banglanewspaper

‘মানুষের বৃদ্ধা হওয়াটাই যেন সবচেয়ে বড় অপরাধ! ঘর-সংসার, ছেলেমেয়ে সব থাকার পরও আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। যখন যেখানে পাচ্ছি, কিছু চেয়ে খাচ্ছি। এত কষ্ট বৃদ্ধা বয়সে সহ্য করা যায় না।’

কাতর কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নাটোরের সিংড়া থানার ভেতরে ইটের বেঞ্চে বসা ৭৫ বছরের বৃদ্ধা আছিয়া বেগম রেখা। স্বামী আখের আলী মন্ডলের মৃত্যুর অল্পদিনের মধ্যে ছোট ছেলে ও তার স্ত্রী বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন উপজেলার হাতীয়ান্দহ ইউনিয়নের সাঔল গ্রামের এই বিধবা মাকে। এখন জীবনের শেষ দিনগুলো স্বামীর ভিটায়ই কাটানোর আকুতি নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন তিনি।

বৃদ্ধা রেখার অভিযোগ, ‘প্রায় তিন মাস হলো স্বামী মারা গেছেন। এরপর থেকেই ছেলে, বউ, নাতি-নাতনি কেউ স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেবাড়িতে রাখতে চায় না। ১০-১২ দিন আগে স্বামীর ঘর থেকে বের করে দিয়েছে ছোট ছেলে নাজমুল ও ছেলের বউ আমেনা বেগম। তারা বলেছে, আর যেন ওই বাড়িতে ফিরে না যাই।’

‘বৃদ্ধা বয়সে আমার শেষ ইচ্ছে, যতদিন বেঁচে থাকি, স্বামীর ভিটে আঁকড়ে থাকতে চাই। সে ইচ্ছে বুঝি ছোট বউয়ের সইছে না।’

‘জীবনের এই শেষ সময়ে আমার স্বামীর ভিটেতে একটু আশ্রয় করে দেও না’- যাকে সামনে পাচ্ছেন, তার কাছেই আকুতি জানিয়ে কান্নাকাটি করছেন অসহায় এই মা।

আছিয়া বেগম রেখার নাতি থানার আগলাড়ুয়া গ্রামের রহমত আলী বলেন, ‘দাদিকে আমাদের বাড়িতে রাখতে চাই। কিন্তু তার শেষ ইচ্ছে, যে কয়দিন বেঁচে থাকেন, স্বামীর রেখে যাওয়া ঘরেই যেন তার ঠাঁই হয়। কেউ কি নেই? তার এই শেষ ইচ্ছেটুকু পূরণ করবেন?’

খবর পেয়ে সিংড়া থানার উপ-পরিদর্শক আহসান হাবিব ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নাটোর জেলা শাখার নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম থানায় ছুটে যান। পরে কান্না থামিয়ে সান্তনা দেন ওই বৃদ্ধাকে।

অভিযুক্ত ছেলে নাজমুলের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার মেয়ে স্বপ্না খাতুন উল্টাপাল্টা ভাষায় কথা বলেন।

হাতীয়ান্দহ ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ওই বাড়ির মালিক আখের আলী মন্ডলের মৃত্যুতে বসতভিটা নিয়ে সমস্যা হয়েছে।

সিংড়া থানার ওসি (তদন্ত) নেয়ামুল আলম বলেন, ‘বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া অমানবিক বিষয়। ওই বৃদ্ধার ছেলে ও ছেলের বউকে থানায় দেখা করতে খবর পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্যাগ: bdnewshour24 বৃদ্ধা মা পুত্রবধূ