banglanewspaper

মনির হোসেন জীবন, নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর বেতন বেশি। মাস শেষে তাই স্ত্রীর বেতনের অংশ দাবি করে স্বামী। আর স্ত্রী তার বেতনের টাকা স্বামীকে দিতে নারাজ। এ নিয়ে প্রায় সময়ই তাদের মধ্যে বাঁধে ঝগড়া। অতঃপর বেতনের টাকা না দেওয়ার কলহের জেরে স্ত্রীর হাতে খুন হয় স্বামী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।

গাজীপুরের চাঞ্চল্যকর ছয় টুকরো লাশের উদ্ধারের ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। 

আজ শনিবার দুপুরে গাজীপুর এসপি কার্যালয়ে জেলার শ্রীপুরের গিলারচালা মাষ্টারবাড়ি এলাকা থেকে গতকাল শুক্রবার উদ্ধার হওয়া ছয় টুকরো লাশের বিষয়ে পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এসময় আটককৃত জীবন্নাহার স্ব-শরীরে উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, নিহত রফিকুল ও জীবন্নাহার শ্রীপুর পৌরসভার গিলারচালা এলাকায় আব্দুল হাইয়ের ভাড়া বাসায় থাকতেন। রফিকুল স্থানীয় ‘হাউ আর ইউ’ নামে একটি টেক্সটাইল কারখানায় লোডার পদে কাজ করতো। আর জীবন্নাহার একই এলাকায় মেঘনা নিট কম্পোজিট কারখানায় সুইং অপারেটর পদে কাজ করতো।

রফিকুল মাস শেষে বেতন পেতেন সাত হাজার টাকা আর জীবন্নাহার পেত ১৩ হাজার টাকা। ফলে রফিকুল তার স্ত্রীর জীবন্নাহারের বেতনের টাকা তার কাছে দিতে বলতেন। কিন্তু জীবন্নাহার তার বেতনের টাকা তার মায়ের কাছে রাখতো। আর এ নিয়ে রফিকুল ও জীবন্নাহারের প্রায়ই কলহ হতো।

এরই ধারাবাহিকতায় গত (বৃহস্পতিবার, ২৪ই জানুয়ারি) সকালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে জীবন্নাহারকে চড়-থাপ্পড় মারে রফিকুল। পরে সে খাটে শুয়ে থাকে। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই জীবন্নাহার ইট দিয়ে রফিকুলের মাথায় আঘাত করলে রফিকুল খাট থেকে নিচে পড়ে যাত। এসময় জীবন্নাহার উপর্যুপরি আরও আঘাত করলে রফিকুল অচেতন হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে গামছা দিয়ে রফিকুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘরের ওয়ার্ডড্রবে লাশ লুকিয়ে রেখে জীবন্নাহার কারখানায় চলে যান। সেখান থেকে ফিরে পাশের বাসায় বোনের ঘরে রাতের খাবার খান। রাত ১১টার দিকে লাশ ওয়ার্ডড্রব থেকে বের করে বঁটি দিয়ে প্রথমে দুই হাত কুনই থেকে, দুই পা হাঁটু থেকে এবং ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। পরে পা দুটি অদূরে টয়লেটের পাশে, মাথা আর হাত দুটি নর্দমায় এবং দেহ বস্তায় ভরে পাশের বাঁশঝাড়ে ফেলে দেন।

সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে জীবন্নাহার বিভিন্ন সময় নির্যাতিত হওয়ার কথা জানান।

বিগত পাঁচ বছর আগে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার উলামাকান্দি এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষমপুর গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে জীবন্নাহারের। তাদের ঘরে মারিয়া আক্তার রোজা নামের চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। সে বেশির ভাগ সময় তার নানির কাছে থাকে। ঘটনার দিনও সে বাসায় ছিল না।

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় রফিকুলের বাবা লতিফ বাদী হয়ে জীবন্নাহারকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জীবন্নাহারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল (শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারী) গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার গিলারচালা মাষ্টারবাড়ি এলাকা থেকে মস্তকবিহীন রফিকুল ইসলামের ছয় টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পরপরই নিহতের স্ত্রী জীবন্নাহারকে আটক করে পুলিশ। 

ট্যাগ: bdnewshour24 গাজীপুর