সমাজ আজ সর্বনাশা মাদকের করাল গ্রাসে বিলীন হতে বসেছে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্বব্যাপী এর করাল গ্রাস থেকে মানুষ এখন মুক্তি চায়। কিছুকাল আগেও মাদক দ্রব্য তৃতীয় বিশ্বের এ ভূখ- বাংলাদেশে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করেনি। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশেও এর ভয়াবহ রূপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর সর্বগ্রাসী রূপ আমাদের যুব সমাজকে প্রতিনিয়ত বিপন্ন ও বিপর্যস্ত করে তুলছে। বাংলাদেশে এখন গাঁজা, চরস, আফিম ইত্যাদি প্রাচীন নেশা জাতীয় দ্রব্যের সাথে যুক্ত হয়েছে মরফিন, প্যাথেড্রিন, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ আরো অনেক নেশা জাতীয় দ্রব্য। এই ভয়াবহ সর্বগ্রাসী তরুণ প্রজন্ম বিনষ্টকারী মাদকের গ্রাস তরুণ প্রজন্মকে এক প্রলয়ঙ্করী সমস্যার মুখোমুখি করেছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, সন্ত্রাস, ধর্মীয় গোড়ামি, কুসংস্কার ইত্যাদি নানা সমস্যায় জর্জরিত এ সমাজের সাথে উপরন্তু যোগ হয়েছে মাদক সমস্যা। মানুষ এ অশুভ শক্তির কাছে হারাচ্ছে তার সামাজিক পরিবেশের সুন্দর অবয়ব। আমরা হারাতে বসেছি আমাদের সমাজের গর্ব তরুণ সমাজের উচ্ছলতাকে।

মাদক ব্যবহারে কোনো সুফল আছে কিনা তা এ পর্যন্ত কেউ আবিষ্কার করতে পানেনি কিন্তু এর কুফল সুদূর প্রসারী। এখন দেখা যাক, মানুষ বিশেষ করে যুব সমাজের এ ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্যের প্রতি আসক্তির কারণ কি ? সামপ্রতিককালে গবেষণায় ড্রাগ আসক্ত হবার পেছনের কারণগুলোকে দু ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক. প্রাথমিক, দুই. সাহায্যকারী কারণ। প্রাথমিক কারণ ব্যক্তি নিজেই। তার আসক্তিমূলক চিন্তা ভাবনা, মনোভাব, দেহ রসায়ন, অবসাদ, মূল্যবোধ, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত। বংশানুক্রমিকভাবে মাদকাসক্তির সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ। সাহায্যকারী কারণ হিসেবে যেগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে নেতিবাচক দলগত চাপ, কৌতূহল বা নতুনের প্রতি অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের প্রয়াস, নৈতিক শিক্ষার অভাব, হতাশা, মনস্তাত্তি্বক বিকাশের অভাব, মাদকের সহজলভ্যতা ইত্যাদি প্রধান। উল্ল্লেখিত সাহায্যকারী উপাদানগুলোর মধ্যে দলগত চাপ এবং কৌতূহলকেই বেশি শক্তিশালী এবং বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ দুটির প্রভাব তরুণদের মধ্যে সবচাইতে বেশি কাজ করে। দলগত চাপের প্রতিফলন দেখা যায় তরুণদের অনুভূতিতে, আচরণে এবং জীবন যাপনে। তবে ইতিবাচক দলগত চাপের ফলে অনেক ভাল কিছু সমাজে ঘটতে পারে কিন্তু নেতিবাচক দলগত চাপ তরুণদেরকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়। কারণ তরুণরা মনে করে বন্ধুরা করছে আমিও করবো, না করলে দল ছাড়া হতে পারি। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে এটি কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের সমস্যা নয়, এটি একটি সমাজের সামগ্রিক রূপ। বাংলাদেশে ড্রাগ আসক্তি আজ শহর বন্দর ছাড়িয়ে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। এক সময়ের ব্যক্তিগত সমস্যা আজ জনস্বাস্থ্যের সমস্যা ও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সঙ্কটের আকার ধারণ করেছে। পরিবার এবং সমাজ জীবনে সর্বক্ষেত্রে মাদকের যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায় তার ফলে অনেক সুখের সংসার নষ্ট হয়ে যায়, সমাজে অনেক অপরাধ প্রবণতা সৃষ্টি হয়, তরুণ সমাজ তার নেশার পয়সা জোগাড় করতে যে কোনো খারাপ কাজ করতে প্রয়াসী হয়, ব্যক্তিত্ব হারিয়ে সামাজিক রীতিনীতিকে লঙ্ঘন করে সমাজকে ধ্বংসের মুখোমুখি করে তোলে। সমপ্রতি প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বাংলাদেশে শিশু মাদকাসক্তির সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। মাদক বহনে ব্যবহৃত হচ্ছে পথশিশুরা। কম্বোডিয়ার মত বাংলাদেশও এখন পশ্চিমা দেশগুলোতে মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছুকাল পূর্বে বিবিসিতে এক সাক্ষাৎকারে কম্বোডিয়ান এক ছাত্রী মাদকাসক্ত হয়ে এ সমস্যাকে দেখেছে গভীরভাবে। তিনি লক্ষ্য করেছেন, কম্বোডিয়ার তুলনায় বাংলাদেশে এ সম্পর্কে জনগণের জ্ঞান ও সচেতনতা খুবই কম।

