banglanewspaper

ভোটে জয়ের পর আওয়ামী লীগের ‘বিজয় উৎসবটা’ হলো স্মরণে রাখার মতো। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আয়োজনে নাচ-গান, কবিতা আবৃত্তিসহ ছিল নানা আয়োজন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন ঘোষণা অঙ্গীকার, তিনি জনগণের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করে আমাদের ভোট দিয়েছে, এই ভোটের সম্মান আমি রক্ষা করব। আমার বাবা এই দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে গিয়ে জীবন দিয়ে গেছে, জীবন দিয়ে গেছে আমার মা, আমার ভাইয়েরা। এদেশের অনেক মানুষ জীবন দিয়ে গেছে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে। দেশের মানুষের ভোটের মর্যদা রক্ষা করে, তাদের জীবন মান উন্নয়ন করবার জন্য আমি আমার বুকের রক্ত দেবার জন্য প্রস্তুত। সেই ওয়াদাই আজকে করে যেতে চাই।’

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর আনন্দ মিছিলে নিষেধাজ্ঞা ছিল দলের। দলের নেতা-কর্মীদেরকে থামিয়ে রাখা উল্লাস প্রকাশে শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হয় ‘বিজয় উৎসব’। আয়োজনের মধ্যমণি ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
সমাবেশ শুরু হয় বেলা আড়াইটায়। তবে ১১টা থেকেই উদ্যানে দলে দলে ঢুকতে থাকে হাজার হাজার মানুষ। রঙবেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, বাদক দল, শোভাযাত্রা নিয়ে আসে তারা।

কোনো কোনো মিছিলের সামনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যদের অনুসারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ৭৬ শতাংশ ভোট আর এককভাবে ২৫৭ ও জোটগতভাবে ২৮৮ আসন নিয়ে তারাই সংসদের চালকের আসনে। রাজনীতিতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ¦ী বিএনপির জোট ঐক্যফ্রন্টের ভোট সাড়ে ১৩ শতাংশ আর আসন আটটি মাত্র। সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনেও নেই তারা, সেখানে বসতে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি।  তাই ক্ষমতাসীন দলে উচ্ছ্বাসও ব্যাপক।

সমাবেশে আসা নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সাজে নিজেদের উপস্থাপন করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অস্ত্র হাতে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সেজে সমাবেশস্থলের আশপাশে ঘোরাঘুরি করেন। তাদের ঘিরে সমাবেশে আশা কর্মী সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেক নিজেদের মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন। ইঞ্জিনচালিত যানবহনে দলীয় প্রতীক নৌকা তুলে সড়কও প্রদক্ষিণ করেন। পিকআপ ভ্যানে করে সাউন্ডবক্স লাগিয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- প্রচার করা হয় এবং দলীয় বিভিন্ন গান বাজানো হয়।

বেলা ১২টার মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার ঢল নামে। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীরা উদ্যানের আশপাশের সড়কগুলোতে অবস্থান নেন। দুপুর থেকে মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলতে থাকে। গান পরিবেশন করেন দেশ বরেণ্য শিল্পীবৃন্দ। তাদের অন্যতম ছিলেন রফিকুল আলম, ফাহমিদা নবী, জানে আলম, মমতাজ, আঁখি আলমগীর, সালমা, জলের গানের শিল্পী, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী থিম সং ‘জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা’ গানের শিল্পীরাও গান পরিবেশন করেন।

দেশবাসী যে বিপুল সমর্থন দিয়েছে এর মর্যাদা রাখবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর জন্য তিনি নিজের জীবন দিয়ে হলেও চেষ্টা করবেন। ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নয়, দেশের জন্য কাজ করে যাবেন বলেও জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা।
এরই মধ্যে টানা তৃতীয়বার ও বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমি আমার জীবনকে দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছি। ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া আমার নেই। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েও এই দেশকে গড়ে তুলব। ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ব।’

যে আশা নিয়ে জনগণ রায় দিয়েছে, সেই আশা পূরণ হবে বলেও জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ বারবার আমাকে সুযোগ দিয়েছে সেবা করার জন্য। জাতির পিতা স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন, আজ সে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। এই উন্নয়নশীল দেশ থেকেই বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। আগামীতে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েই দেশ সেবা করে যাচ্ছি এবং করে যাব।  এটাই হচ্ছে আমাদের প্রতিজ্ঞা, এ দেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলব।’
গ্রামে শহরের সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকারণ পূরণ হওয়ার নিশ্চয়তাও দেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে, প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে সরকার।

ট্যাগ: bdnewshour24 প্রধানমন্ত্রী