banglanewspaper

‘ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো আমাদের দলই টানা তৃতীয়বারের মত নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে। এ জন্য সবার আগে আমি দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ তারা আমাকে ও আমার দলকে ভোট দিয়েছে। এবার টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করলেও ১৯৯৬ সালে আমি প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১। যখন থেকে আমরা সরকার গঠন করি তারপর জনগণের উপলব্ধি হয়, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখন একমাত্র তারাই জনগণের জন্য কাজ করে।’

রোববার (২০ জানুয়ারি) ভারতীয় গণমাধ্যম সিএনএননিউজ১৮ টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটি সিএনএননিউজ১৮ টেলিভিশনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রচার করা হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে টানা তৃতীয় মেয়াদের জন্য সরকার গঠন করেছে। নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধীপক্ষ ঢালাও অভিযোগ ও সমালোচনা করে আসছে। সাক্ষাৎকারে তাদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা।

সরকারের সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এখন বিএনপির সঙ্গে আছে। তারা মিলে জোট করেছে। যদিও জামায়াত নিয়ে আদালতে রায় আছে। জামায়াত বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত নয়, তারপরও বিএনপি তাদেরকে পার্টনার হিসেবে বেছে নিয়ে নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। অবশ্য নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওইসব আসনে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই যারা আমাদের (সরকারের) সমালোচনা করছে, তাদের এটাও বোঝা উচিত যে; নির্বাচনের সময় বিরোধীরা কী করেছে?’

শেখ হাসিনা বলেন, শুধু তাই নয় নির্বাচনের সময় তারা (বিএনপি) সতর্ক ও সক্রিয় ছিল না, কিন্তু কেন সেটা জানি না? অবশ্য বিএনপির জন্য নেতৃত্ব একটা বড় সমস্যা। কেননা যারা আদালতে দোষী, পলাতক তারা যখন কোনো দলের নেতৃত্বে থাকে তখন কেন দেশের জনগণ সেই দলকে ভোট দেবে?

নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, যখন এখানে নির্বাচন হয় তখন কী পরিস্থিতি থাকে। আমি এতটুকু বলতে পারি, এবারের নির্বাচনের পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ। হ্যাঁ, কিছু জায়গায় গোলমাল হয়েছে। তবে আমরা চাই না এ ধরনের ঘটনা ঘটুক। কিন্তু সেগুলোও করেছে বিরোধীপক্ষরা। তারা আমাদের দলের লোকদের আক্রমণ করেছে। তারপরও মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ভোট দিয়েছে। এমনকি নারীরা প্রথমবারের ব্যাপকহারে বেরিয়ে এসে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। যারা সমালোচনা করছে তারা এটা করবে। কিন্তু তাদের এটাও দেখানো উচিত কী খারাপ হয়েছে? তাহলে ভবিষ্যতে আমরা আরও সতর্ক হব। কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষ নির্বাচনে জিতলে কে তাদের প্রধানমন্ত্রী হবে, সেটাই ঠিক করতে পারেনি। শুধু তাই নয়, নমিনেশন নিয়ে তারা বাণিজ্য করেছে। টাকার বিনিময়ে তারা এমন খারাপ কাজ করেছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটা দল; যা জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকার অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দল বাংলাদেশের মানুষকে সংগঠিত করেছিল এবং আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করি।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমালোচনা একটা স্বাভাবিক বিষয়। আমাদের দেশের গণমাধ্যম স্বাধীন। যেকেউ যেকোনো কিছু বলতে পারে, আলোচনা করতে পারে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আছে, তারাও সমালোচনা করতে পারে। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা কী সেটা তাদের বোঝা উচিত। আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। আমরা অনেক নির্বাচন করেছি অতীতে। ২০০১ সালের নির্বাচন পরিস্থিতি ও ফলাফল যদি আপনি দেখতে চান, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের সঙ্গে যদি এবারের নির্বাচন তুলনা করেন তারপর আপনারা বুঝতে পারবেন। তাই যারা সমালোচনা করছেন নির্বাচন নিয়ে তাদের এ দেশের নির্বাচনের ইতিহাস আগে জানতে হবে।

উপমহাদেশের মানুষকে ক্ষমতাসীন সরকার বিরোধী মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার সম্পর্কে খুবই সচেতন। যদি আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনো ভুল করতাম তাহলে মানুষ অবশ্যই আমাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতো না। এ কারণে গত নির্বাচনে বাংলাদেশে ‘এন্টি ইনকাম্বেন্সি’ (ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে থাকা মনোভাব) কাজ করেনি। আমরা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছিলাম, যা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

ট্যাগ: bdnewshour24 প্রধানমন্ত্রী