আমাদের দেশে মাদকের সহজলভ্যতা মাদক বিস্তারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ। এদেশে সহজলভ্য মাদক দ্রব্যের মধ্যে হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, প্যাথেড্রিন উল্লেখযোগ্য। অথচ এর একটিও আমাদের দেশে উৎপন্ন হয় না। বর্তমানে দেশে ইয়াবা নামক মাদকের বিস্তার এতোটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, শুধুমাত্র কঙ্বাজার জেলায় প্রায় চার হাজার ইয়াবা আসক্ত রয়েছে। এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, ইয়াবা হেরোইনের চেয়েও ভয়াবহ। চিকিৎসকদের মতে, ইয়াবা সেবনের পর যে কোন সময় মস্তিষ্কের রক্তনালী ছিঁড়ে যেতে পারে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হারিয়ে যেতে পারে এবং এর ধারাবাহিকতায় মৃত্যু অবধারিত। ইয়াবা এতই ভয়াবহ যে, ইয়াবা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে থাইল্যান্ড সরকার সে দেশের প্রায় তিন হাজার ইয়াবা বিক্রেতা ও সেবীকে ক্রসফায়রে দিয়েছে।

বাংলাদেশের যে উদ্যমী যুব সমাজ রয়েছে মাদকের করাল গ্রাস তাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। এটির অপব্যবহার দেশের তরুণ সমাজের মেধা ও মননকে ধ্বংস করে দিয়ে বিনষ্ট করছে সুপ্ত প্রতিভা ও সুস্থ চিন্তা। মাদকাসক্ত ব্যক্তি যেমন সমাজের ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে তেমনি একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে ফেলে। বাংলাদেশের আগামী সম্ভাবনাময় প্রজন্ম যারা হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার মহা শক্তিধর তাদের এক বিরাট অংশ মাদকের শিকার। দেশে যে হারে তরুণ ও যুব সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তির হার বাড়ছে তা অত্যন্ত ভীতিকর ও আশঙ্কাজনক। কিন্তু কোনো মা-বাবাই চায় না তার সন্তান মাদকাসক্ত হয়ে অকালে শেষ হয়ে যাক এবং পরিবারে নিয়ে আসুক দুঃসহ যন্ত্রণা। যার প্রভাব ইতোমধ্যে আমরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হলো মাদকাসক্তি। এটির সমাধান না করলে আমরা জাতি হিসেবে পিছিয়ে পড়বো। নিকট ভবিষ্যতে হয়তো দেশে এমন কোনো পরিবার পাওয়া যাবে না যে পরিবারে কোনো মাদকাসক্ত নেই। তাই এ যুব সমাজকে বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে এনে সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করতে হবে।

