banglanewspaper

টানা তৃতীয়বার এবং দেশের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

গতকাল সোমবার বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ৫৬ অনুচ্ছেদের তিন দফা অনুযায়ী প্রথমে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড শেখ হাসিনার। টানা তিনবার তো কেউ প্রধানমন্ত্রী হননি বরং চারবার প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার দৃষ্টান্ত তিনিই স্থাপন করেছেন।

শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী ও বৃহত্তম দল আওয়ামী লীগকে। ওই দলের প্রধান হিসেবে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। টানা ৩৮ বছর ধরে দলটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ওই বছর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিপুল আসনে জয়ী হয়। তিনটি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন। ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে তিনি ছিলেন সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা।

সংগ্রামী শেখ হাসিনা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে শেখ হাসিনা সবার বড়। গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের (বর্তমানে ইডেন মহিলা কলেজ) ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) হয়েছিলেন। তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি ছিলেন। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সব গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ওই সময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান। পরবর্তীকালে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছয় বছর ভারতে অবস্থান করেন। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থেকে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি