banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর): "সাত মাসের সন্তান ছিল ছালের পেটে। তাতেও রক্ষা পায়নি সে। সকলের সামনেই পাঞ্জাবীরা টেনে হেছরে ইজ্জত মারে তার। পরে গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। এ কথা মনে হলে এখনো আমার বুক থর থর করে কাঁপতে থাকে হাঁপাতে-হাঁপাতে এভাবেই বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখাইমার এলাকার বধ্যভূমিতে শহীদ ইউসুফ আলীর  স্ত্রী ৭০বছর বয়সী হারিছা খাতুন।

স্বামী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়  সাতখামাইর বধ্যভূমিতে পাঞ্জাবীদের হতে জীবন দিলেও এখনো মিলেনি সেই স্বীকৃতি। 

জানা যায়, হারিছা খাতুনের  স্বামীসহ ওই বধ্যভূমিতে আরো যারা শহীদ হয়েছিলেন তারা হলেন-১. আতর আলী আকন্দ ২. আঃ ছাত্তার ওরফে সাতু মিয়া ৩. আঃ লতিফ (লতি) ৪.  ইউসুফ আলী ৫. ইসমাঈল হোসেন  ৬. মানিক মিয়া ৭. মোছাঃ ছালেমা খাতুন (ছালে) ৮.মোছাঃশিরিন ৯. চান্দু মুন্সী (মাওলানা) ১০.ছনা মিয়া১১. অজ্ঞাত (নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি) 

এদেরকে  এখানে সারিবদ্ধ করে পাক হানাদার বাহিনী একসাথে গুলি করে হত্যা করেছিল বলে জানা যায়।  

দেশের জন্য জীবন দেয়া ওই ১১জনের পরিবার স্বাধীনতার  ৪৮বছরেও পায়নি কোন স্বীকৃতি বা আর্থিক সহযোগিতা। 

শহীদ ইউসুফ আলীর বোন মজিদা খাতুন জানান, শেখ মজিবুর রহমান থাকতে আমাদের ২০০০টাকা ও ১২টি টিন দিয়েছিল। এর পর আমরা আর কোন কিছু সহায়তা পাইনি।সরকারের কাছে দাবী  আমাদেরকে শহীদ পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হউক।

শ্রীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান জানান, দেশের জন্য ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছে। সাতখামাইর এলাকায় ১১জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাদেরকে ইতমধ্যেই শহীদের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।  সরকার যদি তাদের পরিবারের জন্য আরো কোন সহযোগিতা করে তাহলে হয়তো তারা আরো সন্মানিত হবে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড.দেওয়ান মুহাম্মাদ হুমায়ুন কবীর জানান, সাতখামাইর বধ্যভূমিতে শহীদদের স্মরণে ইতমধ্যে একটি স্মৃতিফলক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।   ওই শহীদ পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর গাজীপুর