মাদক নিয়ে দেশে অনেক সেমিনার, আলোচনা, কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে মাদক বিরোধী দিবসে কেবল মাত্র সেমিনার, আলোচনা করে দেশ থেকে মাদক সমস্যা দূর করা যাবে না। এমনও দেখা গেছে, যারা সেমিনার এবং আলোচনা সভায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেন তাদেরও কেউ কেউ মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এখন সময়ের দাবি হলো, তরুণদের মধ্যে নৈতিকতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে শিক্ষামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা। মাদকের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এ মুহূর্তে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে না আসলে দেশের যুব সমাজের ধ্বংস অনিবার্য। সচেতন তরুণদের মাঝে আজ এ বোধটাই জাগ্রত করতে হবে 'মাদকের বিপরীতে তরুণরা নিজেকে বিকশিত করে দেশ গড়ার কাজে গড়ে তুলবে জাতির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল সম্ভাবনা' এটিই হোক বর্তমান সময়ের প্রত্যাশা। মাদকবিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করলে মাদকের চাহিদা ও সরবরাহ দুটিই হ্রাস পাবে। তাই চাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সরকারি বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষা বিভাগসহ সকলে মিলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা। সচেতন জনগণের মনে রাখা দরকার, একমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ দ্বারা মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এ সমস্যাটি সরকারের একার নয় এটি সমাজের আমার, আপনার সবার। অনেক দেরি হয়ে গেছে, আর দেরি নয়, আসুন সকলে মিলে আমরা আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করে মাদক মুক্ত একটি নির্মল সমাজ গড়ে তুলি।

বাংলাদেশের যুব সমাজকে কর্মক্ষম, উদ্যমী তারুণ্যে উজ্জীবিত করতে হলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজাতে হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারী দিয়ে দিনবদল এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা যাবে না। গতিশীল দেশ গড়তে হলে, নিমজ্জিত মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুব সমাজকে মুক্ত করতে হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এদিকে নজর দিতে হবে। দুর্নীতির ধুলোবালি ঝেড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে একটি কার্যকর সংস্থা হিসেবে দাঁড় করাতে পারলে অবশ্যই বাংলাদেশ মাদকমুক্ত হয়ে পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে। ইসলামে মাদককে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয়েছে মাদকাসক্তের নির্বাণ লাভ হবে না আর হিন্দু ধর্মে বলা হয়েছে, ভগবানের অধিষ্ঠান যেহেতু হৃদয়ে সেহেতু মাদকাসক্তের হৃদয়ে ভগবান আসন নেবেন না।

তরুণদের প্রতি রইল আহ্বান : যৌবনের পরম দানকে নষ্ট করে ফেল না, স্থবির হয়ে জীবনের পরম সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়ো না, যৌবনের শক্তির সদ্ব্যবহার করো। মহাকালের ঐশ্বর্য তোমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে, তোমাদের জীবনে বসন্ত জেগেছে, এ বসন্ত কি বৃথা হবে তোমার কাছে ? তাই ফিরে এসো আলোর পথে, সত্যের পথে, পাপ পঙ্কিলতাকে ত্যাগ করে সামাজের অগ্রদূত হয়ে জাতিকে আলোর পথ দেখাও। মাদককে তোমার না বলতে হবে । কেন তুমি মাদককে না বলবে

ধূমপান ঃ যদিও ধূমপানকে সামাজিক অপরাধ হিসেবে দেখা হয় না তবু ধূমপান এক আগ্রাসী নেশা। সকল মাদকাসক্তির প্রথম ধাপ হলো ধূমপান। এটি বিষপানের চেয়েও ভয়ঙ্কর। কারণ বিষপানে মৃত্যু ঘটে কিন্তু ধূমপানে মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মরে। ধূমপান ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির জন্য এক জীবন্ত অভিশাপ। এ অভিশাপ আমাদের সমাজকেও গ্রাস করছে। ক্যান্সারের মত দুরারোগ্য ব্যাধিতেও ধূমপানের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এটি শুধু শারীরিক ক্ষতিই করে না, মানসিক ও বিভিন্ন সমস্যার জন্ম দেয়। সুস্থ মন মানসিকতাকে নষ্ট করে দেয়। ধূমপানের ক্রমাগত নেশাই মানুষকে মাদকাসক্তির দিকে নিয়ে যায়। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেছেন ধূমপায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করে, যা আমাদের সমাজ জীবনকে কলঙ্কিত করে।

মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা 'মানস'-এর এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি সেকেন্ডে একজন করে মাদকাসক্তের মৃত্যু ঘটে। এতে আরো বলা হয়েছে, একটি সিগারেটে ক্যান্সার উৎপাদনের ২৮ টি উপাদান রয়েছে। বাংলাদেশে ২০-৩৪ বছর বয়সী ধূমপায়ীর সংখ্যা শতকরা ৮৯ জন। যার অধিকাংশই যুবক এবং শিক্ষার্থী। বিশেষ করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিগারেট খাওয়ার প্রবণতা বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিদিন ৭৩ হাজার ৮৬৬ টাকার সিগারেট বিক্রি হয়। পরিসংখ্যানে আরো বলা হয়েছে, ধূমপায়ীদের মধ্যে শতকরা ৪২ জন কোনো না কোনো অপরাধের সাথে জড়িত। এছাড়া ঢাকা শহরে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ হাজারেরও বেশি ছাত্রী মারাত্মক মাদকাসক্ত। তাই যুবকদেরকে এখনই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে আর ধূমপান নয়। 'ধূমপান করবো না, অকালে মরবো না'।

মাদকাসক্তি ঃ বর্তমান বিশ্বে মাদকাসক্তি মানব জাতির এবং সভ্যতার জন্য অত্যন্ত বড় হুমকি। যেটি একটি অভ্যাসগত রোগ এবং যা ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। মাদক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে, ক্রমশ কমে যায় মনন শক্তি। বোধ থাকে না হাসি কান্নার। ড্রাগ জীবন হননকারী এইডস রোগেরও অন্যতম কারণ। সুন্দর পৃথিবী গড়ার কারিগর সম্ভাবনাময়ী যুব সমপ্রদায়কে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে মাদক। ড্রাগ আসক্ত যুবকের পরিবারগুলোর আর্ত হাহাকারে রাতের নিঃসঙ্গতা ভেঙ্গে বেদনার আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। মা বাবার বুকফাটা কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। এমন সে নেশা যা মায়ের বুক থেকে সন্তানকে চিরতরে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। নেশার টাকা যোগাড় করতে না পেরে সন্তানের হাতে খুন হচ্ছে পিতা মাতা। জীবাণু যুদ্ধ, পারমাণবিক যুদ্ধ, রাসায়নিক যুদ্ধের পর এবার যোগ হয়েছে নেশার যুদ্ধ। যে যুবশক্তি দেশের প্রাণ সে যুবশক্তি নেশাযুদ্ধে ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৭০ লক্ষ মাদকাসক্ত রয়েছে। এর ৭০ ভাগ হিরোইন বা ব্রাউন সুগারে আসক্ত এবং বাকি ৩০ ভাগ ফেন্সিডিলে আসক্ত। এন এস পি-এর ২০০৮ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে এইচআইভি-এর জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এন্ট্রাভেনাস ড্রাগ ইউজার রয়েছে ২০-৫০ হাজার । এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরে বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত ছাত্র/ছাত্রীদের যাদের বয়স ১৫-৩০ বছরের মধ্যে সেসব যুবকদের ৭০% এবং যুবতীদের ৫০% নেশাগ্রস্ত। তাই তরুণদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান মাদকের ভয়ঙ্কর ছোবল থেকে নিজেকে মুক্ত কর, সমাজকে মুক্ত কর এবং মাদকমুক্ত সমাজ ও শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোল। এটিই হোক তোমাদের কাছে জাতির আগামী দিনের প্রত্যাশা।

আর সমাজের প্রতি আহ্বান রইল জীবনের সম্ভাবনা আর প্রত্যাশার সব দরজা যখন বন্ধ হয়ে যায় মানুষ হয়ে পড়ে নিঃস্ব, দ্বিধাগ্রস্ত শূন্যতা ঘিরে ফেলে চারপাশ, তখন আমদের নিশ্চিত জানা উচিত একটি মাত্র পথই উন্মুক্ত তা হলো সামাজিক সচেতনতা। এ সমাজকে কোন গোষ্ঠীর কাছে আমরা জিম্মি হতে দিতে পারি না। পরিশেষে আমাদের প্রতিটি ঘর হোক মাদক মুক্ত, সমাজ হোক নিষ্কলঙ্ক, জাতি রক্ষা পাক মাদকের করাল গ্রাস থেকে। মাদকের নেশায় তরুণ সমাজকে ধ্বংস হতে দেবো না- এটিই হোক আজকের অঙ্গীকার।

লেখক : রতন কুমার মজুমদার, উপাধ্যক্ষ, পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজ, চাঁদপুর। ই-মেইল : ratan.geography@gmail.com

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: bdnewshour24 যুবসমাজ মাদক