banglanewspaper

ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিরোধীদলীয় সদস্যদের তুমুল বিরোধিতা সত্ত্বেও তিন তালাকবিরোধী বিল পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনভর বিতর্ক শেষে সন্ধ্যায় ২৪৫-১১ ভোটের ব্যবধানে ওই বিল পাস হয়।

বিলটি আইনে পরিণত হলে যে মুসলিম ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে তাৎক্ষণিক তিন তালাক দেবেন তাঁর তিন বছরের কারাদণ্ড হবে। বিলটি নিয়ে সব দল বিতর্কে অংশ নিলেও ভোটাভুটির সময় কংগ্রেস, এআইএডিএমকে ও অন্য বিরোধীদলীয় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না।

বিরোধীদের প্রশ্ন, স্বামী কারাগারে থাকলে স্ত্রী ও সন্তানের দায়িত্ব কে নেবে সে কথা বলা নেই ওই বিলে। তাছাড়া জোর করে এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করলে পারিবারিক ঐক্য আদৌ টিকে থাকবে কি-না তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ-এর পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন আজ (শুক্রবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ভারতীয় সংসদের লোকসভায় ট্রিপল তালাক বিল পাস হয়েছে। পূর্বের মতো ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দ’ ওই বিলের বিরোধিতা করেছে। ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দ’ মনে করে- কেন্দ্রীয় সরকার বারবার ট্রিপল তালাক বিল নিয়ে আসছে, এতে মুসলিম নারীদের বা মুসলিম সমাজের কল্যাণের কোনো চিন্তা তাঁদের মাথায় নেই। তাঁরা পোলারাইজেশন করতে চায় এবং হিন্দু-মুসলিম বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়। এজন্যেই তাঁরা এ ধরণের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।’

জামায়াত নেতা মুহাম্মদ নুরুদ্দিন বলেন, ‘এ পর্যন্ত বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তেমন কোনো জনহিতকর কাজ করেনি। তাঁরা ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে মন্দির-মসজিদের রাজনীতি করে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপিয়ে দিয়ে শাসন ক্ষমতায় থাকতে চায়। সেই উদ্দেশ্যেই ওই বিল নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস,  জনগণ তাঁদের ওই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করবে এবং ট্রিপল তালাক বিল রাজ্যসভায় পূর্বের মতো পাস হতে পারবে না। আমরা জনগণের প্রতি আবেদন জানাতে চাই যে, সরকারের এই অবৈধ প্রচেষ্টা যা মুসলিমদের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করে, পার্সোনাল ল’কে হস্তক্ষেপ করে তাকে প্রত্যাখ্যান করা এবং সরকারের এই নাপাক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করতে হবে।’

সংসদে তালাক বিল বিতর্কে অংশ নিয়ে বিল নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য ভালো নয় বলে মন্তব্য করে মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলে, ‘আমি মুসলিমদের পক্ষে বলতে চাই যে, দেশের সকল মুসলিম নারী এই বিলের বিরোধিতা করছেন। সেজন্য আমি এই বিলটির বিরুদ্ধে, কারণ এটি দেশের সংবিধানবিরোধী।’

তিনি বলেন, ‘যদি হিন্দু সমাজের কেউ তালাক দেয় তাঁর জন্য এক বছরের সাজার ব্যবস্থা। কিন্তু মুসলিমদের জন্য তিন বছরের সাজার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কেন?’

ওয়াইসি বলেন, গাড়ি দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে অভিযুক্তকে দুই বছরের সাজার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু তিন তালাকের জিন্য তিন বছরের সাজার ব্যবস্থা করা হচ্ছে কেন? সমকামিতায় ফৌজদারি মামলা না হলেও তিন তালাকে সাজার ব্যবস্থা কেন?’

ওয়াইসি বলেন, ‘ইসলামে বিয়ে একটি চুক্তি। সেজন্য আইন করা যেতে পারে তিন তালাক দিলে তাকে তিনগুণ দেনমোহর দিতে  হবে। কিন্তু আপনারা নারীদের ভালোবাসেন না, আপনাদের (সরকার) উদ্দেশ্য শুধু কারাগারে পাঠানো।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ৮৪ শতাংশ দশ বছর বয়সী হিন্দু মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে আইন  থাকা সত্ত্বেও তা বন্ধ হচ্ছে না। চাপ সৃষ্টি করে জবরদস্তির মধ্যে আমরা আমাদের ধর্ম ছেড়ে দেবো না। আর যতদিন পৃথিবী থাকবে, ততদিন আমরা মুসলিম হিসেবে শরীয়া অনুযায়ী চলতে থাকব, সেজন্য আমরা এই বিল প্রত্যাখ্যান করছি।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর লোকসভায় তিন তালাক বিল পাস হয়ে গেলেও রাজ্যসভায় তা আটকে গিয়েছিল। বিলটিকে আইনি রূপ দিতে মরিয়া কেন্দ্রীয় সরকার গত সেপ্টেম্বরে তিন তালাক নিয়ে অর্ডিন্যান্স আনে। অর্ডিন্যান্স জারির ছ’মাসের মধ্যে তা সংসদে বিল আকারে পেশ করে তা পাস করাতে হয়। সেই লক্ষ্যেই ফের লোকসভায় সরকার তিন তালাক বিল নিয়ে আসে। কিন্তু রাজ্যসভায় বিরোধীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় বিলটি পুনরায় সেখানে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 লোকসভা তিন তালাক বিল পাস মুসলিমদের ক্ষোভ